Advertisement

সবকিছুতে বিশাক্ত কেমিক্যাল: ইফতারিতে কী খাচ্ছি


ঢাকা: সারাদিনের রোজা শেষে ইফতারে যা খাচ্ছেন তা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত তা নিয়ে পুষ্টিবিদদের পাশাপাশি সংশয়ে রয়েছেন খোদ রোজাদাররাও। রোজার মাসে খাদ্যদূষণ আরও প্রকট আকার ধারণ করে।
ইফতারের অন্যতম উপাদান খেজুর, আঙ্গুর ও দুধে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত কেমিক্যাল ফরমালিন। মৌসুমি ফল পাকাতে রং ও কেমিক্যালের ব্যবহার হচ্ছে দেদার। ইফতারির আইটেম পিয়াজু, বেগুনি, চপ প্রভৃতিতে ফুড গ্রেডের রং ব্যবহার না করে ডাইং রং ব্যবহার করা হচ্ছে। যা খেলে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। অসাধু কিছু ব্যবসায়ী ইতোমধ্যেই খোরমার সঙ্গে খেজুর, ভালো মানের ছোলার সঙ্গে পোকাধরা ছোলা মিশিয়ে বিক্রি করছে। মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হাইড্রোজ মিশিয়ে কালচে বর্ণের কম দামি ছোলা উজ্জ্বল করা হয়। বেশিরভাগ বোতলজাত ফলের শরবতে (ফ্রুট ড্রিংকস্) রং ও ফ্লেভার ছাড়া কিছুই নেই।


বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইফতারিতে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। আর ইফতারিতে টাটকা ফল এবং ফলের শরবত শরীরের জন্য উপকারী। কিন্তু এ ফল কিনতে গিয়ে হাজারো সমস্যায় পড়ছে ক্রেতারা। একে তো ফরমালিনের ভয়, অন্যদিকে দামও চড়া। একেক দোকানে একেক দাম। কোথাও মেলে না একদামের ফল। দেশি ও বিদেশি সব ধরনের ফলেরই দাম এবার বেশি বলে জানালেন দোকানিরা।


রাজধানীর বিভিন্ন ফলের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিক্রেতারা নাজিয়া, ফরিদা, মরিয়ম, বরই, ইন্দোনেশিয়ান খেজুরের নাম ধরে হাঁকডাক করে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিনতে গেলে উচ্চ দামের জন্য দর কষাকষি করেন দোকানিরা। কিন্তু রোজায় ইফতারে ফল চাই-ই চাই বলে বাধ্য হয়ে কিনছে ক্রেতারা।


অফিস শেষে বাসায় যাবার পথে বায়তুল মোকারমে ফল কিনতে আসা জাহিদুল হক বলেন, যা খাই তার সবেতেই ভেজাল। ভেজালের সমারোহে সতেজ খাবার খুঁজে পাওয়াই দুরূহ হয়ে পড়েছে। আমরা ক্রেতারা অসহায়। বাধ্য হয়েই দাম দিয়ে ভেজাল খাবার কিনতে হচ্ছে। সরকারের উচিত এদিকে আরও বিশেষ দৃষ্টি দেয়া আর ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. খুরশীদ জাহান বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা কাঁচা ফল পাকানোর জন্য ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করছে। এই কেমিক্যাল ব্যবহারের মাধ্যমে অসময়ে অপরিপক্ব ফল পাকিয়ে বাজারে আনা হচ্ছে। ক্রেতারা না বুঝেই এসব ফল কিনে খাচ্ছে। এ কারণে বিভিন্ন রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।


তিনি বলেন, রমজান এলেই বাজারে দেখা যায় বাঙ্গি, পেঁপে, কলা, ফুটি, আনারস, বেল প্রভৃতি পাকানোর জন্য এই বিষাক্ত ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করা হচ্ছে। কেমিক্যাল মিশ্রিত এই ফল খেয়ে মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম, গলা জ্বলাসহ নানান রকম উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
- See more at: http://www.bengalinews24.com/lifestyle,health-&-treatment/2013/07/12/10499#sthash.9fb7CvVI.dpuf

Post a Comment

0 Comments