Advertisement

টেকনাফ পৌর এলাকাও সড়ক জনপথ বিভাগের সরকারী জায়গার উপর ভবন ও গভীর নলকূপ নির্মাণের অভিযোগ

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ
টেকনাফ পৌর এলাকায় যত্রতত্র ইমারত (বিল্ডিং) নির্মাণ হচ্ছে। এসব ইমারত সরকারী বিধি মোতাবেক বিল্ডিং কোড মানা হচ্ছেনা। প্রশাসনের চোখের সামনে এসব দৃশ্য সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন বিদ্ধ হয়েছে। স্বাভাবিক প্রশ্ন উঠেছে রাতারাতী টেকনাফ পৌর সভার অলিতে গলিতে এবং প্রধান সড়কের পার্শে¦ সে সব ইমারত বা ভবন নিমার্ণ হচ্ছে, সে সব ভবনের মালিকেরা বিল্ডিং কোর্ড আইনের তোয়াক্কা না করেই ভবন নির্মানের মহাধুম ধামে চলছে। পৌরবাসী এবং এবং সচেতন মহলের প্রতিনিয়ত এ ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং তাদের পরোক্ষ সহযোগিতায় ভবনের মালিকেরা বহুতল ইমারত বা ভবন নির্মান করেই যাচ্ছে। পৌর এলাকার অলি গলি এবং টেকনাফ কক্সবাজার সড়কের সীমানা অতিক্রম ক্ষং ড্রেনের সীমানার উপর এসব বহুতল ইমারত বা ভবণ নির্মান করার ফলে পৌরবাসী বর্ষা মওসূমে জলাবদ্ধতার শিকার হয়। আজ এসব অভিযোগ পৌরসভার ভূরি ভূরি। এর পরও ভবন নির্মাণ থামেনী। যত্রতত্র  ভবণ নির্মান এবং ভবন মালিকের বিভিন্ন অনিয়ম ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রেক্ষিতে পৌরবাসী তার জন্য খেশারত দিয়ে আসছে। টেকনাফ পৌরসভার পল্লী বিদ্যুতের দক্ষিণে এবং বিসমিল্লাহ রাইস মিলের দক্ষিণ এবং প্রধান সড়কের পূর্ব পাশ্বে চারতলা ভবণ হচ্ছে এবং ভবনের সামনে  সড়ক ও জনপথ বিভাগে সরকারী জায়গার উপর একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করে এবং সড়কের উভয় পাশ্বে ৬৮ ফুট জায়গা জায়গা কোন ধরণের প্রতিষ্ঠান বা ইমারত/ভবন এবং গভীর নলকূপ স্থাপন আইনগত নিষিদ্ধ থাকলেও উক্ত ভবনের মালিক নিমিষে করে যাচ্ছে। উক্ত ভবনের মালিক টেকনাফ বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা এলাকার মোঃ ছিদ্দিকের পুত্র মোঃ গাজী বলে জানা যায়। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে প্রবাসী জীবন রয়েছেন। ভবন ও গভীর নলকূপ স্থাপনার কেয়ারটেকার জৈনক্য হোছন এই কাজ দেখাশুনা করেন বলে জানা গেছে। উল্লেখ যে, এ ভবন নির্মাণেরশুরুতেই ভবনের মালিক তার অবৈধ কাজ ধামাচাপা দেয়ার উদ্দেশ্যে স্থানীয় শাসকদলের কতিপয় প্রভাবশালীদের কাছে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে তারই ফলোশ্র“তি ভবনের মালিক সৌদি প্রবাসী গাজী অর্থের দাপটে বহুতল ভবন নির্মান করেই যাচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন গভীর নলকুপ স্থাপনের প্রেক্ষিতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের টেকনাফ অফিসের কর্মরত মোস্তাক আহমদ এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে। এর পরও ভবনের সামনে গভীর নলকূপ স্থাপন কার্যক্রম অব্যাহতভাবে চলছে। এব্যাপারে  সড়ক ও জনপথ বিভাগের টেকনাফের কর্মরত মোস্তাক আহমদ এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এব্যাপারে টেকনাফ থানায় লিখিত অভিযোগ করি এবং টেকনাফ থানার এস,আই মোঃ ইয়াসিনসহ কয়েকজন পুলিশ গত ২০ জুন রাত্রে অভিযান চালিয়ে সরকারী জায়গায় গভীর নলকূপ স্থাপনের দায়ে অভিযুক্ত ২জন কর্মচারীকে টেকনাফ থানায় আটক নিয়ে যায়। পরে তাদের ছেড়ে দেয়। গত ২২ জুন এ প্রতিবেদক টেকনাফ থানার এস,আই মোঃ ইয়াসিনের সাথে ফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারী জায়গা থেকে গভীর নলকূপটি সরিয়ে ফেলবে বলে থানায় লিখিত মুছলেখা দিলে ধৃত কর্মচারীদের ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু এর পরও সরকারী জায়গায় কাজ চলছে অব্যাহতভাবে। এব্যাপারে টেকনাফ পৌর সভার প্রকৌশলী মোঃ জহীর উদ্দীনের সাথে ফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৌর এলাকায় যে সব ভবন নির্মান হচ্ছে শুধুমাত্র এসব ভবণগুলো নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে এবং  যে সব ভবন বা বাউন্ডারী নির্মানের অনুমতি নেই, সে সব ভবনের বিরুদ্ধে পৌর কর্তৃপক্ষ বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নিয়েছে। অপর দিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সরকারী জায়গার উপর যারা ভবন এবং গভীর নলকূপ স্থাপন করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া আমাদের কোন এখতিয়ার নাই। কক্সবাজার সড়ক জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সরকারী জায়গার উপর ভবন বা অন্য কিছু স্থাপন করা চরম অপরাধ। সুতারাং এ অপরাধ থেকে আজ হউক বা কাল হউক কেউ এতে রেহায় পাবেনা। ভবনের মালিক সৌদি প্রবাসী মোঃ গাজী এবং কেয়াটেকার এর সাথে ফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Post a Comment

0 Comments