Advertisement

চকরিয়ার জিদ্দাবাজারে ৩৩ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় সাড়ে ২৫লাখ টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি, আসামীরা ধরা ছোয়ার বাইরে, বাদী বিপাকে


ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
চকরিয়া উপজেলার জিদ্দাবাজারে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা এক ব্যবসাযীকে মারধর করে ৩৩লাখ টাকা লুট করে নেয়ার ঘটনায় অবশেষে ১৯দিন পর চারজনের নাম
উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২জনকে আসামী দেখিয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।  অভিযোগপত্রটি পুলিশ সুপারের  জেনারেল রেজিষ্ট্রার নং ৫৫৭০ তাং ১১জুলাই/১২। এ মামলার বাদী হচ্ছেন কাকারা ইউনিয়নের স্কুল পাড়ার আবুল খাইরের পুত্র লুন্ঠিত টাকার মালিক ব্যবসায়ী আহমদ নবী। উল্লেখ্য যে, গত ২৩জুন রাত ৮টায় দূর্বৃত্তরা ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করে ৩৩ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। বর্তমানে অভিযোগটি কক্সবাজার সদর সার্কেল এসপিকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
  ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টাকা লুটের ঘটনায় জড়িতরা স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী। চকরিয়া থানা পুলিশ ওইদিন রাতে অভিযান চালিয়ে লুন্ঠিত সাড়ে ৭লাখ টাকা উদ্ধার করে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আসলেও অজ্ঞাত কারনে ঘটনার সাথে জড়িত কোন আসামীকে গ্রেফতার করেনি। সংশ্লিষ্ট একটি সুত্রে দাবী করা হয়েছে, পুলিশ কতৃক উদ্ধারকৃত টাকার পরিমান ১৫লাখ টাকা। তৎমধ্যে সাড়ে ৭লাখ টাকা উদ্ধার দেখিয়ে বাকি টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়ে যাওয়ায় পুলিশ এ মামলা গ্রহন করতে প্রথম থেকেই অনীহা প্রকাশ করে আসছিল। পরে পুলিশ সুপারের বরাবরে বাদীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামালা নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
  চকরিয়া শপিং কমপ্লেক্সের থ্রী ষ্টার ট্রাভেল এজেন্সীর মালিক কাকারা ইউনিয়নের এসএমচর স্কুল পাড়ার আলহাজ্ব আবুল খায়েরের পুত্র আহমদ নবী থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগে দাবী করেছেন, তাদের প্রতিষ্টানের ম্যানেজার একই ইউনিযনের পুলের ছড়া গ্রামের আবদুস ছালামের পুত্র মোঃ মুজিবুল হক(২৪) কে নিয়ে তারা গত ২৩জুন শনিবার সকাল ১০টায় একটি ছয়টনা জাপানী ডায়না হিনো পিকআপ ক্রয়ের জন্য চট্রগ্রাম শহরে যান। কিন্তু তারা গাড়ি ক্রয় করতে না পেরে ওইদিন রাত ৮ টার দিকে বাড়িতে ফেরার খবরটি ম্যানেজার মুজিবুল হক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সন্ত্রাসী মঈনুদ্দীন ও ইমনকে জানিয়ে দেয়। এসময় পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা জিদ্দাবাজার এলাকায় পৌছামাত্র গাড়ি থামিয়ে ব্যবসায়ী আহমদ নবীকে মারধর করে তার হাতে থাকা ব্যাগ ভর্তি ৩৩ লাখ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, লুট করে নেয়া ৩৩লাখ টাকা নিয়ে জিদ্দাবাজারের পূর্বপাশে মৌলভী বদরুদ্দৌজার পুত্র সাইকুল ইসলামের বাড়িতে ভাগবাটোয়ারায় বসে। পরে খবর পেয়ে  চকরিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার কামরুল আজম, এসআই কামাল হোসেন ও এএসআই আবদুল মোতালেব সাইকুলের  বাড়ি থেকে ১৫লাখ টাকা উদ্ধার করে। কিন্তু রহস্যজনক কারনে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্বদানকারী পুলিশ উদ্ধারকৃত টাকার পরিমান দেখায় সাতশ পিচ এক হাজার টাকার নোট ও পাঁচশ পিচ ৫শ টাকার নোটসহ সাড়ে সাত লাখ টাকা। মামলার বাদী আহমদ নবী দাবী করেছেন ৩৩লাখ টাকার মধ্যে একহাজার টাকা নোটের বান্ডিল ছিল ২৮টি ও পাঁচশত টাকা নোটের বান্ডিল ছিল ১০টি। ঘটনার পরদিন ২৪জুন থানা পুলিশ চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে উদ্ধারকৃত সাড়ে ৭লাখ টাকা জমা দেন।
 ব্যবসায়ী আহমদ নবী জানান, লুট হওয়া ৩৩ লাখ টাকার মধ্যে সাড়ে সাত লাখ টাকা উদ্ধার করা হলেও বাকী ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি। এ ব্যাপারে আহমদ নবী বাদী হয়ে তার মালিকানাধীন থ্রী ষ্টার ট্রাবেল এজেন্সির ম্যানেজার মুজিবুল হক, মো: মঈনুদ্দীন, জিয়াবুল হক ও রফিক আহমদের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা ১০/১২জনকে আসামী দেখিয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে টাকা লুটের ঘটনার ২৫দিন পরও লুন্ঠিত টাকা উদ্ধার ও এজাহার নামীয় আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশি কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় ব্যবসায়ী মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দাবী করেছেন লুন্ঠিত টাকার মধ্যে সন্ত্রাসীরা কার ভাগে কে কত টাকা পেয়েছে সে খবর এলাকার জনগনসহ থানা পুলিশ অবহিত থাকার পরও পুলিশের নিরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মামলার বাদীকে অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য আসামী পক্ষের লোকজন ও তাদের আত্বীয় স্বজনরা হুমকি দিচ্ছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত টাকা মালিক ব্যবসার টাকা হারিয়ে পথে বসেছে। অপরদিকে সন্ত্রাসীদের একের পর এক হুমকি দেয়ায় বাদী পক্ষের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় মধ্যে দিনাতিপাত করছে।

Post a Comment

0 Comments