Advertisement

উখিয়ায় বনভূমিতে ১৩ হাজার অবৈধ বসতবাড়ী : মাসোহারা পান অসাধুরা

কায়সার হামিদ মানিক
উখিয়া ২ রেঞ্জের অধীনে সাড়ে ৪১ হাজার একর সরকারী বনভূমি রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার একর জমি চলে গেছে ভূমিদস্যুদের দখলে। ওই পাহাড়ী জমিতে সামাজিক বনায়নের গাছ ও সরকারী বনভূমির বাগান নিধন করে অবৈধভাবে বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ১৩ হাজারের অধিক। তবে উখিয়া সদর রেঞ্জ ও ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা সরকারী বনভূমি বেদখল ও বসতবাড়ী তৈরির তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। উখিয়ার টিএন্ডটি এলাকায় পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে রাতদিন সামাজিক বনায়নের গাছ নিধন করে লাখ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ বিক্রি ও বনভূমির দখল বিক্রি করছে শীর্ষ সন্ত্রাসী জনৈক আবদু সালাম। গতকাল তার অবৈধ দখল বিক্রির বনভূমির ছবি ধারন করতে গিয়ে উখিয়ার এক সংবাদকর্মীকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উখিয়া সদর রেঞ্জের ৮টি বিটের অধীনে সরকারী বনভূমি রয়েছে ২১ হাজার ৪শত একর। ইনানী রেঞ্জের ৪টি বিটের অধীনে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার একর বনভূমি। ইনানী মৌজার জমি বিক্রয় মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় তারা নিজের জমি বিক্রি করে সরকারী পাহাড়ী অবৈধভাবে দখল করে বাড়ীঘর নির্মাণ অব্যাহত রাখছে। ইনানী রেঞ্জের অধীনে প্রায় ৬ হাজারের অধিক সরকারী বনভূমির জায়গা ভূমিদস্যুরা দখল করে ৫ হাজারের অধিক অবৈধভাবে বসতবাড়ী নির্মাণ করছে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়। উখিয়া সদর রেঞ্জের আওতায় প্রায় ৯ হাজার একর সরকারী বনভূমির জমি বেদখল হয়ে গেছে। ওই বেদখল হওয়া জমিতে প্রায় ৮ হাজারের অধিক অবৈধ বসতবাড়ী নির্মাণ করা হয়েছে। রাজাপালং ইউনিয়নের টিএন্ডটি এলাকায় ভূমিদস্যুরা সরকারী বনভূমির বাগান নিধন করে প্লট আকারে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রয় করে দিচ্ছে। উখিয়ার সদর বিট কর্মকর্তা কর্মচারীদের টাকার বিনিময়ে ভূমিদস্যুরা বনভূমির দখল বিক্রি সহ বসতবাড়ী নির্মাণ করলেও বনবিভাগের কর্মকর্তাদের ঘুম ভাঙছে না। জানা গেছে, থাইংখালী, কুতুপালং, টিএন্ডটি, মধুরছড়া, দোছড়ি, হরিণমারা, ভালুকিয়া, পূর্ব দরগাহবিল, হাঙ্গরঘোনা, তুতুরবিল, পাইন্যাশিয়া, পালংখালী, উখিয়ার ঘাট, জামতলী, মনখালী, ছেপটখালী, ইনানী জুমছড়া, বালুখালী সহ বিভিন্ন এলাকায় বনবিভাগের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের সহযোগীতায় ভূমিদস্যুরা বনভূমির জায়গা দখল করে বন নিধন করার পর প্লট আকারে বিক্রয় ও বসতবাড়ী নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে টিএন্ডটি এলাকায় নির্মাণাধীন অবৈধ বসতবাড়ীর ছবি ধারণ করতে গিয়ে উখিয়ার এক সংবাদকর্মীকে সন্ত্রাসী ছৈয়দ নুরের পুত্র আবদু সালাম সহ আরো কয়েকজন দা, ছুরি নিয়ে ধাওয়া করে প্রাণ নাশের হুমকী দিয়েছে। জানা গেছে, উখিয়া সদর বিট কর্মকর্তাকে উৎকোচ দিয়ে সে ৬/৭দিন আগে একটি অবৈধ বসতবাড়ী নির্মাণ করে। এব্যাপারে জানতে চাইলে উখিয়ার সহকারী বনসংরক্ষক বশিরুল-আল মামুন সদর রেঞ্জের আওতায় কি পরিমান সরকারী বনভূমি বেদখল হয়েছে এবং কি পরিমান বসতবাড়ী নির্মাণ করা হয়েছে তার কোন সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। একইভাবে তথ্য দিতে পারেনি ইনানী রেঞ্জ কর্মকর্তা সুনীল কুমার দেবরায়। অভিযুক্ত আবদু সালাম জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে বনভূমির জায়গার উপর বসবাস করে আসছি। সম্প্রতি বনভূমির দখল বিক্রির ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা আমাকে দোশারারূপ করলেও মূলত এপর্যন্ত আমি বনভূমির জায়গা বিক্রি করিনি।

Post a Comment

0 Comments