রামু প্রতিনিধি
রামুর বাইপাসে অবস্থিত এনজিও অগ্রযাত্রার সীমাহীন দূর্ণীতির ফলে আর্ন্তজাতিক দাতাগোষ্ঠীর কাছে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। উক্ত এনজিও সেবার
নামে বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক দাতাসংস্থার কাছ থেকে মোটা অংকের প্রজেক্ট ও অর্থ বাগিয়ে নিয়ে ভূয়া কর্মকান্ড দেখিয়ে পুরো তহবিল আত্মসাৎ করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এনজিওর চেয়ারম্যান নীলিমা আকতার চৌধুরী অত্র রামু উপজেলার রশিদ নগর ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা এবং মহিলা হওয়ায়; তার ফায়দা লুটে নিয়ে আর্ন্তজাতিক ত্রাণ সংস্থার কাছে অসহায়ত্ব দেখিয়ে, বিভিন্ন অজুহাতে এসব কর্মকান্ড করে আসছেন। এছাড়া তার উক্ত কর্মকান্ডে তার স্বামী বিভিন্ন প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর হেলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে প্রজেক্টের বিভিন্ন পদ দখল করে বেতন ভাতা ভোগসহ এসব দূর্ণীতিতে সহায়তা করে আসছেন।
চট্টগ্রামের জামালখানে প্রেসক্লাবের বিপরীতে উক্ত এনজিওর প্রধান কার্যালয়। বিভিন্ন অঞ্চলে সেবার নামে কোন অনুমোদন ছাড়া ভূয়া ব্রাঞ্চ খূলে অকল্পনীয় দূর্ণীতি করে চলেছে অগ্রযাত্রা। দিনদিন এসব দূর্ণীতির ফলে আর্ন্তজাতিক দাতাসংস্থাগুলোতে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্ঠি হয়েছে।
বিগত বছর দুয়েক আগে বন্যা ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ প্রতিরোধের জন্য আর্ন্তজাতিক দাতা সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান এইড এর কাছ থেকে ডিজাস্টার প্রিপ্রেয়ারেডনেস ফর সাসটেইনেবল লিভলিহুড (ডিপিএসএল) নামে তিন বছর মেয়াদী একটি প্রজেক্ট বাগিয়ে নেয় অগ্রযাত্রা। যা এখনো চলমান রয়েছে। উক্ত প্রজেক্টে উপকারভোগীদের দূর্যোগ পূর্ববর্তী প্রস্তুতির প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ হেলমেট, রশি, টর্চলাইট, লাইফ জ্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরণের দূর্যোগ প্রতিরক্ষা উপকরণ বিলি করার তহবিল দেওয়া হয়। কিন্তু অগ্রযাত্রা সেখানে কিছুদিন কয়েকটি সেমিনার শো-ডাউন ও গুটিকয়েক উপকরণ বিলি করার পর, উপকারভোগীদের স্বাক্ষর জাল করেই বাকী ফান্ডগুলো আত্মসাৎ করেছেন। এ নিয়ে বিভিন্নবার হাজার ধরণের অভিযোগ ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনে অনিয়ম ধরা পড়লেও টাকা চাপা দিয়ে তিনি এসব কর্মকান্ড চুপসে দেন।
সর্বশেষ গত নভেম্বরে উক্ত এনজিও আরলি রিকভারী সার্পোট টু ফ্লাড ভিকটিমস ইন সাউথ ইষ্ট বাংলাদেশ (ইআরএসএফবিডি) নামে ছয় মাস মেয়াদী বন্যা দূর্গত এলাকা সমূহের উন্নয়নের জন্য ৩,৫৬,০০,০০০/- সাড়ে তিন কোটি টাকার একটি প্রকল্প ক্রিশ্চিয়ান এইড এর কাছ থেকে পুণরায় গ্রহণ করে। কিন্তু উক্ত প্রকল্প নিয়ে তিনি এলাকার কোন উন্নয়ন তো দূরের কথা, এলাকার কিছু গ্রামীণ রোড সংস্কারের নামে শো-ডাউন করে উপকারভোগীদের কার্ডে উপরোক্ত একই পদ্ধতিতে স্বাক্ষর জাল ও কার্ড করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ নিয়ে হাজার হাজার অভিযোগ উক্ত প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর সত্যাজিৎ রায়ের কাছে গেলে তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে আবার অজ্ঞাত কারণ বশতঃ চুপসে যান। ফলে সাড়ে তিন কোটি টাকার প্রজেক্টের প্রায় পুরোটাই তিনি অসাধারণ কৌশলে আত্মসাৎ করেন।
