প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বিবিসি বাংলাকে এ কথা জানিয়েছেন। তিনি কোটা প্রথাকে সমর্থন করে বলেন, “আমরা কোটা করার পরও মহিলারা পিছিয়ে আছেন। আমি তো মনে করি মহিলাদের জন্য কোটা আরো বৃদ্ধি করা উচিত। আর পার্বত্য অঞ্চলে যারা আছেন গারো, মারমা, ত্রিপুরা অন্যান্য যারা আছেন এদেরকেও তো উঠিয়ে আনতে হবে। এটাতো অনেকদিন ধরেই চলে আসছে। অন্যান্য দেশেও আছে। সবই যদি মেধার ভিত্তিতে হয় তাহলে পিছিয়ে যারা, অবহেলিত যারা আছেন তারাতো কোনদিনই আসতে পারবেন না।”
পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশের সরকারি কর্ম কমিশন ৩৪তম বিসিএসের প্রাথমিক (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষার ফল পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
“জনগণের মধ্যে যে একটা বৈষম্য, যেটা আগে ছিল সে বৈষম্যটা দূর করাই সরকারের উদ্দেশ্য। সাম্য নয় সমতামূলক কোন একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য এটা রাখা হয়েছে। আমি কোটার সম্পূর্ণ পক্ষে।”
তবে এইচটি ইমাম জানান, ৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ফল বাতিলের দাবীতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে সেটা নিয়ে যেন কোন ধরনের অস্থির পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ কেউ না নিতে পারে, সে কারণেই এ ফল পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন।
বাংলাদেশে সিভিল সার্ভিস সহ সরকারি চাকরি পাবার ক্ষেত্রে বর্তমানে যে কোটা পদ্ধতি চালু আছে তার বিরুদ্ধে বুধবার ঢাকায় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণীর ছাত্ররা বিক্ষোভ করেছেন।
শাহবাগ এলাকায় তাদের অবরোধের ঢাকার একটি অংশের পরিবহন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরি পাবার ক্ষেত্রে বর্তমানে যে কোটা পদ্ধতি চালু আছে, এই বিক্ষোভকারীরা তা বাতিল করা সহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
বিক্ষোভকারীদের অনেকেই গতবছর এবং এবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন বলে জানান। তারা বলছেন, অনেকে ভালো নম্বর পেয়েও কোটা কারণে প্রাথমিক বা প্রিলিমিনারী পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে পারেন নি।
বাংলাদেশে বিসিএস ছাড়াও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা, নারী, জেলা, প্রতিবন্ধী ইত্যাদি নানাধরণের ভিত্তিতে সংরক্ষণমূলক কোটা প্রচলিত আছে, যার পরিমাণ সব মিলিয়ে ৫৫ শতাংশের মতো।
সম্প্রতি এক নিয়ম করা হয়েছে যে বিসিএসের প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষার স্তর থেকেই ওই কোটা পদ্ধতি প্রয়োগ হবে। এতে চাকরিপ্রার্থীরা আশঙ্কা করছেন, এতে মেধাবীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
একজন চাকরিপ্রার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন “ডিসিশন তৈরিতে অযোগ্য লোককে বসানো উচিত না। আমি সারাজীবন পড়াশোনা করে যদি প্রত্যাশিত ফল না পাই, আমার স্বপ্নপূরণ যদি না হয় এ বৈষম্যমূলক পদ্ধতির কারণে। তাহলেতো আমি অবশ্যই এর প্রতিবাদ করবো”।
আরেকজন চাকরিপ্রার্থী মশিউর রহমান অভিযোগ করেন, পরীক্ষায় পাস নাম্বার নির্ধারণের বিষয়টি তাদের কাছে সবসময় অস্পষ্ট থাকে।
তিনি বলেন, “পিএসসি যদি আমাদের ফল প্রকাশের পর জানাতো আমরা কত পেয়েছি তাহলে আমরা বুঝতে পারতাম কোথায় আমাদের ভুল। আমরা পরীক্ষায় ভালো দিয়েছি, কিন্তু বুঝতে পারছি না কেন হলোনা, কোথায় আমাদের সমস্যা। আমরা বন্ধুবান্ধবেরা পরীক্ষার পর আলোচনা করে দেখলাম ৭৫ বা ৭৮ পাবো সেখানে আমাদের হলো না। আর যারা দেখলো ৫৫ পাবে তাদের হয়ে গেলো”।
মশিউর রহমানের মতো বিক্ষোভকারী অন্যান্য চাকরিপ্রার্থীদের কন্ঠেই ছিল কোটা পদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ। বিসিএস-সহ সরকারী অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা সহ জেলা, নারী, আদিবাসী ইত্যাদি কোটা প্রথা প্রচলিত আছে দীর্ঘকাল ধরে।
প্রথম শ্রেণীর সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ নিয়োগ হয় কোটা পদ্ধতিতে, আর বাকী ৪৫ শতাংশ নিয়োগ পায় মেধার ভিত্তিতে। চাকরিপ্রার্থীরা মনে করেন, বিসিএস-সহ সরকারি সব চাকরি থেকেই এ পদ্ধতি বাতিল করা উচিত। তারা মনে করছেন, কোটার মাধ্যমে অযোগ্যরা চাকরি পেয়ে যাচ্ছে।
মাহবুব হাসান নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী এ পদ্ধতির প্রতি প্রশ্ন তুলে বলেন, “১৯৭১ সালে যারা যুদ্ধ করেছেন তাদের নিয়ে কেন আমাদের বৈষম্যের মধ্যে ফেলা হচ্ছে। কোন একটা জায়গায় আমরা যে আবেদন করবো, সেখানে দেখি মুক্তিযুদ্ধ কোটা। আমরা কিছুতেই সামনে আগাতে পারছিনা। কিছুদিন আগে একটা সার্কুলার দেখলাম কিন্তু আবেদন করার উপায় নাই। সেখানে লেখা শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধ কোটায় যারা আছেন তারা আবেদন করতে পারবেন। স্বাধীন দেশে আমরা কেন বৈষম্যে শিকার হবো। আমাদের একটাই দাবী সম্পূর্ণরূপে কোটা পদ্ধতি বাতিল করতে হবে।”
সূত্র : বিবিসি বাংলা


0 Comments