Advertisement

মহেশখালীর সোনাদিয়া-মাতারবাড়ী-ধলঘাটা-হোয়ানকে প্যারাবন নিধন করে চিংড়িঘের তৈরী

হারুনর রশিদ: মহেশখালীকক্সবাজারের উপকুলীয় দ্বীপ মহেশখালীর সোনাদিয়ায় মাবারবাড়ী,ধলঘাটা,কালারমারছাড়া ও হোয়ানকে প্রভাবশীলীদের থাবায় প্যারাবন কেটে ফের চিংড়িঘের তৈরী করার অভিযোগ উটেছে।  ভুমিদস্যু কর্তৃক সরকারী সৃজিত ৬,শত একর ভূমির প্যারাবন নিধন
করে তৈরী করা অবৈধ চিংড়ি ঘের উচেছদ করার পর ভুমি দস্যূরা সম্প্রতি পুনরায় উক্ত অবৈধ চিংড়ী ঘের তৈরী কাজ শুরু করে দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বন বিভাগের লোকজনের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী কর্তৃক ভুমি দস্যূরা প্রতিদিন প্রায় ১০০/১৫০ শ্রমিক নিয়ে বিরতিহীনভাবে উচ্ছেদ করা ১৩ টি চিংড়ী ঘের পুনরায় নিমার্ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ভূমি দস্যূদের কাছে বন বিভাগ অসহায় বলে মনে করছে এলাকাবাসী।
জানা যায়, সোনাদিয়া দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকার বনবিভাগের ১৪শ’একর সরকারী বনভূমির প্যারাবন নিধণ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র ২১টি অবৈধ  চিংড়ি ঘের তৈরী করে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে এসব ভুমি দস্যুদের দখল থেকে বিতাড়িত করে ১৩টি চিংড়ি ঘের উচ্ছেদ করে ৮০০ হেক্টর ভূমি  উদ্ধার করে বন বিভাগের আওতায় নিয়ে আসে। পরে সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্ত কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে এখানকার অনেক ঘের পুর্নদখল করে এলাকার কিছু বিতর্কিত ব্যাক্তি তাতে পুনরায়  চিংড়ি চাষ অব্যাহত রাখে। এদিকে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর দেশের বহু প্রতিক্ষিত একমাত্র গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মানের জন্য চুড়ান্ত  স্থান হিসাবে এই সোনাদিয়া এলাকাটিকে নিবাচর্ন করা হলে এখানকার এই অবৈধ চিংড়ী ঘেরের বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় চলে আসে। সরকারের উপর মহলেও এনিয়ে বেশ আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। সম্প্রতি গভীর সমুদ্র বন্দর সংক্রান্ত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এসব চিংড়ী ঘের উচ্ছেদের ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত হলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এসব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার চুড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহন করেন। অবশেষে এক পর্যায়ে গত ৬ নভেম্বর জেলা প্রশাসন,র‌্যাব,বনবিভাগ,উপজেলা প্রশাসন পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃংখলা বাহিনী উপস্থিতিতে ২শ’ শ্রমিক নিয়ে  একটানা তিনদিন পর্যন্ত অবৈধ দখলদারদের চিংড়ীঘেরের বাধঁ কেটে দিয়ে ৫০ কোটি টাকা মুল্যর ৬১০ একর ভূমি উদ্ধার করে বন বিভাগের নিকট হস্তান্তর করে । বন বিভাগের তালিকায় ১৩ জন অবৈধ দখলদার থাকলেও প্রকৃত পক্ষে অবৈধ দখলদার অর্ধশতাধিক রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
 সুত্রে জানা যায় ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫’ এর আওতায় ১৯৯৯ সনে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সোনাদিয়া দ্বীপ ও এর পার্শ্ববর্তী ঘটিভাংগা মৌজাকে ঊপড়ষড়মরপধষষু ঈৎরঃরপধষ অৎবধ-ঊঈঅ (প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা-ইসিএ) ঘোষনা করে। ইসিএ-র জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য  পরিবেশ অধিদপ্তর ও এর সহযোগী সংস্থা নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম) ও সুখী বাংলা ফাউন্ডেশন (এসবিএফ) মাঠ পর্যায়ে কর্মরত আছে। প্রকল্পের মাধ্যমে সোনাদিয়া দ্বীপের ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ ও সৃজন, বাঁলিয়াড়ির উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও সৃজন, সামুদ্রিক কাছিম সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভরশিীল দরিদ্র ও হত দরিদ্র মানুষ নিয়ে দল গঠন ও তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান এবং বিভিন্ন সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে উপকুলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করছে।
 মাতারবাড়ী,ধলঘাটা ,কালারমারছাড়া হোয়ানক এলাকায় ও ব্যাপক হারে প্যারাবন নিধন করে চিংড়ি ঘেরতৈরি করেছলেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।

Post a Comment

0 Comments