Advertisement

রামুর গর্জনিয়ায় উদ্বেগ জনক হারে বেড়েছে মাদক বিক্রিঃ জুয়ার আসরও থেমে নেই



মোহাম্মদ ইউনুছ, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি
মাদকের করাল গ্রাস, এর আগ্রাসন কিছুতেই থামানো যাচ্ছেনা রামুর গর্জনিয়ায়। দেশব্যাপী এ মরণ নেশা থেক যুব সমাজ ও জাতীকে মুক্ত করতে সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। ভবিষ্যত জাতির সম্পদ যুব
সমাজ আগামী পৃথিবী গড়বে যারা, এরাই মূলত ধ্বংশ হচ্ছে এ মরণ নেশার ফাঁদে পড়ে। একবিংশ শতাব্দীর সভ্যতার শ্রেষ্ট যুগে মানুষ জন সম্পদে পরিপূর্ণ হবে। এ জন্য মাদককে নির্মূল করতে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বব্যপী মাদকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু হয়েছে। কিন্তু গর্জনিয়ায় এর বিস্তার থামছেনা। পাশাপাশি মদক বিক্রির স্পটের পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের টিলার উপর জুয়ার আসরও চলছে সমান তালে। গর্জনিয়ার রাজঘাট এখন মাদকের ঘাটি হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেছে। সহজ সরল এলাকাটি বর্তমানে মাদকাসক্তদের থাবায় এখন হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানকার মাদক বিক্রেতারা নিয়মিত দেশীয় তৈরি চোলাই মদ, গাজা ও হেরোইন সহ বিভিন্ন নেশাজাত দ্রব্য নিজ বাড়িতে এনে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। এ ব্যবসার সাথে স্থানীয় গুটিকয়েক মহিলা ও তাদের পারিবারিক পূরুষরা জড়িত। মূলত পূরুষরা মহিলাদের নিরাপদ মনে করে এ ব্যবসায ব্যবহার করছে। অল্প সময়ের মধ্যেই মাদক ব্যবসার জগতে মহিলা ডন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে রাজঘাটের শারিরীক প্রতিবন্ধী মোঃ কালুর স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার (৩২), কালুর ভাই নুরুল ইসলাম প্রকাশ পিন্টুর স্ত্রী শাহানুর বেগম(২৪) ও শাহানুর বেগমের বাবা নুরুছুলো (৫০)। খোজ নিয়ে জানা গেছে, মাদক ব্যবসায়ীরা মহিলাদের মাধ্যমে অত্যন্ত সুকৌশলে টেকনাফ ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে গাজা ও হেরোইন নিয়ে এসে এখনে ব্যবসা করছে। এদিকে উল্লেখিতদের বাসায় মাদক সেবনের পর স্থানীয় বক্তার আহামদের বাসায় ও পাশ্ববর্তী পাহাড়ের ঢালুতে বসে জুয়ার আসর। এ যেন স্বর্গ সুখের সন্ধানে নরক যাত্রা। গর্জনিয়ার একাধিক সচেতন মহল জানান, গর্জনিয়া ইউনিয়নের রাজঘাট এলাকাটি বিচ্ছিন্ন থাকলেও বর্তমানে সেখানে বেশ কয়েক পরিবারের ছেলে মেয়ে প্রাইমারি স্কুল, মাদ্রাসা ও হাই স্কুল সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে। কিন্তু মদকাসক্ত ও জুয়াড়ীদের অত্যাচারে এসব শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন হওয়ার পথে। অনেকের কাছ থেকে শোনা যাচ্ছে, বিকাল ৫টার পর থেকে এখানে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, যুব সমাজ সহ আগন্তুকদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। তারা সেখানে  মাদক সেবন, জুয়া সহ গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকে। গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কয়েকজন মেধাবী ছাত্রী  নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানান, তারা সীমাহীন নিরাপত্তহীনতার মাঝে দিনাতিপাত করছে। সন্ধ্যা হলেই তাদের মধ্যে এক অজানা আতংক ভর করে। ফলে লেখাপড়া চালিয়ে নিতে তাদের দূর্ভোগের শেষ নেই। এলাকার এমন পরিস্থিতির পরও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের ভূমিকাও রহস্য জনক ও প্রশ্নবিদ্ধ। প্রভাবশালী মহলের উন্ধনেই মূলতঃ এ ব্যবসা চলছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন। তা  না হলে মাদক ব্যবসায়ীরা এমন বেপরোয়া হওয়ার কখনও সুযোগ পেতনা। রাজঘাট এলাকার এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বার বার নিষেধ করার পরও তারা এসব বন্ধ না করে উল্টো হুমকি প্রদান করে। এ মাদক স্পটের অতি কাছে একটি মসজিদ রয়েছে। সেটার পবিত্রতার কথা পর্যন্ত তারা চিন্তা করেনা।
এ ব্যাপারে গর্জনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী জানান, মাদক ব্যবসায়ীদেরকে দমনের জন্য আইন শৃংখলা বাহিনীকে আরো কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে। এছাড়া মাদক ব্যবসা বন্ধে পরিষদের পক্ষ থেকেও প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। 
অন্যদিকে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির আই.সি এস আই শফিকুর রহমান বলেন, তিনি আসার পর থেকে এ সব মাদক স্পটে ২ বার অভিযান চালিয়ে ২জন মাদক সেবীকে হাতে নাতে আটক করা হয়। সেখানে দেখা গেছে মূলত মহিলারাই এ মদক ব্যবসার সথে বেশি জড়িত। ফলে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে কোন মহিলা সদস্য না থাকায় পুরুষ সদস্য দিয়ে মহিলাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো অনেকটা জঠিল। তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান। 
রামুর গর্জনিয়ায় মাদক ব্যবসার বিস্তার সম্পর্কে রামু থানা অফিসার ইনচার্জ (ও.সি) মোকসেদুল মোমেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

Post a Comment

0 Comments