Advertisement

পেকুয়ায় বিধ্বস্ত কাটাফাড়ি ব্রীজের নির্মাণে ধীরগতি, দুর্ভোগে তিন লক্ষাধিক মানুষ


পেকুয়ায় বিধ্বস্ত কাটাফাড়ি ব্রীজের নির্মাণকাজ ধীরগতি হওয়ায় পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী কুতুবদিয়া উপজেলার প্রায় তিন লক্ষাধিক
লোকজন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর কাটাফাড়ি বেইলি ব্রীজটি বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ তিনমাস যাবৎ দুই উপজেলার লোকজনের এক মাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। সরেজমিনে ব্রীজে গিয়ে জানা যায়, বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ বাশের সাকো দিয়ে হাজার হাজার নারী/পুরুষ তাদের মালামাল নিয়ে যেতে সীমাহীন কষ্ট পাচ্ছে। তাছাড়া উজানটিয়া, মগনামা ইউনিয়নের লোকজন তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পারাপারে আগের চেয়ে দ্বিগুন খরচ বেড়ে গেছে। ওই এলাকার লোকজন পেকুয়া বাজারে তাদের গৃহের গরু নিয়ে বেচা-বিক্রি করার জন্য বাশের সাকো দিয়ে আসতে পারে না।
তাদের নৌকা কিংবা বোট নিয়ে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। ফলে পেকুয়া, কুতুবদিয়া ও মগনামা, উজানটিয়ার প্রায় তিন লক্ষ লোকজনের দুর্ভোগ কবে শেষ হবে তা কেউ বলতে পারে না। জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর ভোর ৬ টার দিকে অতিরিক্ত পাথরবোঝাই ট্রাক পরিবহনের কারনে কাটাফাড়ি বেইলি ব্রীজটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ফলে কুতুবদিয়া উপজেলা, মগনামা, উজানটিয়া ইউনিয়নের সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে ওই এলাকার উৎপাদিত পণ্য। বিশেষ করে লবণ, চিংড়ি, শুটকি ও সামৃদ্রিক মাছ পরিবহন করতে না পারায় গত দুইমাস ধরে উক্ত পন্যগুলি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মিত বিধ্বস্ত বেইলি ব্রীজের দক্ষিণ পার্শ্বে নির্মিত বাঁশের সাকো দিয়ে লোকজন অতি কষ্টে ও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। জানা যায়, গত ২০০৬ সালের দিকে জোট সরকারের আমলে তৎকালীন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সালাহ উদ্দিন জনসাধারনের চলাচলের জন্য ৭২.৮ মিটার দীর্ঘ কাটাফাড়ি কংক্রিট ব্রীজের নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সমুদ্র স্মরনী নামের উক্ত ব্রীজের বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। ব্রীজের কাজ সামান্য হওয়ার পর কেয়ারটেকার আমলে ঠিকাদার গিয়াস উদ্দিন আত্মগোপন হওয়ায় ব্রীজের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই সময়ে ঠিকাদার পলাতক থাকায় ব্রীজের
কার্যাদেশ বাতিল হয়ে যায়। এরপর বর্তমান সরকারের চকরিয়া-পেকুয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি সাফিয়াখাতুন গত ১৪-১২-১০ ইং পুনরায় টেন্ডার আহবান করে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। উক্ত কাজ স¤পন্ন করার জন্য চকরিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ এক কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। ককসবাজারের ঠিকাদার ডায়মন্ত কাসেম কাজটি অর্ধেক করার পর অর্থের অভাবে আর কাজ করতে পারেনি। ব্রীজের নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় চোরচক্র ব্রীজের রড, কংকর, বালি ও অন্যান্য সামগ্রী দিন দিন চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এর আগেও বেইল ব্রীজটি বিধ্বস্ত হয়ে একজন লোকের অকাল মৃত্যু ও বহুলোকজন আহত হয়েছিল। এ দিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক উক্ত ব্রীজ দিয়ে ৫ টনের অধিক মালবাহী যানবাহন চালানো নিষিদ্ধ করলেও এর চেয়ে অধিক মালামাল পরিবহনের কারনে ব্রীজটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ফলে পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা ও কুতুবদিয়া উপজেলার প্রায় তিন লক্ষ জনসাধারন তাদের দরকারী মালামাল পরিবহন করতে পারছেনা। এমনকি ঝুকিপূর্ণ বাঁশের সাকো দিয়ে লোকজনকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে চকরিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল মোতালেব জানান, কাটাফাড়ি বেইলি ব্রীজের টেন্ডার হয়েছে। কাজটি পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইয়ামাং কৌং, ঠিকাদার ইব্রাহীম। বাজেট ২৫ লক্ষ টাকা। টেন্ডার হওয়ার পর কাজ শেষ করতে একমাস সময় লাগবে। তবে তিনি ব্রীজের কাজ অর্ধেক হয়েছে বলে দাবী করেন। তবে মাঠ পর্যায়ে শতকরা বিশভাগ কাজ হয়েছে। এলাকার সচেতন মহল মনে যে ভাবে ধীরগতিতে কাজ চলছে তাতে আগামী একমাসের ভিতর কাজ করতে পারবে কিনা সন্দেহ পোষন করছে। উজানটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম, শহিদুল ইসলাম জানান, আগামী ২১ ফেব্র“য়ারী কুতুবদিয়ার ঐতিহাসিক মালেক শাহ ওরশ শরীফ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রীজের কাজ সমাপ্ত না হলে সারাদেশের লোকজন ওরশ শরীফে আসা যাওয়ায় দারুণ দুর্ভোগে পড়বে। তিনি ওই ওরশ শরীফের আগে ব্রীজের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানান। পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়াত আজিজ রাজু জানান, কাটাফাড়ি ব্রীজটির দ্রুত নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে আমি চিঠি পাঠিয়েছি। এমনকি দ্রুত কাটাফাড়ি ব্রীজের নির্মাণ কাজ শেষ করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

Post a Comment

0 Comments