রাশিদ রিয়াজ
সৌদি আরবে এবার মরণঘাতি ভাইরাসে প্রাণহানির ঘটনার পর আসন্ন হজ মৌসুম নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যদিও নির্মাণ কাজ সম্প্রসারণের জন্যে এবার হজে সৌদি আরবের অর্ধেক ও অন্যান্য দেশের কুড়ি ভাগ হজযাত্রীদের হজ করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না
তারপরও লাখ লাখ হজযাত্রীর আগমণে মারণঘাতি ভাইরাস কোনো মারত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করে কী না সে নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছে দেশটির সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ডেইলি মেইলবিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে রেসিপাইরেটরি সিনড্রোমের পর আশঙ্কা করে বলছেন, ওই ধরনের প্রাণঘাতি ভাইরাস সারস ভাইরাসের চেয়ে ভয়াবহ। হজযাত্রীদের মধ্যে কেউ প্রাণঘাতি রেসিপাইরেটরি সিনড্রোমে আক্রাšত্ম হয়ে নিজ দেশে ফিরে যাবার পর ভাইরাসটি সেসব দেশেও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যে সৌদিআরবে রেসিপাইরেটরি সিনড্রোমে অšত্মত ৬২ জন আক্রাšত্ম হবার বিষয়টি চিহ্নিত করেছে যাদের মধ্যে ৩৪ জন মারা গেছেন। এধরনের প্রাণঘাতি ভাইরাস কিভাবে সৌদি আরবে ঢুকেছে নাকি দেশটিতেই এর উৎপত্তি হয়েছে সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ২০০৩ সাল থেকে ওই প্রাণঘাতি ভাইরাসে আক্রাšত্ম হবার পর বিভিন্ন দেশে এ পর্যšত্ম ৮শ’ জন মারা গেছে। হজের সময় বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ হজযাত্রী আসে এবং তাদের কারো কাছ থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে কী না সে নিয়েও বেশ গবেষণা চলছে সৌদি আরবে। সারসের মতই রেসিপাইরেটরি সিনড্রোমে আক্রাšত্ম হবার পর রোগি উচ্চ তাপমাত্রায় মারা যান।
তবে সারস ভাইরাসে আক্রাšত্ম হবার পর ৮ ভাগ রোগি মারা গেলেও রেসিপাইরেটরি সিনড্রোম বা মারস ভাইরাস হিসেবে পরিচিত এধরনের আক্রাšত্ম রোগির ৬২ ভাগের অবস্থায় ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তবে এখনো চিকিৎসকরা ঠিক কি কারণে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তা নির্ধারণ করতে পারেননি। সৌদি আরব ছাড়াও জর্দান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও টিউনিসিয়ায় এধরনের ভাইরাসে আক্রাšত্ম হয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে সবচেয়ে বেশি মারস আক্রাšেত্মর ঘটনা ঘটেছে সৌদি আরবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. মার্গারেট চান বলেন, মারস ভাইরাস সম্পর্কে খুব কমই তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু তারচেয়েও এ ধরনের প্রাণঘাতি ভাইরাসটি নিয়ে আশঙ্কার শেষ নেই। মিশরে আগামী মাসে মার্স নিয়ে এক আšত্মর্জাতিক সম্মেলনে করণীয় ঠিক করতে বসছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

0 Comments