Advertisement

রাতের শহর যেন পতিতালয়

মোবারক উদ্দিন নয়ন
পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহর যেন পতিতাবৃত্তির আখড়ায় পরিণত। বিশেষ করে শহরের লালদীঘির পাড়, কোর্ট বিল্ডিং এলাকা, থানা রোডসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে অবাধ
চলছে ছলনাময়ী নারীদের দেহ ব্যবসা। প্রতিনিয়ত তাদের খপ্পড়ে পড়ে শহরে আসা পর্যটকসহ বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজনদের হতে হচ্ছে লাঞ্ছিত। এমনকি তাদের এই লালসায় পড়ে বাড়ি ফিরতে পারছেনা বহিরাগত থেকে শুরু করে স্থানীয়সহ হাজার হাজার লোকজন।
উল্লেখ্য, প্রাপ্ত অভিযোগে প্রকাশ, ওইসব পতিতাদের খপ্পড়ে পড়ে প্রতিদিন সর্বস্ব হারাতে হচ্ছে অনেকের। পরে তাদের পরিবার পরিজন ও সমাজের দৃষ্টিতে অপরাধী হওয়ার ভয়ে প্রতারিতরা মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেনা এবং ছিনিয়ে নিচ্ছে তাদের কাছে থাকা জিনিসপত্রও।
শহরের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতারক সুন্দরীরা অত্যন্ত ভদ্র বেশে, চমৎকার ও নিরব পরিবেশে লোকচক্ষুর অন্তরালে সন্দেহীন পরিবেশে তাদের প্রতিনিয়ত দেহ বাণিজ্য করে যাচ্ছে। অভাবের তাড়নায় খেয়ে না খেয়ে শহরে আয় রোজগার করতে আসা বিভিন্ন বয়সী নারীরা ছলনাময়ীদের হাতে জিম্মি হয়ে অনায়াসে এ কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। অন্যথায় তাদের কোন স্থান নাই মর্মে হুমকি ধমকি দিচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারীর আকুতি, এখানে এমন কিছু মেয়ে থাকে যাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান বলতে কিছুই নেই। এহেন অবস্থায় অন্য কোন উপায় না পেয়ে এই কাজে যোগ দিতে হচ্ছে।
পতিতাবৃত্তিতে থাকে এমন কিছু নারী তাদের কোনভাবে বাড়ি ফেরাতো দুরের কথা সমাজের কাছে পর্যন্ত মুখ দেখার ঠাই নাই। তারা বাড়ি থেকে কক্সবাজারে আসে সুন্দর একটি কাজের খোঁজে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, শহরে প্রবেশ করতে না করতেই পড়তে হয় নানান ধরনের কু-কীর্তির সাথে লিপ্ত থাকা অসাধু লোকদের কাছে।
সূত্রে জানাযায়, ওই সমস্ত ভদ্র বেশী বোরকা পরা পতিতাদের কার্যকলাপ ও চলাফেরায় এলাকার ও পাড়ার প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলেও লোকলজ্জার ভয়ে প্রতিবাদ না করায় অবাধে তাদের দেহ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। শহরের ঘোনার পাড়া, পাহাড়তলী, পেশকার পাড়া, সৈকত পাড়া, ঝাউতলা গাড়ির মাঠ, উত্তর টেকপাড়া, উত্তর তারাবনিয়ারছড়া, দক্ষিণ তারাবনিয়ার ছড়া, সাহিত্যিকা পল্লী, পূর্ব চৌধুরী পাড়া ও লিংক রোডসহ অনেক স্থানে ওই সব পতিতারা বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করে আসছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
শহরের একজন বয়োবৃদ্ধ জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত বেকার কিশোরীদের লোভ-লালসার মাধ্যমে ফান্দে ফেলে যৌন লোভী পুরুষদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে অজানা অচেনা পুরুষদের সাথে লেলিয়ে দেয়া। ইতিপূর্বে এ ধরণের বহু ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে। এলাকার সচেতন মহল তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিরোধ করার জন্য সাহস পাচ্ছে না। কেউ প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ করে প্রতিবাদকারীকে নারী-নির্যাতনের মামলা দেয়ার হুমকি দেয়। এভয়ে কেউ তাদের অপকর্মের প্রতিরোধ করতে সাহস পায়না।
পরিশেষে আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি সচেতনমহলের অভিমত, তাদেরকে এই কু-কর্ম থেকে উচ্ছেদ করে অন্যথায় যে কোনভাবে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার জন্যে দাবী জানিয়েছেন।

Post a Comment

0 Comments