Advertisement

মহেশখালীতে মুক্তিযোদ্ধা মেলার নামে অশ্লিলতা: হাজার হাজার জনতার বিক্ষোভ, সমাবেশ


মোহাম্মদ আবুতাহের মহেশখালী
মহেশখালীর আদিনাথ এলাকায় সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা মেলার নামে উলঙ্গ নৃত্য ও মদ জুয়া বন্ধের দাবীতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার তৌহিদি
জনতা। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্বারকলিপি দেন। এসময় এক কিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এই অশ্লিলতা বন্ধ না হলে কঠোর অন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা করেছে। সূত্র জানায়, সম্প্রতি এই মেলার নামে এমন কোন অশ্লিলতা নেই যা এখানে হচ্ছেনা। এখানে বিশাল এলাকা বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলে যাত্রা ও পুতুল নাচের নামে এই অশ্লিলতা চালানো হচ্ছে। স্বরকলিপিতে বলা হয়, কিছু কুচক্রি মহল মেলার নামে অশ্লিল, বেহায়াপনা ও অসমাজিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তারা দ্রুত তা বন্ধের দাবী জানান। তাছাড়া এর আগে এসব বেহায়াপনা বন্ধের দাবীতে ৩১ মে সন্ধ্যায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও পৃথক পৃথক সমাবেশ হয়। বাদ মাগরিব বড় মহেশখালী নতুন বাজার মাঠে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। গতকাল শুক্রবার বাদ আছর পৌরসভার গোরকঘাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে সর্বস্থরের তৌহিদি জনতা, ইমাম সমিতি ও বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রত্যান্ত এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি পৌরসভার চৌরাস্তার মোড় পয়েন্টে এসে জনসভায় রুপনেয়। এসময় মাওলানা মকবুল হেসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মহেশখালী পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মকছুদ মিয়া, বক্তব্য রাখেন বড় মহেশখালী বণিক সমিতির সভাপতি সিরাজমিয়া বশি, সাংবাদিক মাহবুব রোকন, যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ বেলাল, গোরকঘাটা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মৌলানা আবু ছালেহ প্রমুখ। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল সহ প্রতিবাদকারিরা স্মারকলিপি দিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ঘেরাও করে। এসময় উপজেলা কম্পাউন্ডে প্রবেশের মূল গেইট ভেতর থেকে বন্ধ করে দিলে বিক্ষোভকারিরা আরো উত্তেজিত হয়ে উঠে।
অনুমোদনের বাইরে বিভিন্ন অশ্লিলতা ও ২৭ মে রাতে পুলিশের এক এএসআই এর উপস্তিতে জুয়া খেলা চালানোর একটি তথ্য নির্ভর সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তোলপাড় পড়ে যায়। মেলা সংশ্লিষ্ট কিছু দূনীর্তিবাজ লোকজন এনিয়ে কোন সংবাদ পত্রিকায় না আসতে মোটা টাকার মিশন নিয়ে নানা ভাবে তদবীর শুরু করে। শেষ পর্যন্ত মুসল্লিরা ফুঁসে উঠলে গতকাল কৌশলে মেলার কার্যক্রম বন্ধে রাখা হয় বলে সুত্রে প্রকাশ। বক্তারা পুলিশ প্রশাসনের লোকজন টাকা নিয়ে এই বেহায়াপনার সুযোগ দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে দ্রুত এই অশ্লিলতা বন্ধের দাবী জানান। ১৯৯৮ সালে এখানে এধরণের বেহয়াপনা চলার সময় তৌহিদি জনতা আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বক্তারা বলেন, দ্রুত এই অশ্লিলতা বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

Post a Comment

0 Comments