এ নিয়ে প্রতিবাদকারী সচেতন উপকারভোগীদের সদস্যপদ বাতিল, হুমকী ধমকী, মারধর ও জখমের ঘটনাও ঘটেছে। যানা যায় রশিদনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রমজান আলীর সহযোগিতায় নিলীমা চৌধুরী এসব বেআইনী কর্মকান্ড করে চলেছেন। রামু থানায় এ নিয়ে অসংখ্য অভিযোগ ও ডাইরী দায়ের হয়। সর্বশেষ বিগত ২৩/০৩/২০১৩ ইং তারিখ উক্ত ইউপি সদস্যের নামে এজাহার দায়ের করেন রশিদনগর ইউনিয়নের নির্যাতিত এক বৃদ্ধ। এজাহারে তাকে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মারধর ও জখমের অভিযোগ করা হয়। এজাহারে জানা যায় উক্ত বৃদ্ধের কাজের বিনিময়ে অর্থ কর্মসূচীর টাকা নিলীমা চৌধুরী ও ইউপি সদস্য মিলে আত্মসাৎ করেন। এজাহার করার পরেও নিলীমা চৌধুরী ও ইউপি মেম্বার এজাহার দাতার পরিবারকে অবিরত হুমকি ধমকি দিয়ে চলেছেন। এতকিছুর পরেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক এখনো পর্যন্ত কোন ধরণের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায়, উক্ত এনজিওর চেয়ারম্যান নীলিমা চৌধুরী ও ইউপি সদস্যের অদৃশ্যমান ক্ষমতা নিয়ে হতবাক অত্র উপজেলার জনসাধারণ।
তাছাড়া উক্ত এনজিওতে বিভিন্ন মামলার আসামী ও রোহিঙ্গাদের কর্মচারী হিসাবে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। উক্ত এনজিওর একাউন্টস অফিসার বাঁশখালী, চট্টগ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম এর নামে চট্টগ্রাম আদালতে অসংখ্য মামলা বিচারাধীন। এ নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক সরকারের উচ্চপর্যায়ের মহলে উক্ত এনজিওর নিবন্ধন বাতিলসহ, দূর্ণীতি’র বিরুদ্ধে রিপোর্ট পেশ করা হলেও নিলীমা চৌধুরী তার কালো টাকার ভারে প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে এসব তথ্য সরিয়ে ফেলেন ও নতুন নতুন প্রজেক্টে এবং সুকৌশলে অর্থ বাগিয়ে নিচ্ছেন।
অগ্রযাত্রার চেয়ারম্যান নিলীমা চৌধুরীর কয়েকটি মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে রামুর দায়িত্বরত অগ্রযাত্রার বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে আলাপ কালে জানায় যায, রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ, রশিদ নগর, রাজারকুল ইউনিয়নে কাজের বিনিময়ে কর্মসংস্থান কর্মসূচী কাজ এর মধ্যে সম্পন্ন হতে চলেছে। অন্যদিকে এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সচেতন মহল মনে করছেন কর্মসংস্থান কর্মসূচী একটি মহৎ কাজ হলেও অগ্রযাত্রার যারা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে সমন্বয় হীনতার অভাবে ব্যাপক দুর্ণীতির মাধ্যমে চলছে উক্ত কর্মসংস্থান প্রকল্প। এছাড়া বিগত কিছু দিন পূর্বে অগ্রযাত্রার চেয়ারম্যান নিলীমা চৌধুরীর সাথে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মধ্যে সংঘত কারনে দুরত্ব সৃষ্টি হয়। এতে করে অগ্রযাত্রার চলমান বা ভবিষ্যত প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি হয়েছে।
অগ্রযাত্রা কর্তৃক দিন দিন এসব দূর্ণীতি ও ভূয়া কর্মকান্ড দেখিয়ে অসহায় দরিদ্রদের সেবার নামে অর্থ ও প্রজেক্ট বাগিয়ে নিয়ে কোন সেবামূলক কর্মকান্ড না করে অর্থ আত্মসাতের কারণে আন্তর্জতিক দাতাসংস্থাগুলো এ দেশে সহায়তার স্পৃহা হারিয়ে ফেলছেন। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নসহ আর্ন্তজাতিক দাতাসংস্থাগুলোতেও বিরূপ মনোভাবের সৃষ্ঠি হচ্ছে। ফলে অবিলম্বে উক্ত এনজিওর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন এলাকাবাসীর।

0 Comments