আবদুর রাজ্জাক,মহেশখালী:
সোনালী ব্যাংক মহেশখালী শাখার ম্যানেজার আবুল বশর এসএমই,সিসি,লবন ও পানের বরজের ঋন দেওয়ার নামে এলাকাবাসীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ
টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই আলোচিত সমালোচিত ব্যাংক ম্যানেজার আবুল বশরের চকরিয়ায় বদলীর খবর প্রকাশ হলে গত ৭ জুন বিকালে এলাকার শত শত মানুষ ব্যাংকে ছুটে এসে ভিড় জমায়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাদের কাছ থেকে থেকে ঋন দেওয়ার নামে নেওয়া ঘুষের টাকা ফেরৎ দাবী করলে ম্যানেজার প্রথমে তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জনতা মারমুখি অবস্থানে গেলে পরে সে জনতার রোষানল থেকে বাচাঁর জন্য বিভিন্ন জনের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ৫০’লক্ষ টাকার মধ্যে শাহাদাৎ করিমকে ২৯’হাজার টাকার চেক,মৎস্যজীবীলীগের সেক্রেটারী জাফর আলম জাবের মেম্বারকে ৬’হাজার টাকার চেক,মারেফুল হককে ৫৫’হাজার টাকার চেক, থানা পাড়া এলাকার মমতাজ আহমদের পুত্র জাহাঙ্গীরকে নগদ ৮’হাজার টাকা,রাজ্জাককে নগদ ১৫’হাজার টাকা,আবদুল হাকিমকে নগদ ৫’হাজার উৎকোচ বাবদ নেওয়া নগদ ও চেকের মাধ্যমে প্রায় দু’লক্ষ টাকা তাৎক্ষনিক ফেরৎ দিয়ে বাকীদেরকে আগামী রোববার দিবে বলে হাতে পায়ে ধরে কোন রকমে পুলিশের সহযোগিতায় মহেশখালী থেকে সটকে পড়ে। এদিকে ম্যানেজার ঘুষের টাকা ফেরৎ দেওয়ায় ঘটনা পুরো মহেশখালীতে আলোড়ন সুষ্টি হয়।এদিকে বড় মহেশখালী বড় ডেইল এলাকার মৃত আমীর হামজার পুত্র মোস্তাক আহমদ জানান, আমরা ২২ জন প্রকৃত পান চাষী ঋণ নেওয়ার জন্য পানের বরজের খতিয়ান ও মুল কপি দিই। ম্যানেজার আমাদেরকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে প্রথম দফায় ম্যানেজার নিজে ৩৫’হাজার টাকা,২য় দফায় ৭’হাজার টাকা, ৩য় দফায় তার লোক রানার মাধ্যমে ১০’হাজার টাকা ও পরে আনচারের মাধ্যমে ১০’হাজার টাকা সর্বমোট ৬২’হাজার টাকা আমাদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার পর ও অদ্যবদি আমরা কোন ঋণ না পেয়ে আমাদের পরিবার পরিজনদের নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। আমরা আমাদের টাকা ফেরৎসহ যথাযথ বিচার দাবী করছি।
অপরদিকে মহেশখালীর বহুল আলোচিত সমালোচিত ব্যাংক ম্যানেজার আবুল বশরের এ বদলীর সংবাদ শুনে ঋণ বঞ্চিত প্রকৃত পানচাষীরা মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উল্লাস করতে দেখা গেছে।
সূত্রে জানা যায় মহেশখালী উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ পানচাষীদের উৎসাহ করতে সরকার স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার ঘোষনা করে। উপজেলার সর্বস্তরের কৃষি ও পানচাষী সমবায় সমিতি চাষীদের পক্ষে এ ঋণ বরাদ্দ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট বহুবার আবেদন করে ঋণ মঞ্জুর করে। এদিকে এ ঋণ বিতরনে স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ নেয় ম্যানেজার বশর। বিভিন্ন দালাল সিন্ডিকেট তৈরি করে ভূয়া লোকজনকে পানচাষী সাজিয়ে কমিশন ভিত্তিতে ঋণ প্রদান করে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রকৃত পানচাষীরা বার বার সোনালী ব্যাংকের শাখা ম্যানেজারের অনিয়ম দূর্নীতির বিরোদ্ধে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করে। পানচাষীদের ঋণ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোনালী ব্যাংকের মহেশখালী শাখায় একাধিক বার মারমুখি ঘটনার সৃষ্টি হয় কয়েক মাসের মধ্যে। উপজেলার সর্বস্তরের কৃষি ও পানচাষী সমবায় সমিতি ব্যাংক ম্যানেজার কর্তৃক চাষীদের হয়রানী থেকে পরিত্রান পেতে উচ্চ পর্যায়ে আবেদন করে। ম্যানেজার বশরের অনিয়ম তদন্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের একাধিক দপ্তর থেকে তদন্ত টিম এসে তদন্ত করে মহেশখালী সোনালী ব্যাংকে। গতকাল মহেশখালী সোনালী ব্যাংক এর শাখা ব্যবস্থাপক আবুল বশর বদলী হয়ে চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ব্রাঞ্চে চলে যাওয়া সংবাদ পেয়ে অসংখ্য পানচাষী এসে সোনালী ব্যাংকে ভিড় জমায় এবং ম্যানেজারকে ঋণের জন্য দেওয়া টাকা ফেরত দাবী করে। এ সময় ঋণ নিয়ে দেওয়ার নামে ফাইল তৈরি করা সিন্ডিকেট দলের দালালরা গাঁ ঢাকা দেয়। পানচাষী ছাড়াও বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের এস,এম,ই ও সি,সি ঋণের জন্য ঘুষ গ্রহনের টাকা ফেরত নিতে এক প্রকার হই-হুল্লাড় সৃষ্টি হয় এবং আরোও জানা যায় যে সোনালী ব্যাংকে অসংখ্য ঋণ বিতরনের ফাইল জমার সাথে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা মত ম্যানেজার বশর হাতিয়ে নিয়েছে। অবশেষে জনতার রোষানল থেকে মুক্তি পেতে কিছু কিছু পানচাষীদের প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা ফেরত টাকা নগদ ও চেকের মাধ্যমে ফেরত দেয় পরবর্তীতে কিছু লোকের সাথে ম্যানেজার বশরের বাঁক-বিতন্ডা হলে সংবাদ পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মহেশখালী সোনালী ব্যাংকে পুলিশ নিরাপত্তা নিয়োজিত ছিল। এ ব্যাপরে ব্যাংক ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উত্তাপিত অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবী করেন।

0 Comments