Advertisement

দশ বছরেই ফুরিয়ে যাবে মজুদ গ্যাস

ঢাকা: নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে আগামী দশ বছরের মধ্যেই ফুরিয়ে যাবে বাংলাদেশের উত্তোলনযোগ্য মজুদ গ্যাস। এরপর গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর জন্য সম্পূর্ণভাবে আমদানির উপর নির্ভর করতে হবে।


সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি ও খনিজ বিষয়ক সংবাদমাধ্যম প্ল্যাট্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


এমন পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য নতুন গ্যাসক্ষেত্রের খোঁজে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোকে দিয়ে দেশে আরও জোর অনুসন্ধান চালানো প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়।


জ্বালানি বিশেষজ্ঞ নুরুল ইসলাম এ ব্যাপারে প্ল্যাট্সকে বলেন, “সামগ্রিকভাবে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও ড্রিলিং প্রয়োজন।” শিগগিরই গ্যাসে নতুন কোনো মজুদ না পেলে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে বলেও জানান তিনি।


পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ২ দশমিক ৭ থেকে ৩ বিলিয়ন ঘনফুট, যার বিপরীতে দৈনিক উত্তোলন হয় ২ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু প্রতিবছর প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ১০ শতাংশ করে বাড়তে থাকায় ২০২২ সালের মধ্যেই উত্তোলনযোগ্য সম¯ত্ম মজুদ গ্যাস ফুরিয়ে যাবে। আর চাহিদা অনুযায়ী আরও বেশি গ্যাস উত্তোলন করা হলে দশ বছরের আগেই তা শেষ হয়ে যেতে পারে।


দেশে বর্তমানে মোট উত্তোলনযোগ্য মজুদ গ্যাস ১৬ দশমিক ৩৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এর ১৬ দশমিক ০২ ভাগই রয়েছে স্থলভাগের ২৪টি গ্যাসক্ষেত্রে। বাকি ৯১ বিলিয়ন ঘনফুট রয়েছে একমাত্র সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গুতে, যা অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি সাšেত্মাস নিয়ন্ত্রণ করছে। যে ২০টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে বর্তমানে উত্তোলন করা হচ্ছে, তার মধ্যে ১৫টি সরকারি এবং বাকি পাঁচটি আšত্মর্জাতিক তেল কোম্পানির মালিকানাধীন।


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ বিশেষজ্ঞ এম তামিম এ ব্যাপারে মনে করেন, স্থল ও সামুদ্রিক- উভয় ব্লকেই আরও বেশি করে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন। সমুদ্রের মতো স্থলের গ্যাস ব্লকগুলোও আšত্মর্জাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত।


উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের কেবল অগভীর ও গভীর সামুদ্রিক ব্লকগুলো অনুসন্ধানের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। ১৯৯৭ সালের এক নিলামের পর আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য স্থলভাগের গ্যাস ব্লক অনুসন্ধানের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।


তবে দেশের মোট গ্যাস উৎপাদনে আন্তর্জাতিক কোম্পানির শেয়ার ২০০১ সালে যেখানে ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট, সেখানে বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ঘনফুটে।


জ্বালানি বিশেষজ্ঞ তামিমের মতে, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত বাধার কারণে সরকারি কোম্পানিগুলো গ্যাস উত্তোলনে সম্পূর্ণ সফল হচ্ছে না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে আšত্মর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে অনুসন্ধানের জন্য আরও বেশি আমন্ত্রণ জানানোর কোনো বিকল্প নেই।
- See more at: http://www.bengalinews24.com/enviroment-tourism-fuel-energy/2013/06/25/8617#sthash.VqqYiefA.dpuf

Post a Comment

0 Comments