১৭ এপ্রিল দুপুর ২ টা। নানা রং-এ নিজেদের রাঙ্গিয়ে কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধ মন্দির সড়কে তপ্ত রৌদ্রে দাঁড়িয়ে আছে রাখাইন সম্প্রদায়ের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সকল বয়সের নর-নারী। সবারই একটি মাত্র লক্ষ্য সাংগ্রাই পোয়ে অর্থ্যাৎ জলকেলী উৎসবের মাধ্যমে একে অপরের গায়ে পানি ছিটানোর মধ্যে দিয়ে পুরনো দিনের সকল গ্লানি-দুঃখ-বেদনা
ধুয়ে মুখে নতুন বছরে পর্দাপন করা। আর সুখী-স্বাচ্ছন্দময় রাখাইন বর্ষ ১৩৭৪ কে স্বাদরে বরণ করে নেয়া। ১৭ এপ্রিল দুপুরে কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধ মন্দির সড়কে রাখাইন ডেভলাপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরডিএফ) আয়োজনে সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবের উদ্বোধন করতে তাই ফুটে উঠলো সবার কণ্ঠে। এদিকে সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবকে সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ধুয়ে মুখে নতুন বছরে পর্দাপন করা। আর সুখী-স্বাচ্ছন্দময় রাখাইন বর্ষ ১৩৭৪ কে স্বাদরে বরণ করে নেয়া। ১৭ এপ্রিল দুপুরে কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধ মন্দির সড়কে রাখাইন ডেভলাপমেন্ট ফাউন্ডেশন (আরডিএফ) আয়োজনে সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবের উদ্বোধন করতে তাই ফুটে উঠলো সবার কণ্ঠে। এদিকে সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবকে সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ৩ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি রাখাইন সম্প্রদায়ের জলকেলী উৎসবকে সামনে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে রাখাইন পল্লীগুলোকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। চলছে জমকালো অনুষ্ঠানমালা। রাখাইনদের সর্ববৃহৎ এ সামাজিক উৎসব দেখতে কক্সবাজারে পর্দাপন করেছে দেশী-বিদেশী হাজারো পর্যটক। শুধু পর্যটক নয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বারতাকে সামনে রেখে রাখাইন সম্প্রদায়ের উৎসবে যোগ দিচ্ছে হিন্দু-মুসলিম-খ্রীষ্টান সকল সম্প্রদায়ে লোকজন।
১৭ এপ্রিল মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত। এ দিন রাখাইন সম্প্রদায়ের নর-নারীরা মেতে থাকবে আনন্দ উৎসবে। মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারে ৩ দিনব্যাপি সাংগ্রাই পোয়ে বা জলকেলী উৎসবের উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, কক্সবাজার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি তীর্থ ক্ষেত্র। এখানকার মানুষের মাঝে সম্প্রীতির বারতা বিরাজ করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ অধ্যাপিকা এথিন রাখাইন বলেন, সাংগ্রাই পোয়ে বা পানি খেলার মধ্যে দিয়ে আমরা পুরনো দিনের সকল ব্যাথা বেদনা ভুলে গিয়ে সুখী-সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে নতুনত্বকে বরণ করে এগিয়ে যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম কুমার পাল, কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক লীলা মুরু. কক্সবাজার সিটি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ক্যথিংঅং, কক্সবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল হাসান পিপিএম, আরডিএফের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্যরা।
উদ্বোধনের পর পরই শুরু হয়ে যায় রাখাইন সম্প্রদায়ের নর-নারীদের বাঁধ ভাঙ্গা আনন্দের জোয়ার। শহরের বিভিন্ন রাখাইন পল্লী ঘুরে দেখা গেছে রাখাইন সম্প্রদায়ের নর-নারীরা মেতে উঠেছে জলকেলী উৎসবে। তারা একে অপরের গায়ে পানি ছিটানোর মধ্যে দিয়ে পুরনো দিনের সকল ব্যাথা, বেদনা, হিংসা বিদ্বেষ ভুলে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। রাখাইন তরুন-তরুনীরা নতুন ও আকর্ষণীয় পোষাক পরিধান করে সেজেগুজে রাস্তার মোড়ে মোড়ে এবং রাখাইন পল্ল¬ীতে তৈরি করা জলকেলী উৎসবের প্যান্ডেলে গিয়ে একে অপরকে পানি নিক্ষেপ করে আনন্দ প্রকাশ করছে। পাশাপাশি চলছে নানা রকমের নাচ-গানের আসর। ঢাক-ঢোল আর কাঁসার তালে তালে নেচে আনন্দ প্রকাশ করছে সবাই।


0 Comments