সেলিম উদ্দীন,ঈদগাঁও
বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার নামে জমজমাট জুয়ার আসরে স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকা। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও জেলার শীর্ষ স্থানীয় জুয়াড়ি সম্রাটরা জুয়ার
উর্ভর ভূমি হিসাবে বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকাকে ব্যবহার করে আসছে কয়েক দশক ধরে। অন্য বছরের ন্যায় চলতি বছর ও বলীখেলার আড়ালে জুয়াখেলার কয়েকটি সফল আয়োজনের পর চিহ্নিত জুয়াড়ি চক্র আবারো কয়েকটি স্থানে বলীখেলা অনুষ্ঠানের ব্যাপারে মাইকিং করতেছে। গত সপ্তাহে পোকখালী নতুন বাজার সংলগ্ন বিল ও নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় দুইটি তথাকতিত বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার আড়ালে জমজমাট জুয়ার আসরের সফল ও লাভ জনক আয়োজন ও সমাপ্তির পরে জুয়াড়ি চক্র দ্বিগুণ উৎসাহ উদ্দিপনা নিয়ে আরো বলীখেলার আয়োজনের জন্য মাঠে নেমেছে। উল্লেখিত বলীখেলা ও জুয়ার আয়োজনের আগে জুয়াড়িরা পুলিশ প্রশাসনকে মোটা অংকের টাকায় বশীভুত করে ফেলে। ফলে গত সপ্তাহে বলীখেলা চলাকালীন সময়ে রকমারী জুয়ার জমজমাট আসর সম্পর্কে পত্রপত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ এ ব্যাপারে রহস্যজনক ভাবে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এমনকি স্থানীয় সাংবাদিকগণ উক্ত জুয়া বন্ধের ব্যাপারে জেলা পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে অবহিত করলেও পুলিশের টনক নড়েনি ও পুলিশ তৎপর হয়নি। ফলে জুয়াড়িরা আরো বেপরোয়া হয়ে নিত্য নতুন উদ্দমে বৈশাখী মেলার আড়ালে জুয়ার আয়োজনে নেমে পড়েছে। কয়েকদিন ধরে এ সংক্রান্ত মাইকিংয়ের কারণে এলাকাবাসী কান ঝলপালা হওয়ার উপক্রম হয়েছে। চৌফলদন্ডী খোনকারখীল ভাই ভাই সমিতির উদ্যোগে ১৩ মে থেকে তিন দিন ও পোকখালী নতুন বাজার এলাকায় অপর জুয়াড়ি চক্রের উদ্যোগে ১৪ মে থেকে তিন দিন ব্যাপী বলীখেলা অনুষ্ঠানের ব্যাপারে ৩/৪দিন আগে থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আয়োজক জানান যে, আগের মত এবার ও তারা পুলিশ প্রশাসনকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে রেখেছেন। তাই বলীখেলা অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কোন সমস্যা হবেনা। উল্লেখ্য যে, বৈশাখী মেলা ও বলীখেলার ব্যানারে আয়োজিত এসব মেলায় রকমারী নাম ও প্রকারের জুয়ার আসর বসানো হয়। এর মধ্যে ছয় গুটি, তিন গুটি, কেরকেরি, তিন তাস, বাঘ গরু, হারু খেলা ও কার্ড চয়েস অন্যতম। আর এসব জুয়ার টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে এলাকার যুব সমাজ ছিনতাই,চুরি এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়তেছে। ফলে এলাকায় অপরাধ বেড়েযাচ্ছে আশংকা জনক হারে। আর সব চেয়ে বিড়ম্বনা শিকার হচ্ছে স্কুল,কলেজ মাদ্রাসাগামী ছাত্রীরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সময় বলীখেলাগামী উঠতি তরুণ যুবকদের বিভিন্ন অরুচিকর ও তীর্যক মন্তব্য হজম করতে তাদের। আর প্রতিটি বলীখেলায় দিনে জুয়ার আসর শেষে রাত্রে আয়োজন করা হয় অশ্লীল নাচ গানের। গত সপ্তাহে এরকম একটি বলীখেলায় রাতে নাচ গানের সময় মাইকের বিকট শব্দের কারণে এলাকাবাসী ঘুমের ব্যাঘাত হওয়ার ফলে স্থানীয় এক সংবাদকর্মী ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের আইসি কবির হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি পরামর্শ দেন যে, ভাই ঘুমিয়ে পড়েন, ঘুমিয়ে পড়লে আর মাইকের শব্দ শুনা যাবেনা। বৈশাখী মেলার আড়ালে জমজমাট জুয়া ও নাচ গানের আসর বন্ধ করতে এলাকাবাসী প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

0 Comments