Advertisement

২০১৫ সালের মধ্যেই ভ্যাট কমে আসবে


ডেস্ক রিপোর্ট
২০১৫ সালের মধ্যে ভ্যাট আইন পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হবে। ফলে বর্তমানে আরোপিত ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমে আসবে। এমন তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তজার্তিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় মূল্য সংযোজন কর (মূসক) দিবস উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
ভ্যাটকে রাজস্ব আদায়ের দ্বিতীয় খাত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে ভ্যাট আইনে কিছু দুর্বলতা আছে। এ দুর্বলতা কাটাতে ২০১২ সালে ভ্যাট আইন পাস করা হয়। এটি ২০১৫ সালের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে আয়কর প্রথম হলেও দ্বিতীয় খাত হবে মূসক বা ভ্যাট। আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে ভ্যাট আদায় বৈষম্য দূর করা ছাড়াও হার কমবে বলে জানা যায়।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ৯১ সালে যখন ভ্যাট প্রথা চালু হয় তখন তথ্যপ্রযুক্তির (আইসিটি) তেমন বিকাশ হয়নি। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির কারণে ভ্যাট খাত অনেক সমৃদ্ধ হয়েছে। ভ্যাট ব্যবসায়ীদের সততার দিকে আকৃষ্ট ও ব্যবসা প্রসারে সহায়তা করে।
ভ্যাটকে সার্বজনীন প্রথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মূসক প্রদান অত্যন্ত সহজ প্রক্রিয়া। আগামী ছয় থেকে সাত বছরের মধ্যে ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পরিবর্তনের ফলে ভ্যাট আদায়ও বেড়ে যাবে।
সরকার যত দুষ্টই হোক না কেন, জনগণের কল্যাণে কাজ করে। ভ্যাট প্রদান করলে জনগণের কল্যাণে কাজ করা সহজ হবে। এ জন্য ব্যবসায়ী ছাড়াও সবাইকে ভ্যাট প্রদানে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ভ্যাট প্রদানে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী। ব্যাংক ঋণ ২০ শতাংশ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভ্যাট বৈষম্য ও আইনের দুবলর্তার কারণে ব্যবসায়ীরা ভ্যাট প্রদানে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন।
তিনি ভ্যাট সহনীয় হারে কমানো, ব্যবসা পরিবেশ সৃষ্টি ছাড়াও ভ্যাট আদায়ে আন্তরিক হতে এনবি আরকে আরো উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে এনবি আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন বলেন, দেশের অর্থনীতি ছাড়া বৈদেশিক সাহায্য দিয়ে রাষ্ট্র চলে না। বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের অর্থনীতির যে জিডিপি তা আসছে ছয় থেকে সাত বছরের মধ্যে ৮ থেকে ৯ শতাংশ হয়ে যাবে। 
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, এডিবি বাস্তবায়ন হলে আগামী অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। ভ্যাট আইন সংস্কার ও বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
পরে প্রধান অতিথি ২০১২ সালের জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৯টি এবং জেলা পর্যায়ে ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ মূসক প্রদানকারীর পুরস্কার প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে মূসক সপ্তাহ কমিটির আহ্বায়ক লুৎফর রহমান, এনবি আর সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) ফিরোজ শাহ আলম, সদস্য নাসির উদ্দিন, হোসাইন আহমেদসহ এফবিসিসিআই প্রতিনিধি, সারাদেশ থেকে আসা ব্যবসায়ী এবং রাজস্ব বোর্ড কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Post a Comment

0 Comments