Advertisement

বিদেশি অর্থ ব্যয় হয় নাশকতা ও রোহিঙ্গা পূনর্বাসনের কাজে কাকারার হেফাজত নেতা মৌলভী শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে ত্রাণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


এম. রায়হান চৌধুরী, চকরিয়া
চকরিয়ায় কাকারার হেফাজত নেতা মৌলভী শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে ত্রাণের টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হেফাজতে ইসলাম চকরিয়া উপজেলার নায়েবে আমীর বলে জানা যায়।
এমনকি তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে জঙ্গি কানেকশানেরও অভিযোগ রয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাকারায় মৃত আশরাফ আলী প্রতিষ্ঠিত বিদেশী অর্থায়নে পরিচালিত কাকারা দারুল উলুম মহিউচ্ছুন্নাহ্ (কওমী) মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে মৌলভী শহিদুল্লাহ আশরাফি পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত আছে। সেই সুবাদে তিনি আরব রাষ্ট্রে গিয়ে চাঁদা উত্তোলন করতো মাদরাসার এতিম ছাত্রের ফান্ডের নামে। তবে যাদের ফান্ড তৈরির নামে চাঁদা সংগ্রহ করা হতো সেই বিভাগের (এতিমখানা) অস্থিত্বই নেই এ মাদরাসায়। এতিমখানার ব্যানারে বিভিন্ন সময় এভাবে ফান্ড তৈরির নামে চাঁদা সংগ্রহ করায় সৌদি আরবের বিভিন্ন দাতার সংস্থার সাথে তার সম্পর্ক গড়ে উঠে জোরে শোরে। এরই ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে মৌলভী শহিদুল্লাহ আশরাফির কাছে প্রতি মাস ও বাৎসরিকভাবে বিপুল অংকের অনুদান আসে আরব রাষ্ট্র থেকে। সূত্রমতে, ওই অর্থ সে একসময় হরকাতুল জিহাদ নামের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের জঙ্গি কর্মকান্ডেও ব্যয় করতো। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হতদরিদ্র ও গরীব অসহায়দের মাঝে ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করার জন্য প্রতি বছরের ন্যায় এবছর রমজানেও ৫০লক্ষ টাকার অনুদান আসে। গত ৫রমজান (১৫জুলাই) এগুলোর কিছু ত্রাণ স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে তার এলাকায় বিতরণ করে। এতে বঞ্চিত হয়েছে বহু হতদরিদ্ররা। ফলে গরীব অসহায়দের না দেয়া বিশাল একটি অংশ পকেটস্থ হয়েছে ওই মৌলভীর কাছে। অন্যদিকে ওই অর্থ মিয়ানমানের নাগরিক শরণার্থী শিবিরের বাইরে অবস্থানকারী দক্ষিণ চট্টগ্রামের রোহিঙ্গাদের পূনর্বাসনের জন্য তাদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ। অপর একটি সূত্রের দাবি, গত দু’একদিন আগেও রোহিঙ্গাদের ব্যাপক সহযোগিতা দিতে সৌদি আরব থেকে আরো ১কোটি টাকার ত্রাণের অনুদান হাতে পায় মৌলভী শহিদুল্লাহ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার বেশ কয়েকজন বলেন, এ ত্রাণগুলো গরীব মানুষের জন্য ব্যয় করে না, তার ব্যক্তিগতভাবে সরকার বিরোধী নানা কর্মসূচিতে প্রদান করে থাকে। ত্রাণ বিতরণকালে ওই মৌলভী অনেককে আওয়ামীলীগে ভোট দিলে তোদের (দরিদ্রদের) ত্রাণ দেয়া হবেনা বলেও হুমকি দেয়। সূত্রে আরো জানা যায়, সুচতুর হেফাজত নেতা মৌলভী শহিদুল্লাহ আশরাফি ত্রাণের টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মাদরাসা সংলগ্ন বিস্তির্ণ এলাকায় গড়ে তোলে বহুতল বিশিষ্ট বিলাসবহুল ভবন। সুসংহত করা হয় ওই ভবন থেকে সহিংস কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত সংগঠন হেফাজতে ইসলামের বিপদগামী নেতাকর্মীদের। তাদের দিয়ে বিভিন্ন সময় আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলতে মৌলভী শহিদুল্লাহ আশরাফির নেতৃত্বে কর্মী বাহিনীও পাঠানো হয়ে থাকে নানা স্থানে। তাছাড়া এসব বিদেশী অর্থ বিভিন্ন সময় সরকার বিরোধী নাশকতামূলক কর্মকান্ডে ব্যবহার করা হয়। শুধু তা নয় তার বিরুদ্ধে গত ৫মে রাজধানীতে অবরোধের নামে ব্যাপক সহিংসতা ও নাশকতা কর্মকান্ড সংগঠিত করতে হেফাজতে ইসলামের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করারও অভিযোগ রয়েছে। সচেতন মহল অনতিবিলম্বে ওই মৌলভীর দেশ ও সরকার বিরোধী অপতৎপরতা বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত মৌলভী শহিদুল্লাহ আশরাফির মুঠোফোন বন্ধ থাকায় সংযোগ পাওয়া যায়নি।

Post a Comment

0 Comments