মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন,পেকুয়া থেকে
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার পেকুয়া-মগনামা সড়কের পহরচাঁদা মাদ্রাসা পয়েন্টে চোরাই গাছবাহী বিভিন্ন যানবাহন আটকিয়ে বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মচারীরা রমরমা বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বন বিভাগের লোক পরিচয়ে ওই পয়েন্টে ৩ ব্যক্তি ওই সড়কে চোরাই গাছবাহী
ট্রাক, লাকড়ী ও ছনবোঝাই নানা ধরণের যানবাহন আটকিয়ে এ চাঁদাবাজী চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আর বন বিভাগের লাগামহীন চাঁদাবাজীতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকরা। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পেকুয়ায় সড়কে চাঁদাবাজী বন্ধে পেকুয়ার কয়েকজন সচেতন বাসিন্দা সম্প্রতি প্রধান বন সংরক্ষক এর নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পেকুয়া-মগনামা সড়কের পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীন পহরচাঁদা বনবিটের কর্মকর্তা দিলীপ কুমার বড়–য়া, বন প্রহরী হারুন অর রশিদসহ আরো কয়েকজন ওই বনবিটের কর্মচারী এ অপকর্মে চালিয়ে যাচ্ছে। বনবিট কর্মকর্তা দিলীপ কুমার বড়–য়ার নির্দেশে বনপ্রহরী হারুন অর রশিদ প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পেকুয়া-মগনামা বানিয়ারছড়া সড়কের পহরচাঁদা মাদ্রাসার পয়েন্টে অবস্থান করে সড়কে চলাচলকারী চোরাই গাছবাহী গাড়ী আটক করে ৫‘শ টাকা থেকে ২হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। বন বিভাগের লোক হওয়ায় স্থানীয় কোন ব্যক্তি এ অপকর্মের প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। আর যারা এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তাদের বিভিন্ন মিথ্যা বন মামলা দিয়ে হয়রানী করার ও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে গতকাল রবিবার বিকাল ৪টার দিকে গিয়ে দেখা গেছে, পহরচাঁদা বন বিটে কর্মরত বন প্রহরী হারুন চকরিয়া, লামা, আলিকদম ও বান্দরবান থেকে জিপ ও ট্রাকযোগে আসা অসংখ্য গাছ ও লাকড়ীবাহীসহ অন্যান্য পণ্যবাহী যানবাহন আটকিয়ে জোরপূর্বক বন বিভাগের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা আদায় করছেন। হারুনের কাছে সড়কে যানবাহন থামিয়ে চাঁদাবাজীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশে ওই সব যানবাহন থেকে চাঁদা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। বন বিভাগের বেপরোয়া ও লাগামহীন চাঁদাবাজীতে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকরা। চকরিয়া থেকে গতকাল রবিবার বিকালে ট্রাকে গাছ ভর্তি করে পেকুয়ার আরব শাহ বাজারে নিয়ে যাচ্ছিলেন আবুল হাসেম কালাম এক ড্রাইভার। তিনি এ প্রতিনিধিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানালেন, তার ট্রাকটি পেকয়া-মগনামা সড়কের পহরচাঁদা মাদ্রাসা পয়েন্টে অতিক্রম করার সময় বন বিভাগের লোক পরিচয়ে হারুন নামের এক ব্যক্তি ৫‘শ টাকা হাতিয়ে নেন। তার মত অসংখ্য যানবাহনের চালক থেকে এ ভাবেই প্রতিনিয়ত এ পয়েন্টে আটকিয়ে বন বিভাগের দেদারসে চাঁদাবাজী চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্ট্রগাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বখতিয়ার নূর ছিদ্দিকী এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, শিগগিরই বন বিভাগের নামে চাঁদাবাজী বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর তিনি পহরচাঁদা বনবিটের কর্মকর্তা দিলীপ ও কর্মচারী হারুনের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন

0 Comments