Advertisement

উখিয়া যুবদল নেতাকে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ওসি,এসআই ইউপি চেয়ারম্যান সহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা


এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন,কক্সবাজার॥ 
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় যুবদলের এক নেতাকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণ করে মারাত্বক আহত করার ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার দায়ে থানার অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা ও থানার উপ-পরির্দশক মকবুল এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহাংগীর কবির চৌধুরী সহ ৩৭ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গুরুতর আহত যুবদল নেতা ছৈয়দ হামজার স্ত্রী লাইলা বেগম বাদি হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৫ এপ্রিল এ মামলাটি দায়ের করেন। উক্ত মামলায় প্রধান আসামী করা হয় শাহজাহান প্রকাশ শাহজাহান ডাকাতকে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য কক্সবাজার সিআইডি বিভাগকে দায়িত্ব দিয়েছেন। 
১৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে উখিয়া কুতুপালং স্টেশন এলাকা থেকে শতশত লোকজনের সামনে উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়নের দোছড়ি গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র,রাজাপালং ইউনিয়ন যুবদল নেতা ছৈয়দ হামজাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীরা তাকে মধুর ছড়া গহীণ অরণ্যে নিয়ে গিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক ভাবে আহত করে তার মৃত্যু হয়েছে মনে করে সন্ত্রাসীরা তার পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকা,মোবাইল সেট নিয়ে পালিয়ে যায়। 
সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর উখিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মারাত্মক আহত  অবস্থায় ছৈয়দ হামজাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি না করেই থানায় নিয়ে আসে। এর পর তাকে উখিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে গভীর রাতে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় শাহজাহান ডাকাত, নুরুল ইসলাম ,ভুলু ও শামশু সহ ৩০/৩৫ জনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল ছৈয়দ হামজাকে অপহরণ করে পার্শ্ববর্তী মধু ছড়া পাহাড়ে  নিয়ে য়ায়। সেখানে তার উপর চালানো হয় বর্বর পাশবিক নিয়াতন। ওই দিন রাতে আহত যুবদল নেতাকে থানায় নিয়ে আসার পর শতশত নারী পুরুষ থানা ঘেরাও করেছিল।  এরপর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাহী রফিক উদ্দিন,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তৌহিদুল আলমের নেতৃত্বে শতশত নারী পুরুষ এ ঘটনার   প্রতিবাদে উখিয়া স্টেশনে প্রতিবাদ সমাবেশও করে। 
১৫ এপ্রিল দায়েরকৃত মামলার এজাহারে আহত ছৈয়দ হামজার স্ত্রী উল্লেখ করেন,গত ইউপি নির্বাাচনে রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহাংগীর কুবির চৌধুরী তার উপর চরম ভাবে ক্ষুদ্ধ ছিলেন। এরই জের ধরে ওই চেয়ারম্যানের লালিত সন্ত্রাসীরা তারই নির্দেশে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার দিন উখিয়া থানা পুলিশের তৎপরতা ছিল অত্যন্ত রহস্য জনক। উখিয়া থানা পুলিশ ঘটনার পূর্বপর জানা সত্ত্বেও আসামী গ্রেফতার বা অপহৃত ছৈয়দ হামজাকে উদ্ধারে কোন ইতিবাচক ভুমিকা রাখেনি। 
মামলা এজাহারে বাদিিন উল্লেখ করেন,তাই প্রতিয়মান হয় যে, উক্ত ঘটনার সাথে থানার ওসি, এসআইও সম্পৃক্ত ছিলেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য কক্সবাজার সিআইডি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। 

Post a Comment

0 Comments