ডেস্ক রিপোর্ট
একজন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর, অন্যজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে মনে করা হয় তাঁদের। সম্প্রতি রাজনৈতিক ইস্যুতে দেয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তারেক রহমান ও সজিব ওয়াজেদ জয় আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে উঠে এসেছেন। একদিনের ব্যবধানে দেয়া দুজনের বক্তব্যকে ঘিরেই এখন উত্তপ্ত রাজনীতির মঞ্চ। দ্য টাইমস
গত ২৩ জুন যুবলীগের ইফতার পার্টিতে
গিয়েছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে তথ্য আছে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে।’ জয় ২১ আগস্টের বোমা হামলার বিষয়ে অভিযোগ করে বলেন, ‘একুশে আগস্টের কথা আমরা ভুলিনি। আমার মা কে লক্ষ্য করে বোমা হামলা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের ২৩ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল, আহত হয়েছিলেন ৪০০ জন। আর এই হামলার মূল পরিকল্পনা করা হয়েছিল হাওয়া ভবনে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে নিজে আমার মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন।’
এর ঠিক একদিন পরই লন্ডনে একটি ইফতার পার্টিতে বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে প্রস্তুতি নিন।’ সেই সঙ্গে, আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী কী করবে তারও সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান।
ইতিপূর্বে দেশের রাজনীতিতে জয়ের সক্রিয় ভূমিকা চোখে পড়েনি। বরং বরাবরই রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন বঙ্গবন্ধুর নাতি। থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে আইটি সেক্টরে কাজ করেন। মাঝেমধ্যে দেশে আসেন? নীরবে এসে নীরবেই চলে যান। কিন্তু সম্প্রতি তার রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, রাজনীতিতে আসতে পারেন জয়। তার বক্তব্য যেন তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জয়ের বক্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দেশের মানুষ আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে এটা সবাই বিশ্বাস করেন? সেই বিশ্বাস থেকেই জয় এ কথা বলেছেন? কেউ ক্ষমতায় থাকলে বা ক্ষমতার বাইরে থাকলে তিনি আশা করতেই পারেন আবার ক্ষমতায় আসবেন।’
তবে জয় শিগগির রাজনীতিতে আসছেন কিনা জানতে চাইলে নাসিম বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয় একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান? তিনি রাজনীতিতে আসুক তা আমরা সবাই চাই? আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও চান তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হোন।’
জয়ের বক্তব্যকে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছে বিরোধীদল। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসতে চায়? জয়ের বক্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে? তবে বাংলাদেশের মাটিতে ষড়যন্ত্র করে কেউ পার পায়নি আর পাবেও না।
তারেক রহমানের বক্তব্য প্রসঙ্গে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘তারেক রহমান দেশের জন্য ভাবেন এবং কিছু করতে চান। তার বক্তব্যে সেই মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি গঠনমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তাছাড়া নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তো সকলের। তারেক রহমান সকলের দাবিকেই তুলে ধরেছেন।’
সাবেক ছাত্রনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, জয় তারেক রহমানকে নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন। তিনি বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের চেষ্টা করেছেন। তার এ বক্তব্য মানসিক বিকারগ্রস্ত ব্যক্তির বক্তব্যের সামিল। অবিলম্বের তার এ বক্তব্য প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, জয়কে এ কথা মনে রাখতে হবে তারেক রহমান শুধু বিএনপি চেয়ারপারসনের ছেলে নয়, তিনি দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী। আমরা সেই বিশ্বাসই নিজেদের মধ্যে ধারন করি।
১/১১-এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর রাজনীতিক, ব্যবসায়ীক এবং বিশিষ্টজনদের দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে যেতে হয়। তারেক রহমানও এ থেকে বাদ যাননি। কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বিএনপির অভিযোগ তারেক রহমানকে কারাগারে নির্যাতনের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ২০০৮ সালে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তারেক রহমান। তার পর থেকে গত পাঁচ বছরের বেশিসময় ধরে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সেখানেই আছেন তিনি। দীর্ঘদিন তিনি সেখানে কোনো রাজনৈতিক কর্মকা-ে প্রকাশ্যে অংশগ্রহণ কিংবা বক্তৃতা বিবৃতি দেননি। কিন্তু সম্প্রতি তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তার এ বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দেশে আলোচনার ঝড় উঠছে।


0 Comments