আমান ঊল্লাহ
পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনশীল রাখার সরকারী নির্দেশনা কেতাবে থাকলেও গোয়ালে নেই। এ রমজানে জেলার কোথাও গঠন করা হয়নি বাজার মনিটরিং সেল। এ পর্যন্ত মাঠে নামেনি ভ্রাম্যমান আদালত। পরিচালিত হয়নি রক্তচুষা ব্যবসায়ীদের শায়েস্তা করার অভিযান। এ সুযোগে বাজারে চলছে অসাধূ ব্যবসায়ীদের রামরাজত্ব।সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বিবেচনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য তালিকা টাঙানো এবং দাম সহনশীল পর্যায়ে রাখতে সরকার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি অতিরিক্ত মূল্য আদায়কারী ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তির কথাও ঘোষণা দেয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। এরপরেও জেলার কোনো হাট-বাজারে এ নির্দেশনার কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবেনা। এমনকি রমজান মাসেও নেই এ তালিকা। এ সুযোগে প্রায় দোকানদার মনগড়া দাম আদায় করছে। এতে করে ঠকছে সাধারণ ক্রেতারা।বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পবিত্র রমজান মাসেও প্রায় পণ্যে একেক দোকান একেক রকম মূল্য নিচ্ছে। এতে রয়েছে বিরাট মূল্য ফারাক। একই রকম পণ্যে কেজি প্রতি ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য দেখা গেছে। অথচ এর কোন সদুত্তর দিতে পারেনি এসব অসাধূ ব্যবসায়ীরা। এরপরও প্রশাসনিক দূর্বলতার সুযোগে ক্রেতাদের ঠকাচ্ছে রক্তচুষা এসব ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারাও বলছেন তাদের ভোগান্তির কথা।শহরের বড়বাজারের নিয়মিত ক্রেতা পাহাড়তলীর জিয়াউর রহমান জানান, বাজার মনিটরিং না থাকায় তাদেরকে ঠকানো হচ্ছে। বিশেষ করে এ রমজানে সরকারী নির্দেশনা কঠোর হলেও স্থানীয় প্রশাসনের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে অসাধূ ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।গত রোজার আগে ও পরে মূল্য তালিকা টাঙাতে প্রশাসন তৎপর ছিল। ফলে ওই সময় কিছু দোকানে এ তালিকার দেখা মেলে। তবে বর্তমানে মূল্য তালিকা দেখা যাচ্ছে না কোন দোকানে। ফলে যে যার মতো করে দাম আদায় করছে সাধারণ মানুষ থেকে।প্রসঙ্গত, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৩৮ নং ধারা অনুসারে দোকানে মূল্য তালিকা টাঙানো না হলে সর্বোচ্চ একবছর কারাদ- অথবা ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- অথবা উভয় দ-ে দ-িত করার বিধান রয়েছে।বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ছাড়াও মূল্য তালিকা টাঙানোর কড়া নির্দেশ রয়েছে সংসদীয় কমিটির। অথচ এ নির্দেশনা মানা হচ্ছেনা।

0 Comments