Advertisement

টেকনাফে বন্য হাতির আক্রমণে ২ জন আহত : ১০ বসতবাড়ি বিধ্বস্থ

তাহেরা আক্তার মিলি, টেকনাফ
টেকনাফে বন্যহাতি গ্রামে ঢুকে বসতবাড়ি,কলাগাছ কাঁঠাল,ঘেরা-বেড়া ও সামাজিক বনায়নের উপর তান্ডব চালিয়েছে। দুমড়ে মুষড়ে করে দিয়েছে গ্রামের সাজানো সবকিছুকে। গত বেশ কয়েকদিন যাবৎ একটি বন্যহাতির পাল গভীর রাতে রঙ্গীখালীর লামার পাড়া,স্কুল
পাড়া,মাদ্্রাসা পাড়া,জুম্মা পাড়া,গাজী পাড়া,উত্তর আলীখালী,উত্তর নয়াপাড়া ও কয়েকটি সামাজিক বনায়নের গাছ-গাছালী বসতবাড়ি,ঘেরা-বেড়া বিনষ্ট হয়ে গেছে। ইউনিয়নের রঙ্গীখালী এলাকার স্কুল পাড়ার বাসিন্দা অছিউর রহমানের পুত্র ইয়াকুবের (৫০) বাড়িতে সোমবার আক্রমণ চালায় হাতির পাল। রাত তখন আনুমানিক দু’টা। অন্যদিনের মত এ দিন রাত ন’টার দিকে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন দিন মজুর ইয়াকুব। ততক্ষণে ঘুমে বিভোর ইয়াকুব। রাত গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। কিসের একটা অজানা এক ভয়ংকর শব্দে ভেঙ্গে গেল ইয়াকুবের ঘুম। দুরে কোথাও যেন দুমড়ে মুষড়ে ফেলছে কোন এক দানব। কিংকর্তব্য বিমোঢ় ইয়াক্বু। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই দরজা দিয়ে মাটির দেয়ালে ধাক্কা। ভগ্ন দেয়ালের একটি বড় অংশ পড়ে সোজা ইয়াকুবের মাথায়। রক্তাক্ত হয়ে যায় ইয়াকুব। এসময় দেয়ালের ভাঙ্গা ফাঁক দিয়ে একটি বিশাল আকৃতির হাতি চলে যেতে দেখে ইয়াকুবের বড় মেয়ে। হাতির আক্রমণে বাড়ির মাটির দেয়াল ভেঙ্গে ঘুমে থাকা ইয়াকুবের গায়ে পড়লে ইয়াকুব গুরুতর আহত হন। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হ্নীলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার মাথায় ও কোমরে আঘাত লাগে বলে জানান ডাক্তার। একই দিন রাতে জুম্মা পাড়া গ্রামের অপর এক বাড়িতে হাতির আক্রমণে আরেকটি বসত বাড়ি বিধ্বস্থ হয়। এসময় হাতির আক্রমণে সাবেক মেম্বার দিলদার আহমদের পুত্র মোঃ হাসান (২৪) গুরুতর আহত হন। এছাড়াও হাতির আক্রমণে রঙ্গীখালী নয়াপাড়া গ্রামের জাফর আলমের বাড়ির ছাল,উত্তর আলীখালী গ্রামের নুরুল কবির ও ছৈয়দ আলমের বাড়ির দেয়াল ও জুম্মা পাড়া গ্রামের জকির আহমদের বাড়ির দরজা ও দেয়াল বিধ্বস্থ হয় বলে জানায় স্থানীয়রা। ২ জুলাই সোমবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়-বিগত ৪/৫ দিন থেকে রঙ্গীখালীর লোকালয়ে বন্য হাতির আকস্মিক পদচারণা ও আক্রমণে জনমনে চরম আতংক বিরাজ করছে। রঙ্গীখালী এলাকার প্রায় দেড় হাজার পরিবারের অন্তত ৭ হাজার মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে বর্তমানে। ৪/৫ দিন ধরে প্রতিদিন রাতে হাতির আক্রমণে অন্তত ১০টি বসতবাড়ি,ক্ষেত-খামার,ফসলি জমি ও অসংখ্য গাছ-গাছালির ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে দাবী স্থানীয়দের। এ ব্যাপারে আতংকগ্রস্থ দেড় হাজার পরিবারের নিরাপত্তা ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সরকারী সাহায্য প্রদানের দাবী জানান হ্নীলা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার শফিক আহমদ,রঙ্গীখালী মহিলা মাদ্্রাসা কমিটির সদস্য মাওলানা ইব্রাহীম খলিল,রঙ্গীখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাস্টার নুরুল আলম আযাদ ও সমাজ সেবক শওকত আলী।

Post a Comment

0 Comments