Advertisement

সরেজমিন প্রতিবেদন :: টেকনাফে ৪৫ একর চিংড়ি ঘের নিয়ে দূ’গ্র“প মুখোমুখি


এম.জসিম উদ্দিন ছিদ্দিকী
৪৫ একর বিশিষ্ট (১১২ কানি ২০ শতক) বিশাল একটি চিংড়ি ঘের নিয়ে দূ‘পক্ষ মূখোমুখি হয়ে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। বিরোধ চলছে
চরম ভাবে। এ নিয়ে একাধিক অঘটনও ঘটেছে। চিংড়ি ঘের লাগিয়তের মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ, ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে সন্ত্রাসী কায়দায় ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে চিংড়ি ঘের জবর দখল নিয়ে মূলত বিরোধের সৃষ্টি। বিষয়টি থানা পুলিশ থেকে শুরু করে আদালত পর্যন্ত গড়ালেও এখনো কোন স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে সংঘঠিত এবং অপ্রীতিকর ঘঠনা ক্রমে বাড়ছে। এ নিয়ে বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ ব্যাপক হতাহতের আশংকা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি এবং চিংড়ি ঘের মালিকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, টেকনাফের হ্নীলা এলাকার মাও. মোহাম্মদ আলী গং ১৯৮৩ সালে ১৯ টি রেজিষ্ট্রার্ড কবলামূলে সন্তোষভূষন দাশ ও চাতুওয়াই চৌধুরী গং থেকে মোট ৪৫ একর জমি ক্রয় করে সরকারের বরাবর খাজনা আদায় পূর্বক ক্রয়কাল থেকে ভোগ দখলে রয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষুদ্রতম অংশের মালিক আবুল কাসেম কিছু ভূয়া দলিল ও খতিয়ান সৃজন করে লাগিয়তের টাকা আত্মসাৎকারী চাষাদের যোগসাজশে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চিংড়ি ঘের জবর দখলে নেয়ার তৎপরতা চালায়। এ নিয়ে বিরোধের শুরু। বৈধ কাগজপত্র দলিল নিয়ে মূল মালিক ৩ জন এক পক্ষ আর ক্ষুদ্রতম অংশের মালিক আবুল কাসেম কিছু ভূয়া দলিল ও খতিয়ান সৃজন করে ক্ষমতাসীনদের দলের কতিপয় নেতা এবং চিংড়ি ঘের লাগিয়তের টাকা আত্মসাৎকারী কয়েকজন পুরনো চাষা মিলে এক পক্ষ। একপক্ষ লড়ছেন বৈধ কাগজ পত্রের জোরে, আর এক পক্ষ লড়ছেন ক্ষমতার দাপটে। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সৃজিত ভূয়া দলিল ও খতিয়ান বাতিল করতে মূল মালিক পক্ষ কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবরে আপীল মামলা ১১৪/০৯ দায়ের করেন। সৃজিত খতিয়ানে জমির পরিমাণ ছিল ৯.০৫ একর। ভূয়া খতিয়ান সৃজনের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় অতিরিক্ত বিভাগীয় জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) গত ৩০ মার্চ  ২০১১ উক্ত ৯.০৫ একর জমির খতিয়ান সমূহ বাতিল করেন। আবুল কাসেম গং উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে চট্রগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আদালতে রিভিউ পিটিশন নং-১৫৪/১১ দায়ের করলে ১৯ জুন ২০১২ প্রদত্ত রায়ে খতিয়ান বাতিলের আদেশ বহাল রাখেন। এছাড়াও নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবুল কাসেম গং কক্সবাজার সহকারী জজ আদালতে অপর ৪০/১০ মামলা করছিলেন। অবস্থা বেগতিক দেখে তা গত ৬ এপ্রিল নিজেই প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এভাবে একটার পর একটা  মামলা থেকে হারিয়ে যাওয়ার পর আবুল কাসেম গং সর্বশেষ বাতিল খতিয়ান এবং একই তপশীল উল্লেখ করে কক্সবাজার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে ভাগ বাটোয়ারা মামলা নং ২০৫/১২ দায়ের করেন। যা বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে ইত্যবসরে উক্ত চিংড়ি ঘেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে রাতের আধারে ফাঁকা গুলি বর্ষন, রাতের আঁধারে অবৈধ অস্ত্র, গুলি উদ্ধারের মতো ঘটনাও ঘটেছে। তাছাড়া ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, হামলা, মারধর, আহত, লুটপাট ইত্যাদির একাধিক ঘটনায় চিংড়ি ঘের সংলগ্ন গ্রামীন জনপদের সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতংক দেখা দিয়েছে। পুলিশ প্রসাশনও বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল । তা স্বত্ত্বেও অজ্ঞাত কারণে চুড়ান্ত ভাবে সমাধানে ক্ষালক্ষেপন হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমে সংঘাতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এনিয়ে আইন শৃংখলার ও অবনতি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

Post a Comment

0 Comments