Advertisement

বুদ্ধমূর্তি স্নানের মাধ্যমে বান্দরবানে বর্ষবরণ উৎসব শুরু


বদরুল ইসলাম মাসুদ, বান্দরবান:
মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বুদ্ধমূর্তি নদীর জলে চন্দন দিয়ে স্নানের মাধ্যমে শুক্রবার থেকে বান্দরবানে শুর হয়েছে বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানমালা। ৫দিনব্যাপী আয়োজিত এই বর্ণিল উৎসবে মাতোয়ারা এখন বান্দরবানবাসী। বাংলা নববর্ষ আর আদিবাসীদের সাংগ্রাই উৎসবের আমেজ জেলার প্রতিটি জনপদে। শনিবার সকালে বান্দরবানে সরকারিভাবে বাংলা নববর্ষের মূল অনুষ্ঠান এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠি মারমাদের সাংগ্রাই উৎসবের মৈত্রী পানি বর্ষণসহ নানা উৎসবমালা শুরু হবে। 
শুক্রবার বিকেল চারটায় জেলা শহরের পুরাতন রাজবাড়ি প্রাঙ্গন থেকে আদিবাসী মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন (বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী) বুদ্ধমূর্তি নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু করে। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উজানীপাড়ায় স্থানীয় সাঙ্গু নদীর তীরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান স্থানীয় সাংসদ বীর বাহাদুর উশৈসিং, বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু উচহ্লা ভান্তেসহ মারমা সম্প্রদায়ের বিশিষ্টজনেরাসহ বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ অংশ নেয়। উজানীপাড়ায় সাঙ্গু নদীর তীরে গিয়ে সেখানে নদীর পানি ও চন্দন দিয়ে বুদ্ধমূর্তিকে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্নান করার পর সেই পবিত্র পানি বিভিন্ন পাত্রে করে পূণ্যের আশায় ঘরে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী মৈত্রী পানি বর্ষণ উৎসব। পরস্পর পরস্পরকে পানি ছিটিয়ে ভিজিয়ে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করে। তারা মনে করে এর মাধ্যমে বিগত বছরের সকল গ্লানি, দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে নতুন করে জীবন শুরু হবে। এই উৎসবে আদিবাসীদের পাশাপাশি বাঙালি জনগোষ্ঠির লোকজনও অংশ নেয়। এছাড়া বিপুল সংখ্যক পর্যটকও অংশ নেয়। এক উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় বান্দরবান।
এদিকে সরকারিভাবে শনিবার বাংলা বর্ষবরণ উৎসব শুরু হবে। সকালে শহরের রাজার মাঠ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে। এছাড়া রাজার মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঘুড়ি উড়ানো উৎসব, পান্তাভোজন আয়োজন করা হবে। বিকেলে রাজার মাঠে আয়োজন করা হয় বলি খেলা। এ উপলক্ষে রাজার মাঠে বসে লোকজ মেলা।
তবে বান্দরবানে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব উৎসাহ-উদ্দীপনার মাধ্যমে আদিবাসী মারমা জনগোষ্ঠি উদযাপন করে। এছাড়া তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, ম্রো, চাকমা, চাকসহ বিভিন্ন আদিবাসীরাও নানা কর্মসূচি পালন করে। এ উপলক্ষে মারমারা সাংগ্রাই উদযাপন কমিটির মাধ্যমে ৫দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, মৈত্রী পানি খেলা বা ওয়াটার ফেস্টিবল, বুদ্ধমূর্তিকে নদীতে স্নান, হ্যান্ডবল, ভলিবল, বলি খেলা, তৈলাক্ত বাঁশে আরোহণ, দাঁড়িয়াবান্ধা, চোখ বেঁধে হাঁড়ি ভাঙ্গাসহ নানা প্রতিযোগিতা, পিঠা তৈরি উৎসব, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, যেমন খুশী তেমন সাজ, ঘিলা খেলাসহ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। শুক্রবার বিকেলে বুদ্ধ মূর্তি স্নানের মাধ্যমে শুরু হওয়া সাংগ্রাই উৎসবের মূল আয়োজন হয়ে উঠে মৈত্রী পানি খেলা বা জলকেলি (ওয়াটার ফেস্টিবল) উৎসব। শহরের পুরাতন রাজা বাড়ি মাঠে এই উৎসব আয়োজন করা হয়। মাঠের একপাশে চলে অবিবাহিত ছেলে-মেয়েদের পানি খেলা, অপর প্রান্তে চলে তৈলাক্ত বাঁশে আরোহন, চোখ বেঁধে হাঁড়ি ভাঙ্গাসহ নানা খেলাধুলা। পানি খেলা চলে তিনদিনব্যাপী।
এদিকে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও শহরের পয়েন্টে পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারী।

ক্যাপশান- বান্দরবানে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বুদ্ধমূর্তি নিয়ে মারমাদের মঙ্গলশোভা যাত্রা এবং সাঙ্গু নদীর তীরে ধর্মীয় গুরুর সামনে দীক্ষা নিচ্ছেন বীর বাহাদুর এমপি। ছবিটি শুক্রবার বিকেলে শহরের উজানীপাড়া এলাকা থেকে তোলা।

Post a Comment

0 Comments