ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা কথা দিয়েছিলাম বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। আজ বাংলাদেশ ডিজিটাল। ১৯৯৬ সাল ক্ষমতায় এসে আমরা মানুষের হাতে মোবাইল দিয়েছিলাম। এবার ক্ষমতায় আসার পরে পরে আমরা মানুষের হাতে হাতে ল্যাপটপ দিয়েছি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতা গ্রহণের পরে এমন কোন সেক্টর নেই সেখানে আপনারা বলতে পারবেন, আমরা উন্নয়ন করিনি। এরই ধারাবাহিকতা কুড়িল ফ্লাইওভার। কিছুর সময় আগে বালু ব্রিজ উদ্ধোধন করেছি। এটাও মানুষের দীর্ঘ দিনের চাওয়া।’
কুড়িল ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ফ্লাইওভারের কাজ সময় মতো শেষ করার জন্যে আমি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই। এতে যদি কোন ধরনের দুর্নীতি থাকতো তাহলো এতো তাড়াতাড়ি এই নির্মাণ কাজ শেষ হতো না। এই ফ্লাইওভারটিকে বলা হয় ঢাকার নতুন গেটওয়ে। মাত্র ৩৮ মাসের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শেষ করা সহজসাধ্য কাজ নয়। আমি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’
এ সময় রাজধানীতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতা গ্রহণের পরে রাজধানীর অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছি। আমরা মিরপুর ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছি। যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজও অল্প কিছু দিনের মধ্যে শেষ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা দরকার। আমি জানি না দেশের মানুষ আবার সেই অন্ধকারে ফিরে যাবে কিনা? দেশের মানুষ যদি আবার অন্ধকারে ফিরে যায় তাহলে আমার বলার কিছুই নেই। তবে আমি দেশবাসীকে এ বিষয়ে সতর্ক করতে চাই।’
বর্তমান সরকারের সময়ে সকল নির্বাচন সুষ্ঠ হয়েছে আবারও দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভোট চুরি করি না। আমাদের সময়ে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে সকল নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। আমরা জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি। জনগণ যাকে ভোট দিবে সেই জয়ী হবে। আমরা তাকেই মেনে নেব।’
এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের আশা ছিল বিগত বছরের তুলনায় ছাত্রছাত্রীদের রেজাল্ট এ বছর আরও ভালো হবে। কিন্তু এবার এইচএসসি পরীক্ষার দিনগুলোতে বিএনপি-জামায়াত-শিবির হরতাল দিয়েছে। এতে বাচ্চাদের পড়াশোনার ব্যাপক বিঘ্ন হয়েছে। আমাদের টার্গেট ছিল রেজাল্ট আরও ভালো হবে। কিন্তু তা পূরণ করতে পারিনি। তবে ৭৪ শতাংশ পাস কম কথা নয়। অতীতে কোন সরকারই এটা করতে পারেনি, আমরাই এটা করেছি।’
দেশে লোডশেডিং হবার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজেই বলেছিলাম প্রতি দিন দুই ঘণ্টা করে লোডশেডিং দিতে। তা না হলে মানুষ ভুলে যাবে দেশে লোডশেডিং ছিল। দেশে বর্মমানে লোডশেডিং হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। তবে কিছু কিছু জায়গায় কেউ কেউ ইচ্ছে করে নামাজ, ইফতার ও সেহরির সময় লোডশেডিং করে। এরকম ঘটনায় কোথাও হলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানাবেন।’
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে উপস্থিত সবাইকে পবিত্র রমজানের মোবারকবাদ ও আসন্ন ঈদুল ফিতরের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজউক চেয়ারম্যান নুরুল হুদা কুড়িল ফ্লইওভার প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এর পরে প্রকল্পের পাওয়ার পয়েন্ট তুলে ধরেন ড. মাজহারুল ইসলাম।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সংদস সদস্য এ কে এম রহমতউল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবাহান চৌধুরী প্রমুখ।
- See more at: http://www.bengalinews24.com/national-&-special-news/2013/08/04/13703#sthash.5NeJKoLD.dpuf


0 Comments