Advertisement

মিসকল নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন


এনসিএন ডেস্ক
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর মোবাইল ফোন থেকে আসা ‘মিসকল’ নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন শুরু হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাও নড়েচড়ে বসেছে। তবে শেষ পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনী মিসকলের কথা অস্বীকার করেছে; কিন্তু প্রশ্ন উঠেছেÑ মোবাইলে মিসকল সারিতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো নাম্বার সাজানো যায় না। তবে পুলিশ বলছেÑ যুবদলের যে নেতা মিসকল পাওয়ার কথা বলছেন, তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পুলিশ তাকে খুঁজছে।
গত ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী থেকে নিখোঁজ হন এম ইলিয়াস আলী। বনানীতে তার বাড়ির কাছে মহাখালীর একটি গলিতে গভীর রাতে তার গাড়ি পাওয়া যায়। তবে পাওয়া যায়নি ইলিয়াস এবং তার গাড়িচালক আনসার আলীকে। গাড়িতে পাওয়া আনসারের ফোন থেকে গাড়িটি ইলিয়াসের বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়। ইলিয়াসের সন্ধানে ঢাকা, গাজীপুরের পুবাইল, চাঁদপুরসহ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালায়; কিন্তু কোনো ফল হয়নি। বিএনপি শুরু থেকে বলে আসছেÑ ইলিয়াসকে সরকার ‘গুম’ করেছে। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরাসরি বলেছেন, র‌্যাবের লোকরা ইলিয়াসকে ধরে নিয়ে গেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলা হচ্ছেÑ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত সপ্তাহে বলেছেন, ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারের জন্য ১২০০ অভিযান চালানো হয়েছে। যতদিন তাকে উদ্ধার না করা হবে ততদিন অভিযান চলবে। এদিকে স্বামীর সন্ধানে গত ২ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। প্রধানমন্ত্রীও ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করার আশ্বাস দেন। গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, এক সপ্তাহ হয়ে গেলো প্রধানমন্ত্রীর সেই আশ্বাস নিয়ে আছি; কিন্তু কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। এখন আশাহত হয়ে যাচ্ছি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণেই আমার স্বামী নিখোঁজ হয়েছেন। আমার স্বামীকে যারাই নিয়ে যাক, সরকারের তা জানা থাকতে হবে। ইলিয়াসের অন্তর্ধান নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি কূটনীতিকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর মোবাইল নম্বর থেকে ফোন পাওয়ার দাবি করেছেন তার এলাকার যুবদল নেতা আবদুল লতিফ। এরপর ওই এলাকার এক ছাত্রদল নেতাও দাবি করেন, তিনি বৃহস্পতিবার ইলিয়াসের নম্বরে ফোন করে তা খোলা পেয়েছিলেন। তবে যুবদল ও ছাত্রদলের দুই নেতার বক্তব্য ভিত্তিহীন দাবি করে র‌্যাব বলেছেÑ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর ফোনটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে বন্ধই রয়েছে এবং তা খোলেনি।
বিশ্বনাথ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল লতিফ বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ৪৮ মিনিটে ইলিয়াসের নম্বর থেকে তার ফোনে কল আসে। ওই সময় অন্য একটি নম্বরে কথা বলায় তিনি ইলিয়াসের কলটি ধরতে পারেননি। পরে ‘মিসকল’ দেখে কল করে নম্বরটি বন্ধ পান।
উল্লেখ্য, ইলিয়াস নিখোঁজ হওয়ার সময় থেকে তার নম্বরটি (০১৭৩২২৯৩৭৪৪) বন্ধ রয়েছে। এই নম্বর থেকেই কল এসেছে বলে লতিফ দাবি করেন। ইলিয়াস অনুসারী বলে পরিচিত লতিফের কাছ থেকে খবর পেয়ে অনেকে ওই নম্বরে ফোন করেন। বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুদ্দিন বলেন, তিনি ৫টা ২৫ মিনিটে কল করে ইলিয়াসের মোবাইল নম্বরটি খোলা পান। তবে কয়েকবার রিং হওয়ার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ইলিয়াসের এই মোবাইল নম্বরটিই স্থানীয় নেতা ও সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে। এই নম্বরেই তার সঙ্গে তারা যোগাযোগ করতেন।
এদিকে ইলিয়াস নিখোঁজের পর বিএনপির ডাকা হরতালে বিশ্বনাথে ব্যাপক সংঘাত ঘটে। এতে পুলিশের করা মামলায় লতিফ ও শামসুদ্দিনও আসামি। দুজনের একজনও বিশ্বনাথে অবস্থান করছেন না। লতিফ ও শামসুদ্দিনের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স) জিয়াউল আহসান বলেন, পুরো খবরটি ভিত্তিহীন। ঘটনাটি জানার পর আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করি; কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, ইলিয়াস আলীর উল্লেখিত মোবাইল নম্বর থেকে ঘটনার রাত ১২টা ২ মিনিটের পর আর কোনো ফোন আসেওনি, যায়ওনি। অর্থাৎ মোবাইলটি বন্ধ। র‌্যাব কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, সর্বশেষ গত ১৭ এপ্রিল ঢাকার ইস্কাটন-বাংলামটর এলাকায় ইলিয়াসের মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছেন তারা। লতিফ ও শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলার তথ্য তুলে ধরে র‌্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল বলেন, এরা দুজনই মামলার পলাতক আসামি। ফোন পাওয়ার ঘটনার পেছনে তাদের অন্য উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

Post a Comment

0 Comments