Advertisement

প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন চকরিয়ায় বলিখেলা ও গরুর লড়াইয়ের নামে জমজমাট মদ-জুয়ার আসর


এম রায়হান চৌধূরী
চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গত ১লা বৈশাখ থেকে শুরু হয়েছে বলি খেলা ও বৈশাখী মেলার নামে জমজমাট মদ ও জোয়ার আসর। বৈশাখী মেলা ও বলি খেলায়
হাতে গোনা কজন (কুস্তিগীর) বলি খেলা প্রদর্শন করা হলেও হারিয়ে যেতে বসেছে গরুর (ষাড়ের) লড়াই। তবে মেলায় জমজমাট হয়ে উঠেছে হরেক রকমের জুয়ার আসর। এসব জুয়ার আসরে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় পড়–য়া ছাত্রসহ বিভিন্ন স্থরের দিন মুজুর ও খেটে খাওয়া সাধারন লোকজন লোভের তাড়নায় অংশ নিয়ে টাকাসহ সব কিছু হারিয়ে ফতুর হচ্ছে যাচ্ছে। এসব অঘোষিত ও ক্ষতিকর জোয়ার আসর নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে বাড়ছে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা । জুয়ার আসরের টাকা যোগাতে গিয়ে এলাকার উঠতি বয়সের যুবক ও স্কুল কলেজের ছাত্ররা বিপদগামী হচ্ছে। জোয়ার টাকা যোগাড় করতে গিয়ে উপজেলার বেশ কটি ইউনিয়নে চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইসহ নানান অপরাধের ঘটনা আশঙ্কা জনকহারে বেড়ে গেছে বলে মন্তব্য করছেন এলাকার সচেতন মহল।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, এলাকার একশ্রেনীর অসাধু লোকজন জড়ো হয়ে সিন্ডিকেট জোয়াটিদের সাথে আতাত করে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে মৌখিক ভাবে অলিখিত চুক্তির মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৫/৬টি স্থানে বৈশাখী মেলা, বলি খেলা ও গরুর লড়াইয়ের নামে এসব অসামাজিক কার্যকলাপ বিনা বাধায় চলছে। আরোও অভিযোগ রয়েছে বৈশালী মেলার আয়োজন কারীরা ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে তিন-চার দিনব্যাপী এসব মেলার অনুমোদন নিয়ে জমজমাট এ অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে গেলেও পুলিশ প্রশাসন রহস্যজনক নিরব ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। উপজেলার খুটাখালী, ডুলাহাজারা, চিরিংগা, পূর্ব বড় ভেওলা, বিএমচর ও বদরখালী ইউনিয়নে এসব মেলার প্রচলন বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা এসব মেলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের চাপের মূখে বৈশাখী মেলার অনুমোদন মেলে সহজে। এসব মেলায় বলি খেলা ও গরুর লড়াইয়ের নামে চালানো হচ্ছে ছয়গুটি, কেরকেরী, হাউজি, রিং, তাজ ও লাকী কুপনসহ বিভিন্ন ধরনের জোয়ার আসর। এসব জোয়ার আসরে প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। অনেক সময় জোয়ার খেলার টাকা ভাগভাটোয়ারা নিয়ে চলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। মূলত বলি খেলা ও গরুর লড়াইতে বলি (কুস্তিগীর) বা গরুর দেখা না মিললেও দেখা মিলে ডজন ডজন জোয়ার আসরের। এসব জোয়ার আসরে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বাংলা মদ আর গাঁজা।
সচেতন এলাকাবাসিরা জানায়, একসময় গ্রামীন জনপদের সাধারন মানুষকে আনন্দ যোগাতে প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে উপজেলার কয়েকটি স্থানে চৈত্র-বৈশাখ মাসে আয়োজন করা হতো বৈশাখী মেলার। মেলার অন্যতম আর্কষন ছিলো বলি (কুস্তি) খেলা ও গরুর (ষাড়ের) লড়াই। মেলাকে ঘিরে পরিণত হতো অনেকটা উৎসবের আমেজ। কিন্তু কালের আবর্তে এখন মেলার সেই পুরানো ঐতিহ্য নেই বললেও চলে। কুস্তির পরিবর্তে মেলায় চালানো হচ্ছে নান অসামাজিক কার্যকলাপ। মেলায় আগত কয়েক জন দর্শনার্থী জানান, এসব মেলা গুলোতে হাতে গোনা কজন কুস্তিগীর দিয়ে বলি খেলার নামে শুধু আইওয়াশ করা হচ্ছে। মেলা কমিটির অর্থ লিপ্সুতার কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামীণ জনপদের পুরানো দিনের শখের বলি খেলা ও গরুর লড়াই। তবে এসব না থাকলেও মেলায় আছে হরেক রকমের জমজমাট জুয়ার আসর। এসব জুয়ার আসরে অংশ নিয়ে এলাকার সাধারন মানুষ প্রতিনিয়ত টাকা হারিয়ে নি:স্ব হচ্ছে। এ কারনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে সমাজে। এলাকার মানুষের মাঝে বাড়ছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা। ইতোমধ্যে গতমাসে উপজেলার খুটাখালী ও ডুলাহাজারা ইউনিয়নে বৈশাখী মেলার নামে জুয়ার আসর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন এ মেলার অনুমতি প্রদানে ইতিবাচক ভুমিকা রাখায় সচেতন মহলে এ নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার সচেতন মহল আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নের স্বার্থে এসব মেলার অনুমোদন বন্ধে প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করেছেন। এলাকার সচেতন মহল দাবী করেছেন গত ১মাসের ব্যবধানে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় অর্ধ শতাধিক বলি খেলা ও গরুর লড়াই অনুষ্টিত হযেছে। আগামী জৈষ্ট মাস পর্যন্ত আরোও শতাধিক বলিখেলা ও গরুর লড়াইয়ের নামে জমজমাট জোয়ার আসরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও  নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জোয়াটি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

Post a Comment

0 Comments