†W· wi‡cv©U:
ঢাকা ও কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৩ ভিআইপিসহ প্রায়
সাড়ে ১৫ হাজার বন্দি আনন্দে ঈদ উদযাপন করবেন। এদের মধ্যে কারাগারে অবস্থানরত
হলমার্ক, ডেসটিনি ও সোনালী ব্যাংকের
৫ কোটিপতিও থাকবেন। কারা কর্তৃপক্ষ তাদের উন্নত মানের বিশেষ খাবার সরবরাহ করবেন। ইতোমধ্যে বন্দির স্বজনরা সাক্ষাতের
সঙ্গে নতুন কাপড়-চোপর ও ব্যবহারিক
সামগ্রী দিচ্ছেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে
তিনটি এবং কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে দু’টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে কারা সূত্রে জানা গেছে।
কারা সূত্র মতে, জামায়াতের নেতা গোলাম আযমসহ শীর্ষ স্থানীয় ১৩ ভিআইপি এবার কারাগারে
ঈদ উদযাপন করেছেন। এরা হচ্ছেন, গোলাম আযম ছাড়া মাওলানা দেলাওয়ার
হোসাইন সাঈদী, এটিএম আজহারুল ইসলাম, মাওলানা আবদুস সোবহান, দিগন্ত টেলিভিশনের কর্মকর্তা
মীর কাশেম আলী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, আবদুল কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আবদুস সালাম পিন্টু, নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু
ও লুৎফুজ্জামান বাবর। এরা সকলেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার, গাজীপুর জেলা কারাগার ও নারায়ণগঞ্জ
জেলা কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে এই ভিআইপি বন্দিরা সুস্থ এবং ভালো আছেন। ঈদকে সামনে রেখে কারাগারে এদের
সঙ্গে স্বজনরা সাক্ষাৎ করেছেন। স্বজনরা তাদেরকে শুকনো খাবার, নতুন কাপড়সহ ব্যবহারিক সামগ্রী পাঠিয়েছেন।
এছাড়া ডেসটিনি ও হলমার্কের কোটিপতি ৪ কর্মকর্তা এবার
ঈদ করেছেন কারাগারে। এরা হচ্ছেন, ডেসটিনির কর্মকর্তা রফিকুল আমীন, মোহাম্মদ হোসেন। এছাড়া হলমার্কের ব্যবস্থাপনা
পরিচালক তানভীর মাহমুদ ও জিএম তুষার আহমেদ। পাশাপাশি একই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত সোনালী ব্যাংক রুপসী বাংলা
শাখার ডিজিএম আজিজুল ইসলামসহ আরও ৫ কর্মকর্তা কারাগারে ঈদ উদযাপন করবেন।
কারা সূত্র মতে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মনিহার সেলের পাশে মাল্টিপারপাস সেডে
৩টি জামাতে ঈদের নামাজ পড়বেন বন্দিরা। ঈদের নামাজে ইমামতি করবেন কারা ব্যারাক জামে মসজিদের কারী ইসমাঈল
হোসেন। ঈদের দিনে ঢাকা,
কাসিমপুর এবং নারায়ণগঞ্জসহ
অন্যান্য বিভাগীয় কারাগারে বিশেষ খাবার হিসেবে বন্দিরা সকালের নাস্তায় সেমাই ও মুড়ি, দুপুরের খাবারে ভালো মানের
চালের সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছ এবং রাতে
পোলাও, গরুর মাংস এবং পান-সুপারি, মিষ্টি ও ঠান্ডা পানীয় (মজো)
খেতে পারবেন। কম বরাদ্ধে ভর্তুকি দিয়ে উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারাসূত্র আরো জানায়, ঈদের দিন থেকে পর গত ৩ দিন
কারাগারে বন্দি সাক্ষাতের ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন কিছুটা শিথিল থাকবে। এই দিনগুলোতে দর্শনার্থীরা
তাদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি বাইরে থেকে রান্না করা খাবার দিতে পারবেন। তবে বিশেষ নিরাপত্তার কারণে
আটক ফাঁসির আসামি এবং জঙ্গিদের সেলের বাইরে নেয়া হবে না। সরবরাহকৃত সকল পণ্য এবং খাবার
চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষার পর তাদের সেলে দেয়া হবে। তারা সেলে বসেই ঈদের নামাজ
আদায় করবেন। স্বজনদের কারাগারের ভেতরে সেলের সামনে নিয়ে সাক্ষাৎ পর্ব সম্পন্ন করা হবে বলে জানায়
কারা কর্তৃপক্ষ।
