ঢাকা: এ দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের বেকার সমস্যা এতটাই জটিল হয়ে পরেছে যে, তারা কর্মসংস্থানের অভাবে বিপথে চলে যাচ্ছে । বেকারত্বের জ্বালায় কেউ নেশা করছে, কেউ ছিনতাই করছে আবার কেউ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরছে । যুব সমাজ হলো এ দেশের ভবিষ্যৎ, যুব সমাজ নষ্ট হয়ে গেলে এ দেশের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে । তাই যুব সমাজকে রক্ষা করতে হলে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, তাদেরকে কাজ দিতে হবে- যাতে তারা সুস্থ্যভাবে জীবন-যাপন করতে পারে ।
সরকার বা বিরোধী দল কেউ যুব সমাজের বেকার সমস্যা নিয়ে কথা বলছে না, যুব সমাজের কিভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে- সে ব্যাপারে কেউ মুখ খুলছে না । চাকুরী দেয়ার ক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন কোটার নামে বিভক্তি সৃষ্টি করে রেখেছে, যেমন- মুক্তিযোদ্ধা কোটা, মহিলা কোটা, উপজাতীয় কোটা এবং আনসার কোটা ইত্যাদি । দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন কোটার কারণে সাধারণ যুবকদের চাকুরী হচ্ছে না ।
সরকার মুক্তিযোদ্ধা কোটাকে সবচেয়ে বেশি গুরত্ব দিচ্ছে- তাই মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে-মেয়ে ও নাতী-নাতনীদের জন্য সবচেয়ে বড় কোটা রেখেছে ৩০% । যারা মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট যোগাড় করতে পেছেছে- তাদের ছেলে-মেয়েদের চাকুরীর ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হয়না । অথচ স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও সঠিকভাবে মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত হয়নি অথবা সঠিকভাবে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তৈরি হয়নি । এ দেশে রাজাকার-আলবদর বাদে বাকী সবাই কোন না কোন ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে । কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে, কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার ও রসদ যোগান দিয়ে, কেউ অস্ত্র বহন করে, কেউ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের সংবাদ যোগাড় করে আবার কেউ অস্ত্র হাতে মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে । তাই রাজাকার-আলবদর বাদে সবাই মুক্তিযোদ্ধা ।
কিন্তু আজ পর্যন্ত রাজাকার-আলবদরদের তালিকা তৈরি হয়নি । রাজাকার-আলবদরদের তালিকা তৈরি না করার পিছনে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে- আর তা হলো রাজাকার-আলবদর বাদে এ দেশের সবাই মুক্তিযোদ্ধা । যদি রাজাকার-আলবদরদের তালিকা তৈরি হতো তাহলে তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাগণ বিশেষ সুবিধা নিতে পারতো না । মেয়েরা আজ সর্বক্ষেত্রেই পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে গেছে-কোন কোন ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে বেশী এগিয়ে গেছে- যেমন এ দেশের প্রধান মন্ত্রী মহিলা, বিরধী দলীয় নেত্রী মহিলা, জাতীয় সংসদের স্পিকার মহিলা, পররাষ্ট্র মন্ত্রী মহিলা, কৃষি মন্ত্রী মহিলা । তাই ধরে নেয়া যায় মহিলারা এ দেশ শাসন করছে । এমতাবস্থায় বলা যায় মহিলয়াদের কোটা সংরক্ষণ করে অপমান করা হচ্ছে, মহিলাদের প্রতি দয়া দেখানো হচ্ছে। মহিলাগণ পুরুষদের চেয়ে কোন অংশেই কম নয় । তাই মহিলা কোটার প্রয়োজন নেই ।
বর্তমানে নিয়োগ বাণিজ্যের রমরমা অবস্থা । মোটা অংকের ঘুষ না দিলে চাকুরী হয়না । আবার মন্ত্রী, এমপি, রাজনৈতিক নেতা এবং বড় বড় আমলাদের টেলিফোন চাকুরী পাবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে । তাই এমন একটি ব্যবস্থা থাকতে হবে- যাদের আত্মীয়/পরিচিত মন্ত্রী, এমপি, রাজনৈতিক নেতা বা বড় পদের আমলা নেই তারাও যেন চাকুরী পায় । নিয়োগ বাণিজ্য যাতে কেউ করতে না পারে । সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পোষ্য কোটা রয়েছে । তেমনিভাবে সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের- বিশেষ করে যাদের বয়স ৫৫ বছর পূর্ণ হয়েছে অথচ তাদের উপযুক্ত সন্তানের চাকুরী হয়নি তাঁদের জন্য পোষ্য কোটার ব্যবস্থা করলে বেকার সমস্যার অনেকটা সমাধান হবে এবং এতে ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, নিয়োগ বাণিজ্যের কিছুটা হলেও অবসান ঘটবে- এতে কোন সন্ধেহ নেই । তাছাড়া সমনের নির্বচনে বিষয়টি যদি কোন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী অঙ্গীকারে থাকে তাতেও নির্বাচনী ফলাফলে একটা প্রভাব পরবে- সেটা নিঃসন্ধেহে বলা যায় ।


0 Comments