ফারজানা বাশার
দেশের উপকূল অঞ্চলে ট্রলারডুবিসহ অনাকাংক্ষিত নানা ঘটনায় প্রাণ হারচ্ছেন অনেকেই। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা থেকে যাচ্ছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আইন
শৃংখলারক্ষাবাহিনীর মতে, দোষীদের দৃষ্টাšত্মমূলক শা¯িত্ম না হওয়ায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে এ ধরনের ঘটনা।
সর্বশেষ গত সোমবার কক্সবাজারের কলাতলী থেকে ট্রলারযোগে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় সেন্টমার্টিনের পশ্চিম উপকূলে ২২০ জনকে আটক করে কোস্টগার্ড। তাদের অধিকাংশরই বাড়ি নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাতক্ষীরায়। ভাগ্য উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়ে স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় এসব অসহায় দরিদ্র মানুষকে কক্সবাজারে নিয়ে আসে একটি দালালচক্র।
আটককৃত কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করা হলে, তারা বলেন, আজকে নিবে, কালকে নিবে করে এভাবে তিন-চারদিন আমাদের রাখছে, রাখার পর আমরা অনেক লোক অসুস্থ হয়ে গেছি, ২২০ জন লোক ছিল। এভাবে আমাদের ঢাকাতে নিয়ে আসার পরে অন্য দালালের কাছে পাঁচার করে দিয়ে এইভাবে আমাদেরকে নদীপাড়ে নিয়ে আসবে সেটা আমরা জানি না। এক সপ্তাহ না খেয়ে মরতেছি। দুই লাখ টাকা বাজেট হইছে, ভাইয়ের নাম ফারুক, আমরা হের বাড়ি-ঘর চিনি না, ফোনে আলাপ হইছে হের সাথে। মোবাইল-টোবাইল কিচ্ছু নাই, নাম্বার আছিল মোবাইলে, মোবাইল লয়ে গেছে আমরার সবার থেকে।
সরকারী হিসেবে গত এক বছরে সমুদ্রপথে বিদেশে যাওয়ার সময়ই ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে ৩টি। এইসব দুর্ঘটনার পর ২৫জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঐ সময়েই বিভিন্ন ঘটনায় প্রায় ২হাজার জনকে জীবিত উদ্ধার এবং আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন দু’শরও বেশি মানুষ। সমুদ্রপথে মানব পাঁচার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন যারা, সেই আদমব্যাপারি ও দালালচক্রের সদস্যরা অধিকাংশ সময়েই সুকৌশলে থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অদৃশ্য থেকে যোগাযোগ করায় তাদের সম্পর্কে বি¯ত্মারিত তথ্য দিতে পারেন না ভুক্তভোগীরা।
৪২ বর্ডারগার্ড ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক, লে. জাহিদ হাসান বলেন, ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে সত্যি কথা বলছেন না ভিকটিমরা। যে কারণে দালালরা হাতে নাতে আটক হওয়া সত্যেও মামলাগুলো অনেক হালকা হয়ে যাচ্ছে। অতএব আসামিদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারকজ যথাযথভাবে হচ্ছে না, এই চক্রটা বরাবরই সক্রিয় থাকছে।
দোষীদের গ্রেপ্তারে পুলিশী তৎপরতা অব্যহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

0 Comments