মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া
কক্সবাজারের পেকুয়ায় জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এর অর্থায়নে ও এনজিও ব্র্যাকের কমিউনিকেশন ফর ডেভালপমেন্ট সি ফর ডি’র কার্যক্রমে বড় ধরণের অনিয়ম ও দূনীতির গুরুতর
অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের মধ্যে এ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সামাজিক আচার-আচারন পরিবর্তন, শিশুদের অধিকার সুনিশ্চিত, বাল্য বিবাহ রোধে গণ-সচেতনতা সৃষ্টি, জাতীয় শিশু নিবন্ধন দিবস পালনসহ আরো নানাবিধ কর্মসূচী।
অভিযোগ উঠেছে, এসব কর্মসূচী বাস্তবায়নের ইউনিসেফ থেকে লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও এ প্রকল্পের পেকুয়া উপজেলা ম্যানেজার হুমায়নের সাথে গোপণে আঁতাত করে সংশ্লিষ্টরা হাতিয়ে নিচ্ছেন বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ। আর সরকারী কোন সংস্থার তদারকী না থাকায় যেনতেন ভাবে ইউনিসেফের অর্থ লুটপাঠে মেতে উঠেছে ব্র্যাকের সি ফর ডি প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়রা ব্র্যাকের এ প্রকল্পে সরকারী নজরদারী বাড়ানোর জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, গত কয়েক দিন পূর্বে পেকুয়ায় জাতীয় জন্ম নিবন্ধন দিবস পালন উপলক্ষে ইউনিসেফ এর পক্ষ থেকে ওই প্রকল্পের মাধ্যমে এখনকার প্রতিটি ইউনিয়নে ২৭হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দ দেওয়া অর্থগুলো দিয়ে প্রতি ইউনিয়নের জন্ম নিবন্ধন দিবসের নানা উপকারীতে সম্পর্কে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কর্মসূচী পালনের জন্য নিয়ম থাকলেও সি ফর ডি এর পেকুয়া উপজেলা ম্যানেজর মো: হুমায়ণ কবির প্রতিি ইউনিয়নে দায়িত্বরত সুপারভাইজারদের কাছ থেকে ১০হাজার টাকা করে আগেভাগে নিয়ে নেন। আর বাকী ১৭ হাজার টাকা দিয়ে কর্মসূচী পালনের কথা থাকলেও সেখানও এ প্রকল্পের মাঠ কর্মীরা ৫-৬ হাজার করে খরচ করে নয় ছয় করে ইউনিসেফের অর্থ লুটপাট করেছেন। এসব অনিয়ম দূর্নীতির কারণে পেকুয়া উপজেলায় জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ এর এ মহৎ প্রকল্পের কার্যক্রম দারুণভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সি ফর ডি কার্যালয়টি এখন দূর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এমনই দাবী স্থানীয় সচেতন মহলের। জানা যায়, এ প্রকল্পের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর হিসাবে একজন ও প্রত্যক ইউনিয়নে ৩ জন করে সর্বমোট ২১জন সুপারভাইজার নিয়োগ দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু পেকুয়া এ প্রকল্প কাগজে-কলমে গেল বছরের অক্টোবরের ৮ তারিখ কার্যক্রম দেখালেও আনুষ্টানিক কাজ শুরু হয় চলতি বছরের জানুয়ারির দিকে। প্রতি ইউনিয়নে ৩ জন সুপারভাইজারের মাধ্যমে টি-ষ্টল বৈঠক, উঠান বৈঠক, শিশুদের মৌলিক আচরণ, বাল্য বিবাহ রোধে সচেতনতা, জন্ম নিয়ন্ত্রনে গৃহবধুদের সচেতনা সৃষ্টি, এএনসি সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি, ফটোচেসনসহ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সাধারণ শিশু ও জনগনের জন্য ভাতা হিসাবে ইউনিসেফ উপজেলা কো-অর্ডিনেটর এর মাধ্যমে প্রতি সুপারভাইজারকে প্রতিদিন ২০০ টাকা, মাসিক বৈঠক পরিচালনার জন্য প্রতি ওয়ার্ডে ৪ হাজার ৬শ টাকা, শিশুদের প্রতি কুইজ প্রতিযোগিতার জন্য ২ হাজার ৫শ টাকা, প্রতি ত্রি-মাসিক বৈঠক এর জন্য ২ হাজার ৪শ টাকা, বৈঠকে ফটোশসেন করার জন্য ২শ ৫০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত কয়েক দিন পূর্বে পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়ন সদর, শীলখালী, রাজাখালী, বারবাকিয়া, টইটং, মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নে কর্মরত ওই প্রকল্পের মাঠ কর্মীরা জন্ম নিবন্ধন দিবসে র্যালি ও নাম মাত্র কিছু কার্যক্রম করে ভূয়া বিল ভাইচর জমা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করলেও এ নিয়ে ইউনিসেফের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই। আর ইউনিসেফের এ প্রকল্প সম্পর্ক জানেনা পেকুয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নের কালার পাড়ার আবু আহমেদ, বৃদ্ধা জমিলা খাতুন, আবদুল মজিদ, করিয়াদিয়ার মোনাফ, গৃহকর্মী সালেহাসহ আরো অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ব্র্যাকের সি ফর ডি এর কার্যক্রম যে তাদের এলাকায় চলমান রয়েয়ে সেটি তারা জানেনা। তাদের মতে পেকুয়ার আরো বহু গ্রামের সাধারন ও নি¤œশ্রেণীর মানুষ ব্র্যাকের এ প্রকল্প সম্পর্কে জানেনা। অথচ সাধারান মানুষকে বিভিন্ন সচেতনতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা করাসহ নানাবিধ বিষয়ে অবগত করার কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্যই এনজিও ব্র্যাকের সাথে জাতিসংঘের শিশু তহবিল চুক্তি সম্পাদন করেছে। সে মোতাবেক পেকুয়ায় ব্র্যাকের সি ফর ডি প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা সাধারাণ মানুষদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম না চালিয়ে বিদেশী ফান্ডের অর্থ লুটপাটে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। পেকুয়া উপজেলার অনেক সচেতন মানুষ অভিযোগ করেছেন, ব্র্যাকের সি ফর ডি এর পেকুয়ার ম্যানেজর হুমায়ন কবির জেলা উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশেই প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ অর্থ নয় ছয় করে দায়সারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এসব অভিযোগে ব্যাপারে জানতে ব্র্যাক সি ফর ডি কর্মসূচীর পেকুয়া উপজেলা ম্যানেজর মো: হুমায়ন কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পেকুয়ার সাত ইউনিয়নে তাদের প্রকল্পে কোন প্রকার অনিয়ম ও দূর্নীতি হচ্ছেনা বলে দাবী করেছেন। তিনি আরো বলেন, সি ফর ডি‘র আওতায় গৃহীত কর্মসূচীগুলো সুন্দর ও সচ্ছভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে।

0 Comments