নিজস্ব প্রতিবেদক::ঢাকা: সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে মঙ্গলবার রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করবেন সাংবাদিকরা। সরকারকে দেয়া এক সপ্তাহের আলটিমেটাম শেষে এ কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছেন তারা। সাংবাদিক দম্পতি হত্যার বিচার দাবিতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীসহ সারা দেশে আন্দোলন করছেন সাংবাদিকরা। বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সব সংগঠন এক হয়ে রাজধানীতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নেতারা এক সভায় সিদ্ধান্ত নেন ৮ অক্টোবর বিক্ষোভ সমাবেশের। বেলা ১১টায় সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ শুরু হবে। তার আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ডিআরইউতে এক সভায় সরকারের প্রতি এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছিলেন সাংবাদিক নেতারা। সেখানে ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের পদত্যাগেরও দাবি ওঠে। ওই সভায় সাগরের মা সালেহা মনির বলেন, মৃত্যুর আগে হলেও সাগর-রুনি হত্যার বিচার দেখে যেতে চান। একই সভায় রুনির মা নুরুন নাহার মির্জা বলেন, অন্তত নিহতদের একমাত্র সন্তান মেঘের কান্না থামানোর জন্য হলেও যেন এ খুনের বিচার করা হয়। ২০১২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি। পরদিন সকালে ওই বাসা থেকে পুলিশ তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। সাগর সরওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ও মেহেরুন রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। ওই দিনই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতারের ঘোষণা দেন। একই বছরের ১৮ এপ্রিল আদালতে হাজির হয়ে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা রবিউল আলম জানান, তারা তদন্তে অগ্রগতি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সেদিন তদন্তের দায়িত্ব র্যা বকে (র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরের বেশি সময় শেষ হলেও অগ্রগতির খবর জানাতে পারেনি এই অভিজাত বাহিনী। এ মামলায় রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমানসহ আটজন আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন। অপর সাতজন হলেন, সাগর-রুনি যে বাড়িতে থাকতেন ওই বাড়ির দারোয়ান পলাশ রুদ্র পাল, বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন ও আবু সাঈদ।

