উখিয়া নিউজ ডটকম::
কক্সবাজারের রামুতে পবিত্র কোরআন অবমাননার জের ধরে গত ৩০ সেপ্টেম্বর উখিয়ার বিভিন্ন গ্রামের বৌদ্ধ বিহারে সন্ত্রাসী হামলা, বৌদ্ধ পলীতে অগ্নি সংযোগ ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ৭টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা এডভোকেট শাহ জালাল চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা
বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার জাহান চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী সহ এজাহারভুক্ত ১২২ জন ও অজ্ঞাত নামা ৫,৫০২ জনকে আসামী করা হয়। তৎমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী জেল হাজতে থাকলে ও বাকিরা হাইকোট থেকে জামিনে রয়েছেন। পুলিশ মামলার উখিয়া বৌদ্ধ মন্দির ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ মামলার ৩টি চার্জশীটের খচড়া তৈরী করার খবর ছড়িয়ে পড়লে আতংক সৃষ্টি হয় জামায়াত-বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মাঝে। সাধারণ লোকদের দৃষ্টি কে হচ্ছেন বৌদ্ধ মন্দির ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ মামলার প্রকৃত আসামী। বিভিন্ন তথ্যের সুত্রে জানা গেছে, রামুর হাইটুপি চেরাংকাটা গ্রামের বৌদ্ধ যুবক উত্তম বডুয়া কর্তৃক ফেইসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনা স্থানীয় ভাবে চাউর হয়ে গেলে গত ২৯ সেপ্টেম্বর রামু, ৩০ সেপ্টেম্বর উখিয়া এবং টেকনাফে আরো জানা গেছে, রামু উপজেলার খুনিয়া পালং এলাকা থেকে কয়েক হাজার মুসলিম সম্প্রদয়ের লোক মিছিল সহকারে উখিয়ার দিকে অগ্রসর হলে স্থানীয় জনসাধরণ বিষয়টি উখিয়া থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহাকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছতে দেরি করায় উত্তেজিত জনতা মরিচ্যা দিপাংকুর বৌদ্ধ বিহার হামলা এবং অগ্নি সংযোগ করে। পরবর্তীতে মুসিলম সম্প্রদায়ের বিক্ষোব্ধ জনতা কোটবাজারের সুদর্শন বৌদ্ধ বিহার, রাজাপালং জাদী বৌদ্ধ বিহার, রেজুর কুল সদ্ধর্ম বিকাশ বৌদ্ধ বিহার, পালংখালী ভবনেশ্বর গীতা মন্দির, খয়রাতী পাড়া বৌদ্ধ বিহার, উত্তর বড়বিল বৌদ্ধ বিহার ও বিভিন্ন বৌদ্ধ পলীতে অগ্নি সংযোগ, ভাংচুর ও কোটবাজারে পুলিশের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটায়। তৎমধ্যে কোটবাজার সুর্দশন বৌদ্ধ বিহারে হামলার ঘটনায় উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আবুল হাশেম বাদী হয়ে মামলা করেন। যার মামলা নং- ০১, তারিখ-০১/১০/২০১২ ইং। উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার জাহান চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী সহ ১৫জনকে এজাহার ভুক্ত ও অজ্ঞাত নামা ২/৩ হাজার লোককে আসামী করেন। পশ্চিম মরিচ্যা দীপাংকুর বৌদ্ধ বিহারে হামলার ঘটনায় উখিয়া থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক ওমর ফারুক বাদী হয়ে উখিয়া থানার মামলা নং- ০২, তারিখ- ০২/১০/২০১২ইং দায়ের করেছে। উক্ত মামলায় উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা এডভোকেট শাহ জালাল চৌধুরী সহ ২৬ জনকে এজাহার নামীয় এবং অজ্ঞাত নামা এক হাজার/দেড় হাজার জনকে আসামী করা হয়। রাজাপালং জাদী বৌদ্ধ বিহারে হামলার