নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি পৌরসভার নির্বাচনে চার হাজার ৫২১ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোতাহের হোসেন মানিক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন
আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ভিপি নুরুল হক চৌধুরী পেয়েছেন তিন হাজার ৭৮৮ ভোট। শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষ্যণীয়। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৯টি কেন্দ্রে সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ১৯ হাজার ৮২০ জন ভোটার ভোট দেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হেলাল উদ্দিন টুটুল আনারস প্রতীক দুই হাজার ৬৮০ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান এবং মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাহফুজুর রহমান ভিপি বাহার তালা প্রতীক এক হাজার ৭৫ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থান। মেয়র পদে বিএনপির অপর বিদ্রোহী প্রার্থী আবু তাহের মাইক প্রতীক এক হাজার ৯৮২ ভোট পেয়ে পঞ্চম স্থানে যায়। নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন সাতজন প্রার্থী। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা আসনে আটজন প্রার্থী ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ভোট গ্রহণকালে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। দুপুরে ২ নম্বর ওয়ার্ডের শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার সময় তাছলিমা আক্তার (১৯) ও ইয়াকুব আলী (২১) নামের দুজনকে আটক করে পাঁচহাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কো¤পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান।
এছাড়া ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাঠালী মোহাম্মদীয়া ইসলামীয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে দুলাল (১৯) ও জসিম উদ্দিনকে (১৮) এক হাজার টাকা এবং রেহানা আক্তারকে (৪০) ৫০০ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক।
এদিকে, স্বল্পতম সময়ে অস্বাভাবিক ভোট গ্রহণের অভিযোগ এনে ২ নম্বর ওয়ার্ডের শিমুলয়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট বাতিলের আবেদন করেছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোতাহের হোসেন মানিক, মেয়র পদে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আবু তাহের এবং মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাহফুজুর রহমান বাহার। প্রথমে আবেদন গ্রহণ না করলেও বিকেল তিনটায় এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোজাম্মেল হোসেন বরাবরে দাখিল করা আবেদনে মোতাহের হোসেন মানিক উল্লেখ করেন, দুপুর একটার মধ্যে ৭৪ শতাংশ ভোট গ্রহণ করা হয়। যা অস্বাভাবিক, তাই ভোট গ্রহণ ও গণনা স্থগিতস ভোট বাতিলের আবেদন করছি। আবেদনের পরে মোতাহের হোসেন মানিক প্রশাসনের সহায়তায় ভোট কারচুপিরি অভিযোগ আনেন সাংবাদিকদের কাছে।

0 Comments