Advertisement

নিম্নমানের সেবা দিয়ে চকরিয়ায় এশিয়ান হসপিটালের বিরুদ্ধে গলাকাটা বানিজ্যের অভিযোগ


চকরিয়া প্রতিনিধি
চকরিয়া পৌরসভার চিরিঙ্গা থানা রাস্তা মাথায় অবস্থিত এশিয়ান হস্পিটাল প্রাঃ লিঃ এ চিকিৎসা সেবার নামে নিম্নমানের সেবা দিয়ে রোগিদের কাছ থেকে প্রতারনার মাধ্যমে
মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ হাসপাতালের সামনে দর্শনীয় স্থানে বাহারী নামের বড় বড় সাইন বোর্ডে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানের নামকরা চিকিৎসকদের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভুঁয়া ডাক্তারদের মাধ্যমে চিকিৎসার সেবার নামে গলাকাটা বানিজ্য চালিয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই বললেও চলে।
স্থানীয় লোকজন ও আগত রোগীরা অভিযোগ করে বলেন, ওই হাসপাতালটি রোগিদের সেবার নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করা হলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এশিয়ান হসপিটালটি প্রতিষ্টার পর থেকেই শেয়ার হোল্ডাররা দু-ভাগে বিভক্ত হয়ে প্রকাশ্যে একপক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে সংঘাত সৃষ্টিতে জড়িয়ে পড়ায় সম্ভাবনাময়ী এ প্রতিষ্টানটিকে একটি কুচক্রি মহল ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে। এ হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির মধ্যে দুটি গ্র“পের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ দ্বন্ধ  চলে আসার কারণে ভাল কোন ডাক্তার হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিতে আসছেনা। ডাক্তার না আসলেও হাসপাতাল কতৃপক্ষ ডাক্তারদের নাম ব্যবহার করে  বাহারী রঙ্গের সাইন বোর্ড ঝুলে থাকা দেখে চকরিয়াসহ পাশ্ববর্তী ৯/১০টি উপজেলার লোকজন  চিকিৎসা সেবা নিতে ছুটে আসছে এ হাসপাতালে । ডাক্তার না থাকার সুযোগে কিছু ভুয়া ডাক্তার ও টেকনেশিয়ান দিয়ে নাম মাত্র চিকিৎসা দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে একাধিন সুত্রে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া রোগিদের বিশ্বাস জমাতে শরীরের বিভিন্ন ধরনের  পরীক্ষা দিয়েও রোগীদের কাছ থেকে অজস্র টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনভিজ্ঞ  ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার কারনে হাসপাতালে আগত রোগীরাদের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে ধাবিত হচ্ছে। গতকাল দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এশিয়ান হাসপাতালে কোন ডাক্তারের দেখা মেলেনি। তবে রয়েল চাকমা নামের একজন এল এম এফ ডাক্তার আগত রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে তিনশত টাকা করে ভিজিট নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এ হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তার শূন্যতার কারণে ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া রোগীদেরকে নার্সদের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। হাসপাতালে রোগি আসলে নার্স দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে বিদায় করা হচ্ছে রোগিদেরকে। জানা গেছে, গত কয়েকমাস আগে এ হাসপাতালে ভূয়া ডাক্তার আছে জেনে চট্টগ্রাম র‌্যাব-৭ এর একটি টিম অভিযান চালালে ওই হাসপাতাল থেকে ডাঃ সোলেমান নামের একজন ভূঁয়া ডাক্তার পালিয়ে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছে। ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে রোগীকে ভূল চিকিৎসা করার অভিযোগে চকরিয়া থানায় একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। হাসপাতালের দায়িত্বরত এক কর্মচারী জানান, অদক্ষ ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করতে গিয়ে ইতিমধ্যে কয়েকজন রোগী মারাও গেছে। এ প্রতিবেদক গতকাল শনিবার হাসপাতাল এলাকা ঘুরে দেখার প্রাক্কালে দেখা গেছে কয়েকজন রোগী চিকিৎসার অভাবে কাতরাচ্ছে এবং  এ সময়ে কোন ডাক্তারও দেখা যায়নি। দুপুর ১টার দিকে ফাসিয়াখালী এলাকার আবদুল করিম নামের একজন রোগী হাসপাতালে এসে ডাক্তার না পেয়ে পাশ্ববর্তী সরকারী হাসপাতালে চলে যেতে দেখা গেছে। এ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় রোগীর আতœীয় স্বজনরা হাসপাতালের কর্মকর্তাদের উপর চড়াও হয়ে তাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে রোগীরা হাসপাতাল ত্যাগ করতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবু তাহের সিকদারের (০১১৯৯ ৭০২৩৪১) নাম্বারের মোঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সাংবাদিকের কাজ পত্রিকায় লেখা। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে পরের দিন একই পত্রিকায়  একটি প্রতিবাদ দিলেই হয়ে গেল। এ হাসপাতালের একজন মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মোশাররফ হোসেনের সাথে মোঠোফোনে যোগাযোগ করে হাসপাতালে উপস্থিত আছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, গত তিনদিন যাবত তিনি ছুটিতে আছেন। হাসপাতালে উপস্থিত হতে আরোও কয়দিন সময় লাগবে। তবে তিনি কখন আসবেন তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদক এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এশিয়ান হাসপাতালে কোন ডাক্তার উপস্থিত ছিলনা। তবে একজন হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন, সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরণের হাসপাতাল গুলোতে তদারকী না থাকায় রোগীরা এ সব হাসপাতাল গুলোর কাছে একপ্রকার জিম্মী হয়ে পড়ছে । নিম্নমানের চিকিৎসা সেবা দিয়ে গলাকাটা বানিজ্যের মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও আগত রোগীরা কোন প্রকারের সূফল পাচ্ছে না। চকরিয়র সচেতন এলাকাবাসী এসব গলাকাটা বানিজ্যকারী হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।

Post a Comment

0 Comments