এম. রায়হান চৌধুরী, চকরিয়া: চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ও পাগলিরবিল ছড়া থেকে অবৈধভাবে অব্যাহত বালি উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বিট অফিস, ১১ হাজার কেভির বিদ্যুৎ টাওয়ার, মসজিদসহ ১০ গ্রাম। নির্বিচারে বালি উত্তোলন ও ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব না হলে এ দু’ছড়ার আশপাশের কয়েকটি গ্রাম ও
কোটি টাকার সম্পদ চলতি বর্ষায় বিনষ্টের আশংকা করছেন স্থানীয়রা। প্রতিদিন নির্বিচারে বালি উত্তোলনের মহোৎসব চললেও প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় জনগণ অভিযোগে জানান, অপরিকল্পিতভাবে সরকারদলীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিগত ২ বছর ধরে মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করায় দু’ছড়ার একাধিক স্থানে বিশাল বিশাল ভাঙ্গন হয়েছে। এসব ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ী, গাছ-পালা ও বিস্তীর্ণ ফসলী জমি। এখনই মেশিন দিয়ে অব্যাহত বালি উত্তোলন ঠেকাতে না পারলে মসজিদ, ফোরকানীয়া, বিট অফিস, বিদ্যুৎ টাওয়ারসহ অসংখ্য ঘরবাড়ী ও শত শত একর ধানী জমি ছড়াতে বিলিন হওয়ার আশংকা করছেন ছড়া ও পার্শ্ববর্তী জনগোষ্ঠি। সরেজমিন দেখা গেছে, খুটাখালী ছড়ার একাধিক স্থানে মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা। বালি উত্তোলনের করণে জীব-বৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তারা আরো জানান, এ ২ ছড়া থেকে নির্বিচারে বালি উত্তোলনের পেছনে খুটাখালী বনবিট ও সাফারি পার্কের যোগসাজেশ রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, খুটাখালী ছড়ার ইজারা বাতিল ও উচ্চ আদালতে রীট করার কারণে প্রভাবশালীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মামলাকে পূঁজি করে প্রভাবশালীরা নির্বিচারে চালাচ্ছে বালি উত্তোলনের মহোৎসব। তারা বালি উত্তোলনের পাশাপাশি সামাজিক বাগানের গাছ পাচারও অব্যাহত রেখেছে।
সূত্র জানায়, খুটাখালী ছড়া বিগত ৩ বছর পূর্বে ১২ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ইজারা দেয়া হয়েছিল। সে থেকে মামলার কারণে এ ছড়া ইজারা দেয়া হয়নি। এ সুযোগে ক্ষমতাসীন দলের গুটি কয়েক নেতা অবাধে বালি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। অন্য দিকে পাগলির বিল ছড়ায়ও চলছে হরিলুট। স্থানীয় প্রভাবশালীরা ইজারা ছাড়ায় বালি উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ২ ছড়া থেকে দৈনিক অর্ধ শতাধিক গাড়ী বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। বেপরোয়া অবৈধ বালি উত্তোলন রোধ করতে এলাকাবাসী কয়েক দফায় চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খুটাখালী ছড়া থেকে ডাম্পার বালিসহ মেশিন আটক করে জরিমানা করেন। তবে পাগলিরবিল ছড়ায় এ পর্যন্ত কোন অভিযান পরিচালনা করা হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা। তারা আরো জানান, পাগলির ছড়ার কবিরার জুম ও সোলতান কবির চৌধুরীর জায়গা গত বর্ষায় ভেঙ্গে গেছে। এক্ষেত্রে বালি উত্তোলনে মেশিন বসাতে জায়গা দিয়ে সহায়তা করছে স্থানীয় মুমিন মাষ্টার নামের এক ভূমিদস্যু। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালীরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে মোটা অংকের মাসোহারা দিয়ে অবৈধ এ বাণিজ্য চালাচ্ছে। ডুলহাজারা ২ বালি মহালের ইজারাদার প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তারা জানান, খুটাখালী ও পাগলিরবিল ছড়ায় প্রায় ১০-১২টি মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন চলছে। অবৈধ এসব বালি উত্তোলনকারীদের কারণে বৈধ ইজারাদাররা চরম বিপাকে পড়েছেন। তারা আরো জানান, সরকারের বিপুল অংকের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এ ২ ছড়া থেকে প্রভাবশালীরা এখনো বালি উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন। অবৈধ এসব বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

0 Comments