ঘটনায় উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক শ্যামল কান্তি দাশ বাদী হয়ে উখিয়া থানার মামলা নং- ০৩, তারিখ- ০২/১০/২০১২ ইং দায়ে করেন, এ রাজাপালং গ্রামের শহর মূলুকের ছেলে মোহাম্মদ সহ ৭জনকে এজাহার ভুক্ত ও অজ্ঞাত নামা একশত/দুই শত লোক কে আসামী করা হয়। পালংখালী ভবনেশ্বর গীতা মন্দির ও সংখ্যা লঘু পরিবারের উপর নির্যাতন করায় পালংখালী গয়ালমারা গ্রামের মৃত সাধন শীলের ছেলে ধনুরাম শীল বাদী হয়ে উখিয়া থানার মামলা নং- ০৪, তারিখ- ০২/১০/২০১২ ইং দায়ের করেন। উক্ত মামলায় পালংখালী আনজুমান পায়া গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে আব্দুল হক সহ ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাত নামা পাঁচশত/ছয় শত জনকে আসামী করা হয়েছে। ঘটনার ১৬ দিন পর অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর পুলিশের আইজি হাছান মাহামুদের নির্দেশে নতুন করে আরও ৩টি মামলা দাযয়র করা হয়। খয়রাতী পাড়া গ্রামের হরি মোহন বড়–য়ার ছেলে বাবুল বডুযা বাদী হয়ে উখিয়া থানার মামলা নং- ০৯, তারিখ- ১৬/১০/২০১২ ইং। এতে এজাহার ভুক্ত ৫ জন ও অজ্ঞাত নামা ৭০/৮২ জনকে আসামী করা হয়। রেজুর কুল সদ্ধর্ম বিকাশ বৌদ্ধ বিহারে হামলার ঘটনায় রেজুরকুল গ্রামের মৃত প্রাণহরি বড়ুয়ার ছেলে প্রেমানন্দ বড়–য়া (৫৬) বাদী হয়ে উখিয়া থানার মামলা নং- ১০, তারিখ- ১৬/১০/২০১২ ইং, দায়ের করেন। মামলায় এজাহার নামীয় ৫৪ জন ও অজ্ঞাত নামা ৫০/৬০ জনকে আসামী করা হয়। উত্তর বড়বিল বৌদ্ধ বিহারে হামলার ঘটনায় উত্তর বড়বিল গ্রামের লক্ষী কান্ত বডুয়ার ছেলে দুলাল বড়ুয়া (৪৩) বাদী হয়ে উখিয়া থানার মামলা নং- ১১, তারিখ- ১৬/১০/২০১২ ইং দায়ের করেন। এই মামলায় এজাহার নামীয় কোন আসামী করা হয় নাই। অজ্ঞাত নামা ৫০/৬০ জনকে আসামী করা হয়। এই মামলার পরপরই বিএনপি’র একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি সরকার দলীয় বিভিন্ন মন্ত্রি-প্রতিমন্ত্রী, পুলিশের আইজি, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান সহ দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাস্থল পর্যাবেক্ষণ করেন। কিন্তু পুলিশের চার্জশীট প্রেরণ খবরে আবারো নতুন করে আতংক দেখা দেয় জামায়াত-বিএনপি’র নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের মাঝে। জেলা বিএনপি’র সভাপতি শাহ জাহান চৌধুরী বলেন, সেইদিন কারা কোটবাজারে মিছিল করেছিল সেটা সবাই জানে। কিন্তু এরপরও মামলা দেওয়া হয়েছে, আমার বিএনপি এবং জামায়াতের নেতকর্মীদেরকে। যার প্রতিবাদে উখিয়া থেকে সুদুর টেকনাফ সেন্টমার্টিন পর্যন্ত মানবন্ধন কর্মসূচী পালন করেন সাধারণ লোকজন। তিনি এসময় আইনশৃংখলা বাহিনীর উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি আর্কষন করে বলেন, প্রকৃত আসামীরা যদি মামলার চার্জশীট থেকে বাদ যায়, তাহলে তার দায়-দায়িত্ব আপনাদেরকে নিতে হবে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার বলেন, মামলার চার্জশীট প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে উখিয়া থেকে ৩টি মামলার চার্জশীট আমরা চুড়ান্ত করতে যাচ্ছি। পুলিশ সুপার আজাদ মিয়া উখিয়া নিউজ ডটকমকে জানান, সব কিছু যাচাই-বাছাই শেষে চার্জশীট দেওয়া হচ্ছে।

0 Comments