শাহীনশাহ,টেকনাফ :
টেকনাফে ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ বাজারে মসলা জাতীয় পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। তবে গত বছরে মিয়ানমার থেকে আমদানি হলেও এ বছর কোন মসল¬া জাতীয় পন্য আমদানি হয়নি। টেকনাফ উপরের বাজার ও বাস স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এক এক দোকানে এক একের দাম। তবে বলা চলে মজুদদারী ব্যবসায়ী সবচেয়ে বাজার স্থিতিশীলে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃস্টি করছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মসলা জাতীয় পণ্যের আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের এ ব্যাপারে বাজার স্থিতিশীল মনিটরিং কমিটির কথা বিশেষ ভাবে আলোকপাত করলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এটিএম মুর্তজা রেজা চৌধুরী জোর গলায় বললে ও তা মানা হচ্ছে না। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পিঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ ও গরম মসলার সরবরাহ তা টেকনাফে মূল্য অস্থিতিশীল। মজুদদারী ব্যবসায়ী টেকনাফ বাজারের বাস ষ্টেশনের কাসেম সওঃ,এশিয়া ষ্টোর, দি চিটাগাং ষ্টোর,গফুর সওঃ,ছোটহাজী মার্কেটের আমিন ষ্টোর, লামারের গফুর সওঃ, লামার বাজারের নেজাম সওঃ, উপরের বাজারের অনুপ পাল, বাবুল ষ্টোর,সিরাজ সওঃ,কালা সওঃ,মোঃ আলী ষ্টোর,সেলিম ষ্টোর, নুরু সওঃ, ভাই ভাই ষ্টোর,তপন পাল, এসব মজুদদারী ব্যবসায়ী উচ্চ মূল্য অধিক দামে বিক্রি করছে। য়ার কোন মূল্যে তালিকা টাঙ্গানো হয়নি। এবার কোরবানি ঈদে মসলা বাজার ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এই বছর দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরণের মসলা। তবে পেঁয়াজও নিয়ে কিছুটা অস্থিরতা রয়েছে বাজারে। দাম বাড়েনি রসুন, আদা, শুকনা মরিচ ও হলুদের। বরং গত বছরের চেয়ে এই কোরবানি ঈদে এলাচি, লং, গোল মরিচ ও চিকন জিরার দাম অর্ধেক বেড়েছে। ক্রেতারা বাজার মূখী হলেও সব ধরণের মসলার দাম স্থিতিশীল অবস্থায় বিক্রি হবে বলে ব্যবসায়িরা মন্তব্য করেন। কোরবানে মসলার ব্যাপক চাহিদা থাকায় এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ি বাজারে ভেজার মসলার সরবরাহ করতে পারে বলে অনেক ব্যবসায়িদের ধারণা। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে গুদামে মজুদ করা ও নষ্ট মসলা বাজারে ছড়িয়ে দিতে পারে অসাধু ব্যবসায়িরা। ব্যবসায়িদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আসন্ন কোরবানি ঈদে সব ধরণের মসলার দাম স্বতি রয়েছে। খিছুতা জিনিসের তাম অগ্রিম বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজে বিক্রি হচ্ছে ৬২/৬৫ টাকায়। গত দশ দিন আগে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৭৫/৮০ টাকায়। দশ দিন ব্যবধানে কিছুটা দাম কমে এখন সর্বোচ্চ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। তবে আগামীতে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ব্যবসায়িদের মাঝে দেখা দিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। বাজারে পেঁয়াজের সংকট রয়েছে। চাহিদা মত পেঁয়াজের সরবরাহ নেই। ছোট ও নষ্ট পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বাজারে। প্রতিকেজি চাইনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকায়, চাইনা আদা ১২০ টাকা, দেশি শুকনা মরিচ ১৮০ টাকা, ইন্ডিয়ান শুকনা মরিচ ১১৫ টাকা, হলুদ ৭৫ টাকা ও প্রতিকেজি ধনিয়া বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা ধরে। খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ৮২ থেকে ৮৫ টাকা ও বোতল জাত ৫ লিটার রূপচাঁদা বিক্রি হচ্ছে ৬শ’ টাকায়। গত বছরের চেয়ে বেশি দামে এলাচি বিক্রি হচ্ছে । তবে পেঁয়াজের বাজার নিয়ে ব্যবসায়িরা শংকিত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ নেই। বাজারে যা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ নষ্ট ও ছোট সাইজের। যে কোন সময় পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করতে পারে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ক্রেতারা বাজারমূখী হলেও সব ধরণের মসলার দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে তিনি জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন ব্যবসায়ি জানান, কোরবানি ঈদে মসলার ব্যাপক চাহিদা থাকায় এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ি বাজারে ভেজাল মসলা সরবরাহ করে থাকে। অল্প দামে বাজারে ভেজাল মসলার বিস্তার ঘটাতে ইতিমধ্যে তারা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়িকে হাত করে তারা ভেজাল ও নষ্ট মসলার বিস্তার ঘটায়। বেশির ভাগ ভেজাল মসলা পাড়া/মহল¬া ও গ্রাম-গঞ্জে সরবরাহ করে থাকে। এসব মসল্লা জাতীয় পন্য বিক্রিতে প্রতি কেজি হিসাবে ধনিয়া ৯৫ টাকা, চিকন জিরা ৫৮০ টাকা,মিষ্টি জিরা ২২০ টাকা,ডালচিনি ৩০০টাকা,এলাচি ২০০০টাকা,লং ২০০০টাকা, গোলমরিচ ১৬০০টাকা, সরিষা ২০০ টাকা,তিল ২০০টাকা,মরিচ ২২০টাকা,রসুন ১২০টাকা,হলুদ ১২০টাকা, পিয়াজ ৬০টাকা দামে বিক্রি করছে। মসলা জাতীয় পণ্যের আমদানিকারক, পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এ ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে বাজারে চাহিদা মোতাবেক পর্যাপ্ত পরিমাণে এসব মসলা জাতীয় পণ্যের মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে। এগুলোর দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে এ সকল পণ্যের সরবরাহ কমানো হবে না এবং দামও বাড়ানো হবে না বলে ব্যবসায়ীরা মুখে জানালে ও তা মানচ্ছেনা। এ সকল মসলা জাতীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য যাতে কোনো কারণে অস্বাভাবিক না হয় সে জন্য ব্যবসায়ী ও সংশি¬ষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হলেও মানা হচ্ছেনা।

