ডেস্ক রিপোর্ট
বর্তমান সময়ে সাংবাদিকের ওপর হামলা হচ্ছে, এতে অন্য সাংবাদিক বসে থাকবে এটা হতে পারে না। সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নকে
সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করতে হবে। গতকাল সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সারাদেশে অব্যাহতভাবে সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতনের প্রতিবাদ ও দায়ীদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের সাদাদল এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। সাদা দলের আহবায়ক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সদরুল আমিনের সভাপতিত্বে সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান খান, মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, বিজ্ঞান অনুষদের সাবে ডিন অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলাম, অধ্যাপক ড. জাহিদ হাসান, অধ্যাপক ড. আব্দুর রশিদ, অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত, অধ্যাপক আখতার খানসহ সাদা দলের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। কলা অনুষদের ডীন সদরুল আমিন বলেন, সাংবাদিকরা দেশের কণ্ঠস্বর ও দেশের বিবেক। সাংবাদিকরা সামাজের আয়নার মত। কিন্তু এই সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রথম আলোর তিন ফটো সাংবাদিককে পুলিশ পিটিয়েছে, অনলাইন সংবাদপত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরডটকমের ১০ জন কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে এবং আদালতে সাংবাদিকরা পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হচ্ছেন। এই ধরনের কাজ বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মাঝে কেন বিভ্রান্তি থাকবে। একজন সাংবাদিক ভাই নির্যাতিত হবে। অন্য একজন সাংবাদিক বসে থাকবে, এটা হতে পারে না। তাই একজনের সমস্যা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে। সদরুল আমিন আরো বলেন, যারা সাংবাদিকদের নির্যাতন করছে সরকার তাদের প্রমোশন দিচ্ছে। শাস্তির বদলে তাদেরকে পুরষ্কৃত করা হচ্ছে। তাজমেরী এস ইসলাম বলেন, সাগর-রুনি থেকে শুরু করে বর্তমানে সাংবাদিকদের উপর নির্য়াতন করা হচ্ছে। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এই ধরনের নির্যাতন হয় কি না সন্দেহ। সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনে সাংবাদিকদের প্রতিবাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশের মিডিয়া কর্মীদের উপর যে নির্যাতন, এই নির্যাতনে সাংবাদিকদের যে প্রতিবাদ হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। সাংবাদিকদের মেরুদ সোজা করে দাঁড়াতে হবে। এই ধরনের নির্যাতনের প্রতিবাদ না করলে আরো নির্যাতনের ঘটনা বাড়বে। সরকারের ডিজিটাল স্লোগানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলছে। এটা ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়ার কথা নয়, সরকার ডিজিটাল সাজার পাঁয়তারা করছে।
কারণ ডিজিটালের অংশ হচ্ছে অনলাইন সংবাদপত্র। কিন্তু দেশের অনলাইন সংবাদপত্র ও সংবাদকর্মীদের উপর হামলা করা হচ্ছে। এই হামলাকারী বিচার শাস্তির দাবি জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদাদলের এই অধ্যাপক। আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বলেন, সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা জন্য তাদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে যেন সরকারের বিরোধী কোনো সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশ করতে না পারে।

0 Comments