Advertisement

টেকনাফে এজাহার নিয়ে নাটকীয়তা ঃ ওসিকে বদলীর মিশন ইয়াবা সিন্ডিকেটের : সর্বত্র তোলপাড়


সংবাদদাতা
টেকনাফ সেন্টমার্টিনে কোষ্টগার্ড কর্তৃক আটক মিয়ানমারের ইয়াবা গডফাডার ইব্রাহিম ও তথ্য পাচারকারী আমান উল্লাহ প্রকাশ এম আই পুতু ও তাদের দেশীয় সহযোগী
আব্দুর রহমানকে রবিবার আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। তাদের বিরোদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সহযোগীতার অপরাধে মামলা দায়ের করে কোষ্টর্গাড। এর আগে শনিবার সকালে সেন্টমার্টিন বাজারের একটি হোটেল থেকে কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদেরকে আটক করে ও একইদিন বিকালে তাদেরকে টেকনাফ থানায় সোপর্দ করে। এদিকে শনিবার দুই মিয়ানমার নাগরিককে টেকনাফে আটকের খবরে সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে। অপরদিকে আটককৃতদের সহযোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজনরা এদেরকে ছাড়িয়ে নিতে কলাকৌশল অবলম্বনের চেষ্টা চালায়। কিন্তু ধৃত ব্যক্তিদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্ব থেকে তথ্য থাকায় প্রশাসনকে বোকা বানানো যায়নি।  নতুবা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পুশব্যাক বা অন্য কোনভাবে তাদেরকে ছাড়িয়ে নিতে তৎপর ছিল ঐ মহলটি। এছাড়া শনিবার রাতে কোষ্টগার্ড এর এজাহার দায়ের নিয়ে চলে অনেক নাটকীয়তা। ধৃত ব্যক্তিদের তথ্য পাচারের ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চললেও শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে টেকনাফ থানায় দায়ের করা মামলায় শুধুমাত্র অনুপ্রবেশকারী হিসাবে ১৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। জানা গেছে, তথ্য পাচার আইনে মামলা না দিতে উপর মহল থেকে চাপ আসে। এ কারনে শনিবার সন্ধায় তাদেরকে টেকনাফ থানায় আনা হলেও মামলা দায়েরে মাঝ রাত পেরিয়ে যায়। এছাড়া আসামীদের রিমান্ডে না আনতে এবং আইনের ফাঁকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে একটি মহল থানা অফিসার ইনচার্জকে ম্যানেজ করতে চাই। তারা থানার কয়েক কর্মকর্তাকে ম্যানেজও করে ফেলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওসিকে ম্যানেজ করতে না পেরে এখন তারা থানা অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুল হককে অন্যত্র বদলী করার মিশনে ব্যস্ত।
এদিকে ধৃত ব্যক্তিদের ব্যাপারে প্রশাসনের সর্তকতার কারন অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, ধৃত দুই মিয়ানমার নাগরিক গোঠা আরাকান রাজ্যের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি। ধৃত আমান উল্লাহ প্রকাশ এম আই পুতু হচ্ছে মংডু এলাকার সাবেক নাসাকা প্রধান অং জে’র একান্ত কাছের লোক। তাকে দিয়েই অংজে মংডু ও বাংলাদেশ জলসীমাসহ গোঠা এলাকায় নাসাকা আধিপত্য কায়েম করে অবৈধভাবে কোটি টাকা আয় করতো। অপরদিকে ইব্রাহিম প্রকাশ পেটি ইব্রাহিম হচ্ছে গোঠা মংডু এলাকার ইয়াবার প্রধান ডিলার। বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের সিংহভাগ আসতো তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। আর এ ইব্রাহিম হচ্ছে টেকনাফের ইয়াবা সাইফুলের আপন মামা। টেকনাফে পাচার হয়ে আসা ইয়াবার মধ্যে সিংহভাগ নিয়ন্ত্রন করে এ মামা-ভাগ্নে সিন্ডিকেট। এদিকে ইব্রাহিম আটক হলেও তার ভাগ্নে সাইফুল টেকনাফে বহাল তবিয়তে রয়েছে। জানা গেছে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে তার হাত । টেকনাফে দায়িত্বরত একটি সংস্থার প্রধানের সাথেও তার সখ্যতার কথা লোকমুকে শোনা যায়। এ ছাড়া বৈধ ব্যবসাকে ঢাল দিয়ে  ইয়াবা  ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার কারনে সে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখে ধুলো দিতে সক্ষম হয়েছে। টেকনাফের ওয়াকিবহাল মহল দাবী করেছে, ধৃত ইব্রাহিম ও এম আই পুতুকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ইয়াবা সিন্ডিকেট ও দেশের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপের অনেক গুরুত্বপূর্ন তথ্য বেরিয়ে আসবে।
আর এ সুযোগে ইয়াবা সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের খুঁেজ বের করে আইনের আওতায় আনার প্রশাসনের সামনে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও তারা মনে করছেন। এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুবুল হক জানান, সোমবার ধৃত ব্যক্তিদের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে আদালতে। তিনি আরো জানান, অপরাধীরা যত শক্তিশালী হোক না কেন আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

Post a Comment

0 Comments