Advertisement

ইসলামপুরে পুলিশ ডাকাত বন্দুকযুদ্ধ, আহত ৭, অস্ত্রসহ গুলিবিদ্ধ ডাকাত আটক


মোঃ মিজানুর রহমান আজাদ, সদর
কক্সবাজার সদরের ইসলামপুর ইউনিয়নের ডুলা ফকির মাজার সংলগ্ন পূর্ব বামন টাকা এলাকায় ১৯ জুন গভীর রাত্রে পুলিশ ডাকাতের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে অস্ত্র গোলাবারুদ সহ গুলিবিদ্ধ এক ডাকাতকে আশংকাজনক অবস্থায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এতে পুলিশসহ অন্তত ৭জন আহত হয়। আটক
ডাকাত নিজেকে পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমারের মন্ডু এলাকার নাগরিক এবং বর্তমান রামু উপজেলা জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের আবুল হোসেনের পুত্র তারেক (৩৮) বলে পরিচয় দিয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে তারা হঠাৎ কিছুক্ষণ ধরে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পেয়ে ঘর থেকে হয়ে দেখতে পান পুলিশের একটি দল গুলিবিদ্ধ গুরুতর আহত এক ডাকাতকে গ্রেফতার ও অস্ত্রসহ বেশ কিছু ডাকাতির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এ সময় পুলিশ অভিযানের বিষয়টি উপস্থিত এলাকার লোকজনদের জানালে তারা বড় ধরণের ডাকাতির ঘটনা থেকে পুলিশের সাহসী ভূমিকা কারণে রক্ষা পেয়েছে বলে অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তাকে জানান। অপরদিকে অভিযানের বিষয়ে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সাথে কথা হলে জানান, রাত ২ টার দিকে হঠাৎ তারা সোর্সের মাধ্যমে সংবাদ পান বর্ণিত এলাকার একটি স্থানে ২০/৩০ জনের সশস্ত্র ডাকাতদল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ সংবাদ পেয়ে তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত উক্ত স্থানে পৌঁছে ডাকাতদের ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে। ডাকাতরা বিষয়টি আচ করতে পেরে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করলে আত্মরক্ষার্থে তারাও পাল্টা গুলি ছুড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। এসময় অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তাসহ   অন্তত ৭জন আহত হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডাকাতদের দিকে এগোতে থাকলে ডাকাতরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে অন্ধকার স্থল থেকে গুলিবিদ্ধ উক্ত ডাকাতকে গ্রেফতার করে এবং সেখান থেকে দেশীয় তৈরী একটি রাইফেল, ২টি তাজা কার্তুজ, ৭টি রাইফেলের গুলি, গ্রীল কাটার অত্যাধুনিক যন্ত্র ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করে। পরে আহত ডাকাতকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। তিনি আরো দীর্ঘ সময় বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা চললেও স্থানীয় লোকজন পুলিশের সহযোগিতায় এগিয়ে না আসাতে অন্যান্য ডাকাতদের আটক করা সক্ষম হয়নি। এদিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত ডাকাত দলের জড়িত সদস্যদের পরিচয় জানা গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন। রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত উক্ত ঘটনায় ডাকাতিও অস্ত্র আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে এলাকার সচেতন লোকজন জানান, পুলিশ যদি তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে গিয়ে দুঃসাহসীক এ অভিযান না চালাত তা হলে ওইদিন এলাকার লোকজনদের বড় ধরণের ডাকাতির শিকার হতে হতো। তাই তারা উক্ত সাহসী অভিযানের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

Post a Comment

0 Comments