ঢাকা, মে ১৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- হরতালে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় জামিনের আবেদন নাকচ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি
নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ৩৩ জন নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
হাই কোর্ট থেকে জামিন না পেয়ে জোট নেতারা বুধবার সকালে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিন চান। তাদের আবেদন শুনে মহানগর দ্রুত বিচার হাকিম মো. এরফান উল্লাহ জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এরপর জোট নেতাদের আইনজীবীরা মুখ্য মহানগর হাকিম বিকাশ কুমার সাহার কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়।
জামিন চাইতে বেলা ১১টার দিকে আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করেন ফখরুলসহ জোট নেতারা।
বেলা সোয়া ১টায় শুনানি শুরু হলে জোট নেতাদের জামিনের আবেদন তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ। ঢাকার জেলা জজ আদালতের পিপি খন্দকার আব্দুল মান্নান এবং মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি আবদুল্লাহ আবু এই আবেদনের বিরোধিতা করেন।
এক ঘণ্টারও বেশি সময় শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে দেন বিচারক। পুনর্বিবেচনার আবেদনও নাকচ হয়ে গেলে বিকাল ৩টার দিকে প্রিজন ভ্যানে তুলে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় মির্জা ফখরুলসহ জোট নেতাদের। বিকাল ৪টার পর তারা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছান বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান কারাধ্যক্ষ মাহাবুবুল আলম।
এদিকে জামিন নাকচের আদেশের পর পরই বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আদালতের দরজা ও এজলাসের আসন ভাংচুরের চেষ্টা চালান। এ সময় বিচারক এরফান উল্লাহর নামফলক ভেঙে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়।
জোট নেতাদের প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় বিএনপি সমর্থক ৩০-৪০ জন আইনজীবী ভ্যানের সামনে শুয়ে পড়েন। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এতে দুই সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হন।
শুনানির সময়েই মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সামনে জনসন রোড এবং রায় সাহেব বাজার এলাকায় যানবাহন বন্ধ করে দেওয়া হয়। সকাল থেকেই আদালত পাড়ায় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ।
এম ইলিয়াস আলীকে ‘গুমের’ প্রতিবাদে গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল হরতালের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়, বোমা বিস্ফোরণ ঘটে সচিবালয়ে। এই দুই ঘটনায় বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের আসামি করে শাহবাগ ও তেজগাঁও থানায় দুটি মামলা করে পুলিশ।
মামলা দায়েরের এক সপ্তাহের মাথায় তেজগাঁও থানা পুলিশ গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় ৪৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।
এর মধ্যে ফখরুলসহ ৩৪ জন আগাম জামিনের আবেদন করলে বিভক্ত আদেশ দেয় হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। এরপর বিষয়টি তৃতীয় বেঞ্চে গেলে গত ১৩ মে বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হকের একক বেঞ্চ ১৬ মের মধ্যে তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
এ মামলার আসামি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও কামরুজ্জমান রতনকে আগেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে আরেক যুগ্ম মহাসচিব মাহাবুবউদ্দিন খোকন জামিন পেয়েছেন।
যারা কারাগারে গেলেন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, খোন্দকার মোশারফ হোসেন, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমেদ, বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলীম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, ঢাকা মহানগর যুবদলের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম মজনু, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক ইয়াছিন আলী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নীরব।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আ. মতিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক কামাল আনোয়ার আহমেদ লিটু, বিএনপি নেতা ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার আবুল বাশার, বিএনপি নেতা ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানা বিএনপির নেতা লুৎফর রহমান, বিএনপির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নবী সোলায়মান, খিলগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি ইউনুছ মৃধাকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জামিনের জন্য ৩৪ জনের আবেদন জমা দেওয়া হলেও নাসির নামের একজনকে পুলিশ অন্য একটি মামলায় গেপ্তার করায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিবি/এএল/জেকে/১৬২০ ঘ.
নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ৩৩ জন নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
হাই কোর্ট থেকে জামিন না পেয়ে জোট নেতারা বুধবার সকালে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিন চান। তাদের আবেদন শুনে মহানগর দ্রুত বিচার হাকিম মো. এরফান উল্লাহ জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এরপর জোট নেতাদের আইনজীবীরা মুখ্য মহানগর হাকিম বিকাশ কুমার সাহার কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়।
জামিন চাইতে বেলা ১১টার দিকে আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করেন ফখরুলসহ জোট নেতারা।
বেলা সোয়া ১টায় শুনানি শুরু হলে জোট নেতাদের জামিনের আবেদন তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ। ঢাকার জেলা জজ আদালতের পিপি খন্দকার আব্দুল মান্নান এবং মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি আবদুল্লাহ আবু এই আবেদনের বিরোধিতা করেন।
এক ঘণ্টারও বেশি সময় শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে দেন বিচারক। পুনর্বিবেচনার আবেদনও নাকচ হয়ে গেলে বিকাল ৩টার দিকে প্রিজন ভ্যানে তুলে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় মির্জা ফখরুলসহ জোট নেতাদের। বিকাল ৪টার পর তারা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছান বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান কারাধ্যক্ষ মাহাবুবুল আলম।
এদিকে জামিন নাকচের আদেশের পর পরই বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আদালতের দরজা ও এজলাসের আসন ভাংচুরের চেষ্টা চালান। এ সময় বিচারক এরফান উল্লাহর নামফলক ভেঙে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়।
জোট নেতাদের প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় বিএনপি সমর্থক ৩০-৪০ জন আইনজীবী ভ্যানের সামনে শুয়ে পড়েন। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এতে দুই সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হন।
শুনানির সময়েই মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সামনে জনসন রোড এবং রায় সাহেব বাজার এলাকায় যানবাহন বন্ধ করে দেওয়া হয়। সকাল থেকেই আদালত পাড়ায় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ।
এম ইলিয়াস আলীকে ‘গুমের’ প্রতিবাদে গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল হরতালের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়, বোমা বিস্ফোরণ ঘটে সচিবালয়ে। এই দুই ঘটনায় বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের আসামি করে শাহবাগ ও তেজগাঁও থানায় দুটি মামলা করে পুলিশ।
মামলা দায়েরের এক সপ্তাহের মাথায় তেজগাঁও থানা পুলিশ গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় ৪৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।
এর মধ্যে ফখরুলসহ ৩৪ জন আগাম জামিনের আবেদন করলে বিভক্ত আদেশ দেয় হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। এরপর বিষয়টি তৃতীয় বেঞ্চে গেলে গত ১৩ মে বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হকের একক বেঞ্চ ১৬ মের মধ্যে তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
এ মামলার আসামি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও কামরুজ্জমান রতনকে আগেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে আরেক যুগ্ম মহাসচিব মাহাবুবউদ্দিন খোকন জামিন পেয়েছেন।
যারা কারাগারে গেলেন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, খোন্দকার মোশারফ হোসেন, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমেদ, বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলীম, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, ঢাকা মহানগর যুবদলের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম মজনু, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক ইয়াছিন আলী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নীরব।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আ. মতিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক কামাল আনোয়ার আহমেদ লিটু, বিএনপি নেতা ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার আবুল বাশার, বিএনপি নেতা ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানা বিএনপির নেতা লুৎফর রহমান, বিএনপির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নবী সোলায়মান, খিলগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি ইউনুছ মৃধাকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জামিনের জন্য ৩৪ জনের আবেদন জমা দেওয়া হলেও নাসির নামের একজনকে পুলিশ অন্য একটি মামলায় গেপ্তার করায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/পিবি/এএল/জেকে/১৬২০ ঘ.


0 Comments