মসজিদের টাকা আত্মসাৎ ও জঙ্গী সম্পৃক্ততার অভিযোগ
এম.রায়হান চৌধুরী
মালয়েশিয়া আদম পাচারকারী দলের সদস্য চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীর বার্মাইয়া হাছু‘র বিরুদ্ধে জঙ্গী সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনেছেন এলাকাবাসি। ইতি মধ্যে জেলার বেশ ক‘টি পত্রিকায় বার্মাইয়া হাছুর
মালয়েশিয়া আদম পাচারের চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশিত হলে স্থানিয়রা তার বিরুদ্ধে মসজিদের টাকা (পৃষ্ঠা >২, কলাম >৩)
চকরিয়ায় আদম বেপারি
আত্মসাৎসহ জঙ্গী সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ধরেন এ প্রতিবেদকের কাছে। এদিকে পত্রিকায় ঐ দালালের সংবাদ প্রকাশের পর সে এলাকা থেকে গা ঢাকা দেয়। এলাকাবাসিরা জানান, হাছু অশিক্ষিত হলেও অত্যন্ত র্ধূত প্রকৃতির লোক। তার তিলিশমায় পড়ে এ পর্যন্ত এলাকার অনেক লোক পথে বসেছেন। যে সকল লোকদের মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে গভির সাগরে বোটে তুলে দিয়েছেন তাদের কোন খবরা-খবর পাচ্ছেননা পরিবারের লোকজন। এদিকে এ সুযোগে বার্মাইয়া হাছু এসকল পরিবারে রাত হলে তার বিচরণ শুরু হয়। সাম্প্রতি খুটাখালী সেগুন বাগিচা এলাকায় রাতে জনৈকের বাড়িতে মালয়েশিয়া লোক পাঠানোর কথা পাকাপাকি করতে চাইলে তাকে ঝাটাপিটা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেন বলে স্থানীয়রা জানান। এলাকাবাসির অভিযোগ মালয়েশিয়া লোক পাঠিয়ে রাতের বেলায় এসব ঘরে সে অবাধে যাতায়ত করে। অনেক পরিবারে বাজার সদাই করে দেয় বলেও জানান প্রত্যক্ষদর্শিরা। জানা গেছে, বার্মাইয়া হাছু বিগত কয়েক বছর পূর্বে এলাকায় আসেন। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর সহায়তায় ঘরভিটি ক্রয় করে সেখানে বাড়ি ঘর তুলেন। এছাড়া বিশাল অংকের টাকা খরচ করে ভোটারও হয়েছেন। শুধু তাই নয় খুটাখালীর আরেক পাসপোর্ট দালালের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করে পাসপোর্ট ও বানিয়েছেন। গত বছর একাধিক বার অবৈধ ভাবে ও ওমরাহ ভিসায় সৌদিয়া যেতে চাইলে বার্মাইয়া প্রমানিত হওয়ায় যেতে পারেনি। সে থেকে মালয়েশিয়া আদম পাচার ব্যবসা চালিয়ে আসছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে বার্মা থেকে কিছুদিন ধরে তার ঘরে অপরিচিত লোকদের যাতায়ত লক্ষ করা যাচ্ছে। স্থানীয়রা এসব লোকদের বার্মা-আরকান, মুজাহিদ বা জঙ্গী বলে সন্দেহ করছেন। ছড়িবিল মসজিদ কমিটির অভিযোগ ফাঁদে ফেলে গত ২বছর পূর্বে মসজিদের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর নানা চল চাতুরী ও টাল বাহানা করে মসজিদের প্রায় ৪৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন বলে জানান কমিটির সেক্রেটারী। তিনি আরো জানান, মসজিদের ঈমাম নিয়োগেও বার্মাইয়া হাছু বার্মাইয়া জঙ্গী মৌলভী রাখার জন্য চেষ্টা চলিয়েছেন। এলাকাবাসির তুপের মুখে শেষ মেষ মসজিদের টাকা আত্মসাতের কারণে মসজিদের কমিটি থেকে বের করে দেন মুসল্লিরা। ঘটনাটি তাৎক্ষনিক ধামাচাপা দিতে এলাকার একটি গ্র“প মরিয়া হয়ে উঠে। তেমনি করে বর্তমানে মালয়েশিয়া দালাল হাছুকে বাচাতে ঐ সিন্ডিকেট তৎপর চালাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার একজন শিক্ষক জানান, বার্মাইয়া হাছু আদম ব্যবসা চালাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রতি মাসে সে কয়েক লক্ষ টাকা সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে আদায় করছেন। তবে জঙ্গীদের সাথে সম্পৃক্ততা আছে কিনা জানি না। ইদানিং কিছু মৌলভী টাইপের লোক তার ঘরে আনাগুনা করতে দেখা গেছে। এলাকার জনপ্রতিধিরা জানান, হাছু বার্মাইয়া হলেও মোটা অংকের টাকা খরচ করে প্রশাসনকে স্থানীয় গুটি কয়েক দালালদের মাধ্যমে ম্যানেজ করে মূলত এ ব্যবসা চালাচ্ছে। এদিকে তার দালাল সিন্ডিকেটে খুটাখালী বাজারে একজন, চকরিয়ায় ২জন, ঈদগাঁওতে একজন এবং উখিয়া-টেকনাফে ৪ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে। সোর্স রয়েছে প্রায় ডজনাধিক। এলাকাবাসি সাম্প্রতি মালয়েশিয়া দালালের এক সোর্সকে বেঁধে রেখে নির্যাতন করেছেন বলেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে প্রকাশ। বিষয়টি আরো খতিয়ে দেখতে গতকাল তার এলাকার বেশ কজন লোকের সাথে কথা হলে তারা জানান, বার্মাইয়া হাছু মালয়েশিয়ার দালাল এবং জঙ্গীদের সাথে সম্পৃক্ততা আছে এতে কোন সন্দেহ নাই। এছাড়াও তার বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে। এব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি রনজিত বড়–য়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, হাছুর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

0 Comments