Advertisement

কক্সবাজারের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর বেহাল দশা:স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেনা রোগীরা

ফরিদুল মোস্তফা খান
গ্রাম পর্যায়ে জনগণের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার দায়িত্ব থাকা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো স্থানীয় জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হলেও কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম দায়িত্ব অবহেলা, স্বেচ্ছাচারিতা, রোগীদের সাথে অসদাচারন ও সরকারি
ঔষধ দিতে টাকা নেওয়ার কারণে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সফলতার মুখ দেখছে না। মাসের পর মাস কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্বশীল কর্মচারীদের ধারাবাহিক অনুপস্থিতির ফলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এসব অভিযোগ করেন এবং তাদের যারা তদারকি কর্মকর্তা আছে উনাদেরও চরম দায়িত্ব অবহেলার কারণে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে জনগণ।
কক্সবাজার শহরের সিকদার পাড়া এলাকার বাসিন্দাদের কয়েক দফা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টায় সিকদার পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায় ক্লিনিকে মহিলা শিশুসহ রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০ জন। ভেতরের রুমের কমিউনিটি কেয়ার হেল্প প্রোপ্রাইটার মোস্তফা কামাল রোগী দেখছেন। ভেতরের রুমে গিয়ে আলাপকালে স্থানীয় পারভীন আক্তার বলেন, এখানে ৩ জন কর্মী থাকলেও ২ জন কোনদিন ক্লিনিকে আসে না। বর্তমানে আমি নিজেও গর্ভবতী তাই প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নিতে রবি, সোম, মঙ্গলবার ৩ দিন এসেও মহিলা কর্মীদের না পেয়ে দেখাতে না পেরে ফিরে যাচ্ছি। এসময় আয়েশা, ছকিনা সহ অনেক মহিলা অভিযোগ করে এই ক্লিনিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মী সুরভী পাল সবসময় অনুপস্থিত থাকে। শুধু মিটিং হলে বা অফিস থেকে কেউ আসলে সেদিন আসে। যার ফলে এলাকার মহিলারা স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে আলাপ করলে তারা বলে টাকা দিয়ে চাকরি নিয়েছি। এত কাজ করতে পারবো না। পারলে অভিযোগ করো গিয়ে। পরে ক্লিনিকের কর্মচারীদের উপস্থিতি স্বাক্ষর খাতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ৫ জুলাইর পর থেকে পরিবার-পরিকল্পনা কর্মী সুরভী পাল ধারাবাহিক অনুপস্থিত। আর স্বাস্থ্যকর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস ১১ জুলাই থেকে অনুপস্থিত। জুন মাসের হিসাবে দেখা যায় হাজিরা খাতায় ২ জনেরই সব দিন গেছে মাঠে আর বিভিন্ন সভায় অর্থাৎ ক্লিনিকের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। এসবের কারণে তীব্র ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। আর দায়িত্ব পালনকারী মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধেও আছে রোগী দেখে ঔষধ দিতে টাকা নেওয়ার অভিযোগ।
তাৎক্ষণিক ক্লিনিকে বসেই স্বাস্থ্যকর্মী জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আজকে উপজেলা অফিসে শোক সভা আছে। তাই ক্লিনিকে আসিনি। তাছাড়া আমার মাঠের এবং আনুষাঙ্গিক কাজ শেষ করে ক্লিনিকে আসি। তাছাড়া আমার দায়িত্ব ৩ দিন। বাইরে কোন কাজ না থাকলে আসি ।
পরিবার পরিকল্পনা কর্মী সুরভী পাল বলেন, আমার দায়িত্ব কাগজে কলমে ৩ দিন হলেও বাস্তবে ২ দিন। শনি ও সোমবার। সেই দিন আমি থাকার চেষ্টা করি। তবে মাঠে কাজ থাকলে আসতে পারি না। অফিসও জানে।
তবে স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ তারা ঘরে বসেই মাঠের নাম দিয়ে ক্লিনিকে আসে না। আর মাঠে কার বাড়ীতে কোন সময় গেছে আমাদের বলুক। আসলে সব ভূয়া ও মিথ্যা।
আলাপকালে ক্লিনিকের দায়িত্বশীল মোস্তফা কামাল বলেন, আজ এ পর্যন্ত ৪৪ জন রোগী হয়েছে। গতকাল ৭৭ জন। অর্থাৎ প্রতিদিন ৬০/৭০ জন রোগী হয়। আমি একার পক্ষে এতো রোগী দেখা অসম্ভব। তাই সবসময় জ্যাম হয়ে থাকে। আর বাকী ২ জন মহিলা কর্মী না থাকায় মহিলারা সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তাই মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছে।
আলাপকালে ক্লিনিক সুপারভাইজার উল্টো তার স্বাস্থ্যকর্মী অনুপস্থিত থাকার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে তাকে রক্ষার চেষ্টা করেন পরিমল শর্মা। তিনি বলেন, তাদের মাঠের কাজ শেষ করে সময় থাকলে আসবে। আসলে বিষয় ভিন্ন। মাস শেষে উক্ত স্বাস্থ্যকর্মীর বেতন থেকে একটি হিস্যা পায় ঐ পরিদর্শক। তাই এ অবস্থা। আর পরিবার-পরিকল্পনা কর্মীর ব্যাপারে অনুপস্থিতির বিষয় স্বীকার করে উনার ব্যাপারে  কিছু বলার নাই বলে জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ পুচনু বলেন, অনুপস্থিত সহ সব ধরণের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। একই সাথে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দীপক তালুকদার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এলাকার এনামুল হক, শামসুল আলম, ফেরদৌস সহ অনেকে বলেন, সরকার গ্রামাঞ্চলের জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম শুরু করলেও মূলতঃ এর সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের চরম দায়িত্ব অবহেলার কারণে কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম আলোর মুখ দেখছে না। আর আপনি সরজমিনে না দেখলে তা লিখলেও কোন কাজ হবে না। কারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সবাই এক।

Post a Comment

0 Comments