বার্তা পরিবেশক:
কানিজ ফাতেমা সায়মা হক এবারের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মানবিক বিভাগে একমাত্র জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রী। যার সববিষয়ে ( গোল্ডেন) জিপিএ-৫ এর
নাম্বার পেয়েছে। সামিয়া হকের ইচ্ছা লেখাপড়া করে আদালতের বিচারক হবে। উদ্দেশ্য, সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্টা করা। কিন্তু দরিদ্র কৃষক বাবার পক্ষে তার ইচ্ছা পুরণ কী সম্ভব ?
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার শাহারবিল বিএমএস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সায়মা হক এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তার বাবা মো. জুনাইদুল হক পেশায় কৃষক, মা শাহিদা পারভিন গৃহিনী। পরিত্যক্ত ৮ শতক জমির উপর ছন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে তৈরি ছোট্ট ঘরে তাদের পাঁচ সদস্যের সংসার। তিন ছেলেমেয়ের লেখাপাড়ার খরচ যোগাড় করা কৃষক বাবার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ঘরে বিদ্যুৎ নেই। নেই পড়ালেখার সুষ্টু পরিবেশ। তারপরও খেয়ে নাখেয়ে সায়মা হক লেখাপড়া করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সেরা কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
সামিয়া হক জানায়, টাকার জন্য স্কুলের কোচিং করতে পারি নাই। পারি নাই প্রাইভেট পড়তে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার জাকির হোসেন ও সমাজসেবা কর্মকর্তা ফরিদুল আলম অর্থসহায়তা নাদিলে এসএসসি পরীক্ষার ফরমও পুরণ করা সম্ভব হতনা। এই স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হতোনা। এজন্য আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ।
সামিয়া জানায়, কষ্ট করে লেখাপড়া করেছি বলে সববিষয়ে মানবিক বিভাগেও জিপিএ-৫ পেয়েছি। কোনদিন পাঠ্যবই মুখস্থ করতাম না। খেয়ে নাখেয়ে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে স্কুলে আসাযাওয়া করেছি।
সামিয়া হক জানায়, লেখাপড়া করে আদালতের বিচারক হতে চাই। তারপর সমাজের ন্যায় বিচার করব। গরীব মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করব। কিন্তু বাবার অবস্থাতো খারাপ। চট্টগ্রাম অথবা ঢাকায় গিয়ে ভাল কলেজে পড়ালেখা করানোর জন্য খরচ চালানো সম্ভব হবেনা। এনিয়ে মহাদুশ্চিতায় আছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, সুযোগ পেলে এই সায়মা হক মেধার বিকাশ ঘাটাতে পারবে। অন্যতায় অজপাড়া গাঁয়ে হারিয়ে যেতে পারে। তাই তার সাহাযার্থে সমাজের সকলের এগিয়ে আসা উচিত।
সাহায্য পাঠাবার ঠিকানা ঃ
মো. জুনাইদুল হক, মুদারাবা সঞ্জয়ী হিসাব নং-৪৫৪৫২,
ইসলামি ব্যাংক, চকরিয়া, কক্সবাজার।

0 Comments