Advertisement

লামায় রিচ বিজনেস সিস্টেম লি: এমএলএম কোম্পানীর অফিসে সীলগালা


২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ : পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ না করতে পিআইও’র অনুরোধ
মো. নুরুল করিম আরমান, লামা 
রিচ বিজনেস সিস্টেম লি: নামক একটি এমএলএম কোম্পানীর বান্দরবানের লামা এরিয়া কার্যালয়ে সীলগালা করে দিয়েছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এর নেতৃত্বে পুলিশ গত মঙ্গলবার কার্যালয়ে সিলগালা করে দেয়। এ সময় কিছু কাগজপত্রও জব্দ করা হয় বলে জানা গেছে। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দু বছর পূর্বে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদস্থ জিনাত টাওয়ার এর ঠিকানায় রিচ বিজনেস সিস্টেম লি: প্রতিষ্ঠানটি লামায় আমানত ও শেয়ার সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করে। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে গত দু’বছরে তারা উপজেলার ২৫০০
গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা আমানত ও শেয়ার সংগ্রহ করেন। গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও নির্বাহী কর্মকর্তা কোম্পানীর লামা কার্যালয়ের দায়িত্বরত মো. কামাল উদ্দিন ও মো. ছালেহ আহমদ ভূঁইয়াকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহকারে হাজির হওয়ার জন্য বললে; তারা উপযুক্ত কোন কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি। 
বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, রিচ বিজনেস সিস্টেম লি: প্রতিষ্টানটি এমএলএম ব্যবসার নাম করে উপজেলার প্রায় আড়াই হাজার গ্রাহক থেকে ২ কোটি টাকা আমানত ও শেয়ার সংগ্রহ করেছে। কোম্পানীর স্থানীয় প্রতিনিধি আমানত সংগ্রহের স্বপক্ষে আইনানুগ কোন কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেনি। তাই কার্যালয়ে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোম্পানীর দাযিত্বরত লামা শাখা ইনচার্জ মো. কামাল উদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেস্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।    
লামা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কোম্পানীর আমানত ও শেয়ার সংগ্রহের কোন আইনানুগ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। গ্রাহকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং বিভিন্ন অভিযোগের কারণে লামা অফিস সিলগালা করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বুধবার বিকালে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মহিদুল হোসেন ফারুক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সিলগালার বিষয়ে সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশ না করতে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন। উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে টার্গেট’২০১০ লি: ও ইউনিপে টু ইউ নামক হায় হায় কোম্পানী কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে। এতে উপজেলার কয়েক হাজার দরিদ্র মানুষ প্রতারণার স্বীকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

Post a Comment

0 Comments