মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া থেকে
কক্সবাজারের পেকুয়ায় জাতীয় মৎস্যজীবি সমিতির উপজেলা কমিটি ও স্থানীয় প্রকৃত মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির মধ্যে দ্বন্ধ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এ নিয়ে জাতীয় মৎস্যজীবি সমিতির পেকুয়া উপজেলা কমিটির
নেতৃবৃন্দও তোপের মূখে পড়েছে। সরকারী নিয়মানীতির কোন তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে গঠন করা এ কমিটি নিয়ে স্থানীয় প্রকৃত মৎস্যজীবিদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে প্রকৃত মৎস্যজীবি সংগঠনগুলো। জামায়াত-শিবির ও বিএনপির লোকদের নিয়ে গঠিত ওই বিতর্তিক কমিটি নিয়ে খোদ উপজেলা প্রশাসন বিব্রতের মধ্যে রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি সময়ে জাতীয় মৎস্যজীবি সমিতি পেকুয়া উপজেলা শাখার নাম ব্যবহার করে মগনামা ইউনিয়নের মটকাভাঙ্গা গ্রামের তোফাজ্জল করিমের পুত্র মো: জিসান সভাপতি ও উজানটিয়া ইউনিয়নের মিয়া পাড়া গ্রামের মৃত মৌলভী সাইফুল হকের পুত্র যুবদল নেতা এহসানুল হক সাধারান সম্পাদক ও আরো কয়েকজন লোক বিভিন্ন পদবী পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আর তাদের অপতৎপরতায় পেকুয়ার প্রকৃত মৎস্যজীবিরা পড়েছে দারুণ বিপাকে। জানা যায়, জাতীয় মৎস্যজীবি সমিতির ওই দুই নেতা পেকুয়া মৎস্যজীবিদের অধিকার আদায়ে কোন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেনি। হঠাৎ করে জাতীয় মৎস্যজীবি সমিতির নাম ব্যবহার ও একটি পকেট কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে অনুমোদন করিয়ে এনে সরকারী বিভিন্ন বরাদ্দ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। এর নেপথ্যে রয়েয়ে পেকুয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজয় পাল।
অভিযোগ উঠেছে, পেকুয়ার ৭ ইউনিয়নের সরকারী নিবন্ধিত প্রকৃত মৎস্যজীবি সমিতিগুলোকে বাইরে রেখে মৎস্য কর্মকর্তা ওই দুই ব্যক্তির কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে পেকুয়ায় তাদের কার্যক্রম চালালোর সুযোগ করে দিয়েছে। এ ঘটনায় পেকুয়া উপজেলার অন্যান্য প্রকৃত মৎস্যজীবি সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দরা অবিলম্বে মৎস্য কর্মকর্তার অপসারণসহ বিতর্কিত কমিটি বাতিলের দাবী জানিয়েছেন। এবং আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা করেছেন। পেকুয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পেকুয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়নে সরকারী নিবন্ধিত সর্বমোট ১৪টি প্রকৃত মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি রয়েছে। এসব সমিতিগুলো হচ্ছে, পেকুয়া উপজেলা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি, মগনামা বাইন্যাঘোনা মৎস্যজীবি সমিতি, জাগরনী মৎস্যজীবি সমিতি,বারবাকিয়া ইউনিয়ন মৎস্যজীবি সমিতি, উপকূলীয় মৎস্যজীবি সমিতি, পশ্চিম গোয়াখালী মৎস্য চাষ উন্নয়ন সমিতি, দিয়া পাড়া মৎস্যজীবি সমিতি, মৌলভী পাড়া মৎস্যজীবি সমিতি, মগনামা ইউনিয়ন মৎস্যজীবি সমিতি, উজানটিয়া সুতাচোরা মৎস্যজীবি সমিতি, ভাই ভাই মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি, রাজাখালী ইউনিয়ন মৎস্যজীবি সমিতি, পেকুয়া সদর ইউনিয়ন সমবায় সমিতি নাথ পাড়া মৎস্যজীবি সমিতিসহ উল্লেখিত সমিতিগুলো সরকারী নিবন্ধিত হলেও এসব সমিতির সভাপতি/সম্পাদকদের সাথে কোন রকমের আলাপ আলোচনা ও তাদের কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত না করে জামায়াত-বিএনপির লোকদের নিয়ে বিতর্কিত একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে অভিযোগ উঠেছে।
পেকুয়া উপজেলা মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি জাকিরুল ইসলাম ও সম্পাদক সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম হিরু অবিলেম্বে ওই পকেট কমিটি বাতিলের জন্য জোর দাবীও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে এসব অভিযোগের ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজয় পালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, ওই কমিটি জাতীয় মৎস্যজীবি সমিতি অনুমমোদন দিয়েছেন। সেখান। আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। এসব অভিযোগ তুলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে তিনি দাবী করেছেন।

0 Comments