Advertisement

দশ বছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য এক-তৃতীয়াংশ কমেছে


বাংলাদেশে গত এক দশকে দারির্দ্য হ্রাসের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় অগ্রগতি ঘটিয়েছে এবং এই সময়কালের মধ্যে এক কোটি ৬০ লক্ষ লোক দারির্দ্য থেকে মুক্তি পেয়েছে, বলছে বিশ্বব্যাংকের একটি রিপোর্ট। বৃহ¯পতিবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক রিপোর্টে বলা হয়, ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে দরিদ্র
লোকের সংখ্যা ২৬ শতাংশ কমেছে।
রিপোর্টে বলছে, প্রতিবছর দারির্দ্য কমেছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ হারে, এমনকি ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বাইরের প্রতিকুল পরিস্থিতিও দারির্দ্য হাসের এই ধারার গতি কমাতে পারেনি। দারিদ্র্য হ্রাসের ক্ষেত্রে এক দশকের অগ্রগতির মূল্যায়ন' নামের এ রিপোর্টটিতে বলা হয়, গত ১০ বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দারির্দ্য থেকে মুক্তি পেয়েছে - যা একটি দুর্লভ এবং প্রশংসনীয় অর্জন। শ্রমবাজারে মেয়েদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যায় যোগ দেয়াটা দারির্দ্য হ্রাসের ক্ষেত্রে ভুমিকা রেখেছে, তবে আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় তার পরিমাণ এখনো কম।
রিপোর্টে আরো বলা হয়, দারির্দ্য পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হলেও এটা মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশে এখনো ৪ কোটি ৭০ লাখ লোক দারির্দ্যের মধ্যে এবং এর মধ্যে ২ কোটি ৬০ লক্ষ লোক চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। বলা হয়, এখন যা দরকার তা হলো ক্রমবর্ধমান তরুণ জনগোষ্ঠীকে তাদের দক্ষতা ও শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে সহায়তা করা - যাতে তারা উৎপাদনশীল কাজ পেতে পারে, এবং বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে অংশগ্রহণ করতে পারে।
রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশে জনসংখ্যার প্রকৃতিতে পরিবর্তন এবং শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি - এ দুটির সাথে দারির্দ্য হ্রাসের ঘনিষ্ঠ স¤পর্ক রয়েছে। গত কয়েক দশক ধরেই জন্মহার কমছে, ফলে মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে।
২০০০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেটের মতো বাংলাদেশের পূর্বদিকের জেলাগুলোয় দারিদ্র দ্রুতগতিতে কমেছে, তবে পরের পাচ বছরে পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগগুলোতেই দারির্দ্য হ্রাসের গতি বেড়েছে এবং পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোর কাছাকাছি চলে এসেছে। বলা হয়, এ সময় আবাসনের মানে উন্নয়ন ঘটেছে, এবং বিভিন্ন ধরণের সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পরিবারগুলোতে টেলিভিশন এবং সেলফোনের মতো সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের সক্ষমতা।
২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের দারির্দ্য সাড়ে ২৮ শতাংশে নামিয়ে আনার যে ''সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা' ছিল, তা এবছরের মধ্যেই অর্জিত হয়ে যাবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

Post a Comment

0 Comments