এম. রায়হান চৌধুরী, চকরিয়া
তামাক ক্রয়ে বিরুদ্ধে ওজন কারচুপি ও গ্রেডিংয়ে ব্যাপক কারচুপি প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ট্যোবাকো কোম্পানী ভিত্তিক দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।
এমনকি ওসব কোম্পানী গুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রন করে তামা কের ক্রয়ে সঠিক মুল্য না দেয়ায় প্রতারিত হচ্ছে কয়েক হাজার কৃষক।
সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক জানান, চাষীরা তামাক বিক্রি করতে গিয়ে ট্যোবাকো কোম্পানী গুলোর হাতে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে। চাষিদের এসব অভিযোগ ইউএনওকে অবহিত করা হয়েছে। কয়েকদিন পুর্বে তিনি ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে দুটি ট্যোবাকো কোম্পানীকে আর্থিক জরিমানাও করেছে। এছাড়া ট্যোবাকো কোম্পানী গুলো তামাক বেল বাঁধার সময় দুই কেজি তামাক ওজন থেকে বাদ দিয়ে দিচ্ছে। একই অবস্থা চলছে লামা ও আলীকদম উপজেলায়। এর কারণে কয়েক হাজার তামাক চাষি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তামাক চাষী দেলোয়ার হোছাইন, ছাবের আহমদ জানান, ট্যোবাকো কোম্পানীগুলো তামাক ক্রয় কেন্দ্রে গ্রেডিং এবং ওজন কারচুপি করে প্রতিনিয়ত ঠকাচ্ছে। এবারের প্রতারণা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে এক কেজির স্থলে দুই কেজি করে তামাক বাদ দিচ্ছে প্রতি বেল-এ। ফলে দুই থেকে আড়াই মণ তামাক বেল-এ ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা করে গচ্ছা যাচ্ছে চাষিদের ।
জানা যায়, প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বর থেকে চাষিরা তামাক চাষাবাদ শুরু করে সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে ক্ষেতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে তামাক উৎপাদন করেন। এসব তামাক এপ্রিল ও মে মাসের মাঝামাঝি থেকে আগুনের তাপে শুকানো হয়। বেল বেঁধে কোম্পানির নির্ধারিত ক্রয় কেন্দ্রে বিক্রি করতে গিয়ে গ্রেডিং এবং ওজন কারচুপির শিকার হচ্ছে। চকরিয়ায় তামাক উৎপাদন এবং বিকিকিনিতে নিয়োজিত রয়েছে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি), ঢাকা টোব্যাকো, আবুল খায়ের টোব্যাকো, নাছির টোব্যাকো, আরবি টোব্যাকোসহ একাধিক কোম্পানী। তারমধ্যে চাষিদেরকে বেশি ঠকাচ্ছে ঢাকা টোব্যাকো এবং আবুল খায়ের টোব্যাকো। ঢাকা টোব্যাকে কোম্পানী তামাক ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৮টি গ্রেড নির্ধারণ করলেও ১নং গ্রেডে প্রতি কেজি তামাকের মূল্য দিচ্ছে ১৩৫ টাকা করে। এক্ষেত্রে একজন চাষি ১০টি তামাক বেল বিক্রয় কেন্দ্রে নিয়ে গেলে এক থেকে দুটি বেল ১নং গ্রেডে দেখালেও বাকী বেলগুলো নানা গ্রেডে দেখিয়ে চাষিদের ঠকাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ট্যোবাকো কোম্পানীর চকরিয়া এরিয়া ম্যানেজার কাউসার জানান, বিষয়টি নিয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। তবে তিনি বেল প্রতি চটের বস্তার ওজন বাবদ দুই কেজি তামাক বাদ দেয়ার কথা শিকার করেন। এছাড়াও একই কোম্পানী ১নং গ্রেডে ৫টি, ২নং গ্রেডে ৩টি, ৩নং গ্রেডে ২টি ও ৪নং গ্রেডে ২টি শাখা গ্রেড নির্ধারণ করে ব্যাপক প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। অপরদিকে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানীর বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ করেছে তামাক চাষীরা। বেল প্রতি দুই কেজি তামাক কম দেয়ার কথা স্বীকার করে এ কোম্পানীর চকরিয়া এরিয়া ম্যানেজার তৌফিক জানান, তামাক ক্রয়ের ক্ষেত্রে চকরিয়াস্থ সব তামাক কোম্পানী বেল প্রতি দুই কেজি তামাক বাদ দিয়ে দিচ্ছে। সিন্ডিকেট করে বাদ দেয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভালো জানবেন। এব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার জাকির হোসেন বলেন, তামাক উৎপাদন এবং বিকিকিনির ক্ষেত্রে চাষিরা বরাবরই ট্যোবাকো কোম্পানী গুলোর কাছে দায়বদ্ধ। কারণ তারা নানা প্রলোভনে ফেলে প্রতিবছর বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে চাষিদের তামাক চাষ করতে উৎসাহ সৃষ্টি করে। তবে এক্ষেত্রে আগ বাড়িয়ে প্রশাসনের কিছুই করার থাকেনা। এরপরও তামাক চাষি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধে চকরিয়ার তামাক ক্রয় কেন্দ্রে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।

0 Comments