Advertisement

টেকনাফে বিজিবি ৪২ ব্যাটালিয়নের ১১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

মোঃ  আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ
টেকনাফে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ৪২ ব্যাটালিয়নের ১১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন ও   নবগঠিত কক্সবাজার সেক্টরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে মাদক বিনষ্ট, বৃক্ষরোপন, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটা ও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। এতে বিজিবি কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল নজরুল ইসলাম, বিজিবি ৪২ ব্যাটালিয়ন পরিচালক লে.কর্ণেল জাহিদ হাসান, বিজিবি ১৭ ব্যাটালিয়ন পরিচালক লে.কর্ণেল খালিদ হাসান, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোজাহিদ উদ্দিন, বিজিবি ৪২ ব্যাটালিয়ন অতিরিক্ত পরিচালক মেজর মোঃ শফিকুর রহমান, অপস অফিসার ক্যাপ্টেন কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী দপ্তরের ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমক কর্মী, ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিজিবি ৪২ ব্যাটালিয়ন কর্মকর্তা ও জওয়ানরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় কর্ণেল নজরুল ইসলাম বলেন, এ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে স্থানান্তরিত কক্সবাজার সেক্টরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো এবং তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এ সেক্টর গঠনের মধ্য দিয়ে সীমান্তে বিজিবি কার্যক্রম আরো জোরদার ও মিয়ানমারের সাথে সীমান্ত সম্পর্ক আরো সুসংহত হবে ।
ব্যাটালিয়ন পরিচালক লে. কর্ণেল জাহিদ হাসান জানান, ২০০২ সালের ১ জুলাই খুলনায় এ ব্যাটালিয়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়ে, ২০০৮ সালের ৮ মার্চ এ ব্যাটালিয়ন টেকনাফে আগমন করে। এর আগে বিজিবি সেক্টর কমান্ডার সীমান্তে বিভিন্ন সময়ে জব্দকৃত মাদকদ্রব্য বিনষ্টকরন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। পরে সোয়া পনেরো লক্ষ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার মদ, বিয়ার, ইয়াবা, গাঁজা বিনষ্ট করা হয়।  সেক্টর কমান্ডারের উপস্থিতিতে ১৫ লাখ ১৪ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের ধ্বংস করা হয়েছে । তার মধ্যে ১১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪০০টাকা মূল্যের ৩ হাজার ৯৪৮পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৭ হাজার টাকা মূল্যের ২কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা, ৩০ হাজার ৬০০টাকা মূল্যের ১০২ লিটার বাংলা মদ, ৮৪ হাজার ৯০০টাকা মূল্যের ২৮৩ ক্যান আন্দামান গোল্ড বিয়ার, ১লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১২০ বোতল ম্যান্ডেলা রাম মদ, ৮ হাজার টাকা মূল্যের ১৬ ক্যান ডায়াবল বিয়ার। এছাড়া ৬৩ লাখ ৬ হাজার ৪০০টাকা মূল্যের ১৪ প্রকারের মাদক বাংলাদেশ পর্যটন কর্রপোরেশনের নিকট হস্তান্তরের জন্য নির্ধারিত রাখা হয়েছে। তম্মধ্যে রয়েছে- ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ৩০০টাকা মূল্যের ১০ হাজার ৮১১ ক্যান আন্দামান গোল্ড বিয়ার, ১৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ১১ বোতল হাইক্লাস হুইস্কি মদ, ১৫ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের ৫১ ক্যান ক্লাসিক বিয়ার, ১লাখ ৯ হাজার ৫০০টাকা মূল্যের ৭৩ বোতল হিরো হুইস্কি মদ, ১০লাখ ৫০হাজার টাকা মূল্যের ৭০০ বোতল ম্যান্ডেলী রাম মদ, ২৮ হাজার ৮০০টাকা মূল্যের ৯৬ ক্যান মিয়ারমার বিয়ার, ২ লাখ ৫০ হাজার মূল্যের ৫০০ ক্যান ডায়াবল বিয়ার, ৬ লাখ ৬হাজার টাকা মূল্যের ৪০৪ বোতল গোল্ডেন কান্ট্রি ড্রাইজিন মদ, ৪ লাখ ৯৮ হাজার মূল্যের ৩৩২ বোতল কান্ট্রি ড্রাইজিন মদ, ৩ হাজার টাকা মূল্যের ১০ ক্যান আরকা বিয়ার, ৫৪ হাজার টাকা মূল্যের ৩৬ বোতল লন্ডন রাম মদ, ১ লাখ ২৪ হ্জাার ৫০০ টাকা মূল্যের ৮৩ বোতল গ্রান্ড মাষ্টার মদ, ৩৩ হাজার টাকা মূল্যের ২২ বোতল ড্রাগন রাম মদ, ২ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০টাকা মূল্যের ১৮৩ বোতল মিয়ানমার মদ। এদিকে ভারপ্রাপ্ত অপস্ অফিসার উপ-পরিচালক ক্যাপ্টেন এইচ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত প্রেস বিঞ্জপ্তিতে বলা হয়- ১ জুলাই ২০০২ খুলনায় আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ৪২ ব্যাটালিয়ানের প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এরপর খুলনায় সন্ত্রাস দমন অভিযান “অপারেশন স্পাইডার ওয়েব”  অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কর্তব্য দায়িত্ব পালন এবং চোরাচালান প্রতিরোধে গৌরব উজ্জল ভূমিকা রাখেন। ১১ মার্চ ২০০৮ টেকনাফে দায়িত্বভার গ্রহণ করা হয়। বিগত ১ বছরে পরিসংখ্যানে বলা হয়- ১ জুলাই ১২ থেকে ৩০ জুন ২০১৩ ইং পর্যন্ত বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকালে ৩ হাজার ৩১৬ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটক, তম্মধ্যে ৩ হাজার ৩০৬ জনকে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদান পূর্বক মিয়ানমারকে ফেরত, ১০জনকে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। তাছাড়া গত এক বছরে ২৩ কোটি ৭৮ লাখ ৪৯ হাজার ৬৮০ টাকা মূল্যের মালামাল আটক ও ১ হাজার ৩৫৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ২৩৫ জন আসামী আটক ও ২১২জন আসামী পলাতক রয়েছে। বিগত এক বছরে ৭টি অবৈধ অস্ত্র, ৫টি তাজা কার্তুজ, ৬টি খালি খোসা উদ্ধার করে। ইয়াবা ও মাদকদ্রব্য আটককের মধ্যে রয়েছে- ১৪ কোটি ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬৩৩ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট। ৩৭ হাজার ৩২৪ বোতল মদ, ২১৮ বোতল ফেনন্সিডিল, ১হাজার ৫৫৯ লিটার খোলা মদ, ৬৫ কেজি গাঁজা, ২০৮ কেজি পপি, যার মূল্য ১কোটি ৮৬ লাখ ৪৪ হাজার ১৭০ টাকা। ৭ কোটি ৪১ লাখ ১৫ হাজার ৬১০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল আটক করা হয়েছে। অবৈধভাবে মালয়েশিয়া আদম পাচার ও দালাল আটকের পরিসংখ্যানে বলা হয়- গত এক বছরে বিজিবি বাদী হয়ে ২৩টি মামলা দায়ের করেছে। আটককৃত যাত্রীর সংখ্যা ১৭৩ জন, ধৃত দালাল ৮ জন, পলাতক ৯১ জন, আটককৃত ট্রলারের সংখ্যা ছিল ২টি।

Post a Comment

0 Comments